২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চবির সবুজ ক্যাম্পাস মাদকে ক্ষতবিক্ষত

রহমান শোয়েব, চবি থেকে জানান, ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত দশটা। চবির রেলস্টেশন। স্টেশনের প্লাটফর্মের একেবারে পূর্বপ্রান্তে পাঁচ ছয় জনের একটি জটলা। মোবাইলের টর্চ লাইটের হালকা আলোয় গোল হয়ে বসে সবাই। সবার হাতেই রয়েছে সিগারেট। সঙ্গে তাস। দু’ একজন রয়েছেন শুয়ে। কিছুটা কাছে যেতেই নাকে ভেসে এল উটকো গন্ধ। কাছেই এক ব্যক্তিকে পেয়ে ৫-৬ জনের জটলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওখানে গাঁজার আসর বসেছে।

এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ঘেরা সবুজ ক্যাম্পাস মাদকের ছোবলে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে প্রতিদিন। সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫টি স্থানে প্রতিদিন এভাবেই সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বসে মাদকের জমজমাট আসর। গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদক সেবন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশন, আইন অনুষদ ক্যান্টিন, এফ রহমান হলের বিপরীতে ট্যাঙ্কির পাহাড়, টেনিস কোর্ট, স্লুইস গেট, চবি কলেজের পেছনের অংশ, সোহ্রাওয়ার্দী হলের পেছনের লাল পাহাড়, জাদুঘরের সামনে, ফরেস্ট্রি হ্যালিপ্যাড, ফরেস্ট্রি গ্যারেজের পেছনে, কলা অনুষদ ঝুঁপড়ির পাশের পুকুর, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পশ্চিমে, শহীদ মিনার চত্বর, মুক্তমঞ্চ, প্যাগোডা, চাকসুর পেছনে, উস-প্রাইমারি স্কুল, হিল সাইড স্কুলের গলির ভেতর, শাহজালাল ও শাহ আমানত হলের সামনের বেশ কয়েকটি কটেজ, ল্যাডিস হলের ঝুঁপড়ির পেছনের অংশসহ প্রায় পঁচিশটি স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে মাদক সেবীদের আস্তানা। এসব স্থানে মাদকসেবীদের বিচরণ থাকে গভীর রাত পর্যন্ত। চলে মদ, গাঁজা, হেরোইন, ফেন্সিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রাকার মাদদ্রব্যের অবাধ সেবন।

এসব মাদকসেবীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বহিরাগতরাও রয়েছে।