২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুক্তরাষ্ট্রে দশ মাসে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

  • উচ্চবাচ্য নেই হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এ্যামনেস্টি ও ইইউর

মাহফুজুর রহমান, নিউইয়র্ক থেকে ॥ বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দ-িত একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের প্রবল বিরোধিতা করলেও খোদ আমেরিকার বিভিন্ন স্টেটে প্রচলিত মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে টু শব্দ করে না হোয়াইট হাউস। কোন হস্তক্ষেপ বা প্রতিবাদ নেই ফেডারেল সরকারের। এমনকি নিউইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামের আন্তর্জাতিক সংগঠনটি যারা উঠতে-বসতে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ বিচার আদালতের মৃত্যুদন্ডের রায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক বিবৃতি দিচ্ছে তারাও কখনও নিজের দেশের মাটিতে খোদ আমেরিকার বিভিন্ন স্টেটের আদালতে সারা বছর ধরে দেয়া মৃত্যুদ-ের রায়ের কোন সমালোচনা করে বলে কেউ শুনতে পান না। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত সপ্তাহে বাংলাদেশকে মৃত্যুদ- প্রথা বাতিলের তাদের নেয়া ঘোষণাপত্র কার্যকর করার আহ্বান জানায় যখন দুই যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে দেয়া ফাঁসির রায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপীল বিভাগ বহাল রাখে। অথচ ১৪ অক্টোবর টেক্সাসে যখন ৩৩ বছর বয়সী লিকো এস্কামিলাকে হান্টসভিল কারাগারে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়, তখন আমেরিকার সংবাদ মাধ্যম ও টিভি টকশো ওয়ালারা এই মৃত্যুদ- নিয়ে কোন আলোচনা করেনি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অথবা ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি।

লিকো এস্কামিলাকে ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেয়ার ঘটনার পর জানা গেল, এই নিয়ে এ বছরের ১০ মাসে আমেরিকায় মোট ১২ জনের মৃত্যুদ- কার্যকর করা হলো।

টেক্সাসে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে গত বুধবার লিকো এস্কামিলার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ২০০১ সালে একটি নাইটক্লাবের বাইরে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব ক্রিমিনাল জাস্টিসের মুখপাত্র জ্যাসন ক্লার্কের উদ্ধৃতি দিয়ে এএফপির খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টা ৩১ মিনিটে (গ্রিনিচ মান ২৩৩১) হান্টসভিল কারাগারে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে লিকো এস্কামিলার (৩৩) মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে।

এ অপরাধ করার সময় এস্কামিলার বয়স ছিল ১৯ বছর। নাইট ক্লাবের পার্কিং লটে একটি বিবাদে জড়িয়ে পড়ার আগেই সে একটি খুনের আসামি ছিল। অফ ডিউটি পুলিশ কর্মকর্তা কেভিন জেমস ও অন্য অফ ডিউটি কর্মকর্তারা বিবাদ থামাতে গেলে কেভিন গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারায়। কেভিন সেখানে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।