১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কিচ্ছার আসর আর চোখে পড়ে না

এখন খেলার মাঠ নেই। মাঠ দখল হয়ে গেছে। কোন কোন মাঠে বাড়িঘর উঠেছে। কোন মাঠ ফসলি জমি। আধুনিক ভিন্ন রকমের বিনোদন ব্যবস্থার কারণে খেলাধুলার দিকে শিশু-কিশোরদের তেমন নজর নেই। আমরা যখন শৈশব কৈশোর কাটিয়েছি, তখন দিনমান খেলা-ধুলায় মগ্ন থাকতাম। গোল্লাছুট, দাড়িয়াবান্ধা, টুং দারা, গুটি দারা আর কিচ্ছার আসরে সময় ব্যয় করেছি। সেসব এখন স্মৃতি। পুরনো এসব স্মৃতি এখনো হাতড়ে বেড়ান দেশের প্রখ্যাত কবি জয়দুল হোসেন। বয়স ষাটের কোঠায়। রোগ-বালাই বাসা বেঁধেছে দেহে। তারপরও তিনি কথা বলতে বলতে চলে যান কৈশোর। ষাটের দশকের প্রথম ভাগে বয়স হবে দশ বছর। তখন শহরতলীর সুহিলপুর তালুকদার বাড়ির পাশেই বড় খেলার মাঠ ছিল। এ মাঠে বন্ধুদের নিয়ে মেতে উঠতেন খেলাধুলায়। চাঁদার পয়সায় বল কেনা হতো। গোল্লাছুট, দাড়িয়াবান্ধা ছিল অন্যতম খেলা। টুং দারা ও গুটি দারার কথা বলতে গিয়ে থমকে দাঁড়ান। বলেন, এসব তো আর চোখে দেখি না। গ্রামীণ এসব খেলা হারিয়ে গেছে। সে সময় গ্রামে কিচ্ছা ও পুঁথি পড়ার দল ছিল। তারা গ্রামে গ্রামে হেঁটে পুথি পড়ত। বসাত কিচ্ছার আসর। রাত ৮/৯টায় আমাদের বাড়ির উঠানেই বসত কিচ্ছার আসর। আসরে শতাধিক লোক হতো। চলত রাত ১২/১টা পর্যন্ত। এসব আর নেই। প্রবীণ শেখ বজলুর রহমান বলেন, হাডুডু, কানামাছি, কুতকুত, গোল্লাছুট, দাড়িয়াবান্ধা, লাই খেলা এসব এখন স্মৃতি। ৭৩ বছর বয়সী বজলুর রহমান বলেন, ষাটের দশকেও মুরব্বিদের সঙ্গে যাত্রার আসরে যেতাম।

Ñরিয়াজউদ্দিন জামি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে