২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে অপ্রতিরোধ্য ইয়াবা পাচার

  • বড় চালানের জন্য পছন্দ জলপথ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ বিভিন্ন সংস্থার অভিযানের মধ্যেও ইয়াবা পাচার থেমে নেই। পাচারকারীরা যেন অপ্রতিরোধ্য। স্থলপথে বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বেশি থাকায় জলপথই এখন তাদের পছন্দ। এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে মাছধরার ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা। গত বুধবার সকালে ও রাতে ধরা পড়ে দুটি ইয়াবার চালান। এদিকে, ইয়াবার উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা থাকলেও এত ইয়াবা যায় কোথায় তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

বাংলাদেশে ইয়াবা ট্যাবলেট আসে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরে আসার পর ইয়াবার চালানগুলো টেকনাফ থেকে সুযোগ বুঝে কখনও স্থলপথে আবার কখনও বা জলপথে পরিবাহিত হয়। দক্ষিণ দিক থেকে বন্দর নগরীর প্রবেশদ্বার কর্ণফুলী সেতু এলাকায় রয়েছে পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্ট। সেখানে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন থামিয়ে নিয়মিত তল্লাশি চলে। এতে ধরা পড়ে ছোট ও মাঝারি ধরনের ইয়াবার চালান। সড়কের ওই স্থানটিতে কড়াকড়ি থাকায় ইয়াবা পাচারকারীরা এখন জলপথকে বেছে নিয়েছে।

কোস্টগার্ড ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ থেকে আসা ইয়াবা ট্যাবলেট যতদূর সম্ভব স্থলপথে পরিবহন করা হয়। এরপর কোন একটি পর্যায়ে এসে এগুলোকে মাছধরার নৌকা ও ট্রলারে তোলা হয়। গন্তব্য চট্টগ্রাম নগরী। বন্দর বহির্নোঙ্গর এলাকায় এরই মধ্যে মাছধরার নৌকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট। ভাসমান নৌকাগুলো তীরে ভেড়ার সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। কখনও বা এক নৌকা থেকে অন্য নৌকায় আবার কখনও দূর হতে আসা বহনকারী নৌকাটিই তীরে ভিড়ে ইয়াবাগুলো খালাস করে। তারপর নানা হাত ঘুরে এগুলো চলে যায় চট্টগ্রাম নগরী ছাড়াও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে।

ইয়াবার চালান অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়ায় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরেরও রীতিমতো হিমশিম অবস্থা। এত ইয়াবা আসে কিভাবে আর যায়ই বা কোথায় এটিও একটি প্রশ্ন। আইনৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ধরাও পড়ছে অনেক চালান। কিন্তু তারপরও কিছুতেই যেন থামছে না এই মাদকদ্রব্যের প্রবাহ।

চট্টগ্রাম বন্দর বহির্নোঙ্গর এলাকায় গত বুধবার সকালে ধরা পড়ে ৬ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট। মাছ ধরার ট্রলার থেকে এগুলো আটক করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা। কিন্তু দিনের অভিযান এতেই শেষ নয়। রাত একটার দিকে ফের আরেকটি মাছধরার নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ৩৫ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সড়কে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে যেখানে পাওয়া যায় শ’ কিংবা হাজার পিস সেখানে জলযান থেকে উদ্ধার হচ্ছে লাখ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। ফলে এটি অত্যন্ত পরিষ্কার যে, বড় চালানের জন্য জলপথই পছন্দ পাচারকারীদের।