২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নতুন অধ্যায় শুরু শূটার বাকীর

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে যে খেলাটি দিয়ে একসময় সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে, তা শূটিং দিয়ে। নব্বই দশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই ছিল শীর্ষে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই সোনালি সুদিন এখন আর নেই। শূটিং ফেডারেশনের কিছু কর্মকর্তার দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অদক্ষতা ও অপরিকল্পনায় ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয় খেলাটির। বর্তমানে সেই দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে ফেডারেশন। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আগের সেই ক্রান্তিকাল কাটিয়ে উঠতে। মাঝে মধ্যেই আশা জাগানিয়া সংবাদ আসে শূটারদের কিছু সাফল্যে। এই ‘মাঝে মধ্যেই’ শব্দটি ব্যবহারের কারণ একটিইÑ অর্থ। উন্নতমানের শূটিং সরঞ্জাম কেনা, বিদেশী প্রশিক্ষকের ব্যবস্থা করা, দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ, দেশব্যাপী সারা বছর শূটিং টুর্নামেন্টের আয়োজন করা ... বর্তমান কমিটি এগুলো করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৬ রিও অলিম্পিক গেমসে যেন শূটিং থেকে একটি পদকপ্রাপ্তি হয়, সে লক্ষ্যেও শূটারদের নিবিড় প্রশিক্ষণ চলছে অনেকদিন ধরেই।

যেসব শূটার নিকট অতীতে আশাতীত সাফল্য লাভ করতে সক্ষম হয়েছে বা সম্ভাবনাময় নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছে, তাদের দিকে আলাদাভাবে নজর দিয়েছে ফেডারেশন। এদেরই একজন বাকী। পুরোনাম আবদুল্লাহ-হেল-বাকী। বাংলাদেশের শূটিংয়ে পরিচিত এক নাম। গত কমনওয়েলথ গেমসে রৌপ্যপদক জেতেন তিনি। তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে ফেডারেশন। ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ (অপু) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের কমিটি এই প্রথম একজন শূটারকে স্পন্সর করছে। শূটার বাকীকে আমরা এক বছরের জন্য (জুলাই ২০১৫ থেকে জুন ২০১৬ পর্যন্ত) বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করছি। প্রতি মাসে বাকী ফেডারেশন থেকে পাবে ২৫ হাজার টাকা। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে ওর পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে প্রয়োজনে আরও মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।’

অপু আরও জানান, কোন ফেডারেশনই তাদের খেলোয়াড়কে বেতন দিতে পারে না। সেটা দিতে পারে একমাত্র শূটিং ক্লাবগুলোই। ফেডারেশন যেটা পারে, তা হলো জাতীয় দলের শূটিং ক্যাম্প চলাকালে শূটারদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ হাত খরচ।’

শূটিং ফেডারেশনের মহাসচিব আরও জানান, ভারতের দিল্লীতে অনুষ্ঠিত গত ওয়ার্ল্ডকাপ শূটংয়ে পিস্তল ইভেন্টে তাম্রপদকজয়ী শূটার আহমেদ আলী এবং তার কোচ আব্দুর রহিমকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেবে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে।

একটি টুর্নামেন্ট বা স্বল্প সময়ের ক্যাম্প থেকে শূটিং প্রতিভা বাছাই করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব বলে আশাবাদী বাংলাদেশ শূটিং স্পোর্ট ফেডারেশন। এমন লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের পাঁচটি রাইফেল/শূটিং ক্লাবের সঙ্গে এপিএ (এনুয়াল পারফর্মেন্স এগ্রিমেন্ট) কার্যক্রম শুরু করেছে ফেডারেশন। এই কার্যক্রমে কোচ, টার্গেট পেপারসহ যাবতীয় সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে শূটিং ফেডারেশনের পক্ষ থেকে। বিনিময়ে প্রতিভাবান শূটার খুঁজে বের করতে কাজ করবে ওই পাঁচটি রাইফেল/শূটিং ক্লাব। বাছাই করা শূটারদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ শূটিং স্পোর্ট ফেডারেশন। গত সপ্তাহে কুষ্টিয়ায় কুষ্টিয়া রাইফেল ক্লাব ও পাবনায় পাবনা রাইফেল ক্লাবের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয় বাংলাদেশ শূটিং স্পোর্ট ফেডারেশন। বাংলাদেশ শূটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের সভাপতি নাজিমউদ্দিন চৌধুরী এবং মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ দুটি অনুষ্ঠানেই উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ক্লাবের উর্ধতন কর্মকর্তা ও শূটারগণও উপস্থিত ছিলেন।