২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রংপুরে সিকি কিলোমিটার মরণফাঁদ

মানিক সরকার মানিক, রংপুর ॥ ক্যান্টনমেন্ট চেকপোস্ট হতে কেন্দ্রীয় কারাগারের গেট পর্যন্ত সিকি কিলোমিটার মহাসড়কটি যেন এক মরণফাঁদ। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে গোটা এলাকাটিকে পরিণত করেছে বাসস্ট্যান্ডে। অথচ খানিক দূরেই রয়েছে কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল। টার্মিনালে একদফা যাত্রী ওঠা-নামার পর আবারও এখানে স্টপেজের যৌক্তিক কোন কারণ খুঁজে পায় না নগরবাসী। বেসরকারী পরিবহন মালিকদের বক্তব্য সেখানে সরকারী বিআরটিসি স্ট্যান্ড গড়ে তোলার কারণেই তারাও এখানে স্টপেজ দিতে বাধ্য হন। তাদের মতে, বিআরটিসি এখান থেকে অবৈধ স্ট্যান্ড তুলে নিলে তারাও আর স্টপেজ দেবে না।

এদিকে প্রতিনিয়ত এখানে বাস দাঁড়ানো এবং যাত্রী ওঠা-নামার কারণে একদিকে অতি ব্যস্ত এই এলাকায় যেমন যানজট ও মানবজট হচ্ছে, তেমনি মানুষজনকে চলাচল করতে হচ্ছে জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে। সামান্য এ এলাকায় গত দু’বছরে বাস-ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে তিন স্কুলছাত্র-ছাত্রীসহ প্রাণপ্রদীপ নিভেছে ৬ জনের। অবৈধ এ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে পত্র চালাচালিও হয়েছে বহুবার। কিন্তু তারপরও কর্তৃপক্ষের যেন কোন মাথা ব্যথাই নেই।

ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের রংপুর ক্যান্টনমেন্ট চেকপোস্ট হতে কেন্দ্রীয় কারাগারের গেট পর্যন্ত মেডিক্যাল মোড় এলাকাটি অত্যন্ত ব্যস্ত একটি মহাসড়ক এলাকা। এখানে রয়েছে উত্তরের বৃহৎ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, রংপুর নার্সিং ইনস্টিটিউট, পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্র, বেশ কয়েকটি ছাত্রছাত্রী নিবাস, মেডিক্যালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের কোয়ার্টার, উত্তরের সেরা বিদ্যাপীঠ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজ, মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল, কেন্দ্রীয় কারাগার, বেশকিছু ক্লিনিক ও মার্কেট। এসব বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন অন্তত ২৫ হাজার কোমলমতি শিশু-কিশোর যাতায়াত করে। এছাড়াও নানা প্রতিষ্ঠানের কারণে হাজার হাজার মানুষকে এ সড়কে চলাচল করতে হয়। অথচ এখানেই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বিআরটিসির দুটি বাসস্ট্যান্ড। অবৈধভাবে সরকারী পরিবহনের এ দুটি স্ট্যান্ড গড়ে তোলার কারণে বেসরকারী পরিবহন মালিক-শ্রমিকরাও জেদাজেদি করে গোটা এলাকাকেই বানিয়েছেন এখন বাসস্ট্যান্ড। উত্তরের দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, ডোমার ডিমলা নীলফামারী এবং দক্ষিণের গাইবান্ধা, বগুড়া, রাজশাহী, জয়পুরহাট, নাটোর ও নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতকারী সব বাসই এখানে থামে এবং দীর্ঘ সময় যাত্রী ওঠা-নামার সুযোগ দেয়। ফলে মানুষকে তাদের জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে চরম ঝুঁকি আর দুর্ভোগের মুখে ওই এলাকায় চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে জরুরী রোগী আনা নেয়ার ক্ষেত্রেও বড় সমস্যার সৃষ্টি হয়। যানজটে আটকা পড়ে অনেকে সড়কেই মারা যাচ্ছে। যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে শুধুমাত্র দু’বছর আগে ক্যান্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্রী আজমিরি সুলতানা লিমু এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র নাহিয়ান মোস্তাকিন রৌদ্্র এবং সিও বাজার এলাকার জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তি বাসচাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছে। প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। এসব ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে বহুবার। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিটি মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু জানান, বিষয়টি জেলা উন্নয়ন সমন্নয় কমিটির সভায়ও বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে নতুন করে আবার উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান তিনি।