১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এখন শিশুদের জীবন চার দেয়ালে বন্দী

ছেলে বেলার স্মৃতি মনে করতে যে কেউই নষ্টালজিয়ায় ভোগেন। এখনকার ছেলেবেলা আর আগেকার ছেলে বেলায় তফাত আকাশ-পাতাল। কাবাডি, ডান্ডাগুডি, ষোলগুডি, দাড়িয়াবাধা, ফুটবল, লাঠিখেলা, সাঁতারকাটাসহ নানা খেলাধুলায় সময় কেটেছে আগে দিনের শিশুদের। ঘুড়ি উড়ানোর মজাই ছিল আলাদা। স্কুলেও এসব খেলার কমতি ছিল না। পুরো গ্রামে জুড়ে ছিল শিশুদের বিচরণ।

আর এখন গ্রামতো দূরের কথা ভবনেও শিশুদের বিচরণ নেই। সময় কাটে ফ্ল্যাটের ভেতরে। ফ্ল্যাটেই বন্দী জীবন! এই দৃশ্য এখন মফস্বলেও। জেলা, উপজেলা শহর এমনকি গ্রামেও এখন এমন পরিবেশ হতে চলেছে। প্রাচীর দিয়ে আটকে ফেলা হয়েছে শৈশব। প্রাচীরের বাইরে শিশুদের বের হওয়ার সুযোগ কম। ছেলে শিশুদের চেয়ে মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে আরও নিষেধাজ্ঞা আরও বেশি। আগের দিনে ছিল একান্নবর্তী পরিবার। দাদা, দাদী, বাবা-চাচা সকলেই এক হাড়িতে খেতেন। শিশুদের বন্ধু ছিল ঘরেই। সমবয়সীও ছিল পরিবারেই। কিন্তু তেমন পরিবার এখন আর নেই। তাই ঘরই ছিল সমাজ। সেখান থেকে প্রকৃত শিক্ষা-নৈতিকতা, শ্রদ্ধাবোধ শিখেছে শিশুরা। আগের দিনে মানুষের মূল্যবোধও ছিল বেশী। এখন একা থাকায় শিশুরা শিখছে না সামাজিকতা। টেলিসামাদকে খ্যাতনামা শিল্পী বানিয়েছে তার ছেলেবেলা। তার বিশেষ মেধার কারণে বন্ধুরা তাকে উৎসাহিত করেছে।

এখনকার আর আগে দিনের ছেলেবেলা নিয়ে ভেবে বিস্মিত হয় অনেকে। বিশিষ্ট অভিনেতা টেলিসামাদ বলেন, ছেলেবেলা হলো জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। মুন্সীগঞ্জ শহরের পাশে নয়াগাঁও গ্রামে কেটেছে তার ছেলেবেলা। ছেলেবেলার সেসব আনন্দের দিনগুলোর কথা আজও ভুলতে পারেন না। বন্ধুদের নিয়ে নৌকা ভ্রমণ, সাঁতারকাটা, সব এখন আর মনেও পড়ে না। পুরো গ্রামই ছিল তার নিজের জগত। অন্যের গাছের আম, বরই, ডাব-নারকেলকে নিজের পেড়ে খেয়েছেন। কেউ কখনও না করেনি। আর হলে গিয়ে সিনেমা দেখা, শহরের জুবলি খালে সাঁতারকাটা এখন সবই স্মৃতি। সেই খালই এখন নেই। দখলের কবলে পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। হালকা গড়নের আবদুস সামাদ লুঙ্গি কাছা দিয়ে গেঞ্জি খুলে শরীরে তেল মেখে ভিড় ঠেলে সিনেমার টিকিট কিনে আনতেন। ছবি দেখতেই হবে। এসব কথা মনে পড়ায় আনমনা হয়ে যান তিনি। এমন নানা স্মৃতি রয়েছে তার। ভাদ্র মাসে মনসা মেলায় ছিল ভিন্ন আমেজ। এই মেলার জন্য অপেক্ষা করেছেন সারা বছর। মাসব্যাপী মেলায় কেনাকাটা, দুষ্টামি, বলতে বলতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এখনকার শিশুরা সেই আনন্দ পাবে কোথায়? ছেলেবেলায় গোসল করতে গিয়ে প্রতিবেশী সমবয়সীদের সাথে হৈ হুল্লোড়, লাফ-ঝাঁপ আনন্দে ভিন্ন রকমের নান্দনিকতা ছিল। এমন স্মৃতি ১৯৬৯ সালের। তাঁর জন্ম ১৯৬১ সালে। ছেলেবেলার স্মৃতি মেলাতে গিয়ে বলেন, তফাত আকাশ পাতাল। স্ত্রী মনোয়ারা আক্তারের মেয়েলো কেটেছে ঢাকার ধামাইয়ে। সেখানে তিনি কুতকুত থেকে শুরু করে পুতুল খেলা, দাড়িয়াবান্ধা, সাঁতারসহ সব খেলায় অংশ নিয়েছেন। কিন্তু তার মেয়েরা এখন ফ্ল্যাটে বন্দি জীবন কাটায়। সাঁতার প্রতিযোগিতা দূরের কথা সাঁতারই জানে না।

Ñমীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল

মুন্সীগঞ্জ থেকে

নির্বাচিত সংবাদ