১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে কদমতলী ফ্লাইওভার এ মাসেই খুলে দেয়া হবে

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম নগরীর কদমতলী ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ একেবারেই শেষ পর্যায়ে। চলতি মাসের মধ্যে এটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া যাবে বলে আশা করছে চউক (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ)। উড়াল সড়কটি চালু হলে বন্দরনগরীর ব্যস্ততম নিউমার্কেট হতে আগ্রাবাদ পর্যন্ত সড়কে যানজট কমে আসবে এবং পাশাপাশি চাপ কমবে দেওয়ান হাট ওভারব্রিজের ওপর।

চউকের এই প্রকল্পে ব্যয় প্রায় ৫৮ কোটি টাকা। এর নব্বই শতাংশ সরকার এবং বাকি দশ শতাংশ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বহন করছে। ২০১২ সালে শুরু হয় ১ দশমিক ১ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই উড়াল সড়ক নির্মাণের কাজ, যা চলতি বছরের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। শুরুতে কাজে ঢিমেতাল পরীলক্ষিত হলেও এখন বেশ দ্রুত গতিতে শেষ হওয়ার পথে।

চউক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অক্টোবর মাসের মধ্যেই কদমতলী ফ্লাইওভার উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। চার শ’ মিটারের মতো কার্পেটিংয়ের কাজ এবং পাশের হাঁটার পথ সুন্দর করার কাজ চলছে। যেটুকু কাজ বাকি আছে তা দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। কদমতলী চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম জংশন। এই এলাকায় রয়েছে তিনটি বাস টার্মিনাল। আন্তঃজেলা টার্মিনাল, বিআরটিসি এবং চট্টগ্রাম-শুভপুর বাস টার্মিনাল থেকে বৃহত্তর নোয়াখালী, কুমিল্লা ও রাঙ্গামাটিসহ বিভিন্ন গন্তব্যে প্রতিদিন শত শত বাস ছেড়ে যায়। এছাড়া চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের অবস্থানও বেশ কাছাকাছি। সব মিলিয়ে প্রতিনিয়ত যানজটে নাকাল অবস্থা নিউমার্কেট হতে স্টেশন রোড হয়ে দেওয়ান হাট পর্যন্ত। তাছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দেয়ান ওভারব্রিজের ওপর যানবাহনের অত্যাধিক চাপ পড়ে। সেই চাপ এবার কমে আসবে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী অঙ্গীকার। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে লালদীঘি মাঠের জনসভায় তিনি বলেছিলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব আমি নিজ হাতে নিলাম। মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর চট্টগ্রামের উন্নয়নে গৃহীত হতে থাকে একের পর এক প্রকল্প। ইতোমধ্যেই নির্মিত হয়েছে বহদ্দারহাট এমএ মান্নান ফ্লাইওভার ও দেওয়ান হাট ওভারপাস।

চলছে ৫ কিলোমিটারেরও দীর্ঘ মুরাদপুর-লালখান বাজার ফ্লাইওভারের কাজ, যা বিমানবন্দর থেকে আসা আরেকটি ফ্লাইওভারের সঙ্গে মিলিত হয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়েতে রূপ নেবে। এছাড়া কর্ণফুলী টানেল এখন আর স্বপ্ন নয়। চীনের সহযোগিতায় চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে এর নির্মাণ কাজ। বর্তমান সরকার তার মেয়াদের মধ্যেই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের কাজ শেষ করতে চায়।