২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছেলেবেলার গল্প ছিল আম চুরি, ডাব চুরি

উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য এবং সবশেষ রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু সফল মানুষ। ছেলেবেলা থেকেই তুমুল ডানপিটে এই মানুষটির জীবন সঙ্গিনী হয়েছেন অতি শান্ত বিনয়ী লাজুক আর মিষ্টভাষী রোখসানা আহমেদ চায়না। মহানগরীর গুপ্তপাড়া মহল্লায় তাদের দাম্পত্য জীবন কাটছে তিন যুগ ধরে।

সরকারী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদের পাঁচ সন্তানের ৪র্থ মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। স্বাধীনচেতা ডানপিটে এই মানুষটির বর্তমান বয়স ৬৪। ছেলেবেলায় এমন কোনদিন ছিল না, যেদিন তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আসেনি। খেলার সাথীদের নিয়ে আজ অমুকের বাসার ডাব চুরি তো কাল আম চুরি। আজ মুরগি তো কাল ছাগল চুরি। আজ একে মার তো কাল ওকে। ছেলেবেলাতেই নেতাগিরিতে তাঁর হাতেখড়ি। যা আজও অটুট রয়েছে। প্রয়াত সুলতানা বেগম রুনু তার বড় বোন। একেবারেই ছোট বেলায় সেই বোনই ছিলেন তার খেলার সাথী। বাবা একদিন তাদের দু’জনকে শালবন পাঠশালায় নিয়ে বড়বোনকে ক্লাস টুতে আর তাকে ওয়ানে ভর্তি করে দেন। তখন তিনি জানতেন না ক্লাস টু ওয়ানের চেয়ে এক ধাপ বড়। পরদিন ক্লাসে গিয়ে দেখেন রুনু নেই। সবাইকে জিজ্ঞেস করে জানতে পেলেন রুনু এক ধাপ উপরে ক্লাস টুতে। আমরা এক সঙ্গে খেলি, ঘুমাই আর ও একধাপ ওপরে, তা হতে পারে না। খেলার সাথী ছিলেন একই মহল্লার বর্তমান রংপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সদরুল আলম দুলু, সামছুল আযম, আলী হোসেন মোল্লা প্রমুখ। এদের নিয়ে পার্শ্ববর্তী বদিবাবুর মাঠে ডাংগুলি, মার্বেল, হাডুডু খেলতেন। জীবনে কোনদিন কারও উপকার ছাড়া ক্ষতি করেননি বলে জানান ঝন্টু। হয়ত অনেকের কাছে জোর করে টাকা নিয়েছি তবে সে টাকা বিলিয়েছি দরিদ্রদের মাঝে। ’৭১-এর ৩ মার্চের অসহযোগ আন্দোলনে মিছিলে অংশ নিয়েছেন ঝন্টু। করেছেন মুক্তিযুদ্ধও। অন্যদিকে জীবন সঙ্গিনী রোখসানা আহমেদ চায়নার মেয়েবেলা কেটেছে শাসন-অনুশাসনের মধ্যে। পড়াশোনা শেষে জলখাবার খেয়ে খানিকটা খেলাধুলা শেষে স্কুল। বিকেলে সাথী পল্লবী, সালমা, গীতা, সাহানাদের নিয়ে খেলা।

Ñমানিক সরকার মানিক

রংপুর থেকে