১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেক্টর কমাণ্ডারস ফোরামের কনভেনশনে প্রাক্তণ প্রধান বিচারপতি

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং প্রাক্তণ প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেছেন, শুধু যুদ্ধাপরাধী নয় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে যেকোনো অপরাধীরই শাস্তি হওয়া বাঞ্জনীয়। আইনের ছাত্র হিসেবে আমি বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেই এটা বিবেচনা করি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এখনও চলমান, যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, তা শুধু বই বা সংবিধানেই রয়ে গেছে, তার বাস্তবায়ন আমাদের করতেই হবে। যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তারা প্রত্যকেই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে সেক্টর কমাণ্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর চতুর্থ জাতীয় কনভেনশনের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে টিএসসি ভবনে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কনভেনশনের উদ্বোধন করা হয়। পরে জাতীয় সঙ্গীত, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, উদ্বোধনী সঙ্গীত ও শহীদদের স্মরণে শোক প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এবারের এই চতুর্থ জাতীয় কনভেনশনে দেশের ৫৮টি জেলা, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের ৬৮ টি কমিটির ৭০০জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কনভেনশনে সংগঠনের চেয়ারম্যান বীর উত্তম অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব হারুন হাবীব। বক্তব্য রাখেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বিচারপতি এ এফ এম মেজবাহ উদ্দীন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও ইকুরা সভাপতি মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসউদ, সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল আবু ওসমান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদ প্রমুখ।

এ বি এম খায়রুল হক আরও বলেন, যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের ত্রিশ লক্ষ শহীদ জীবন দিয়েছেন, চার লক্ষ মা বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন সেই শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। আমাদের ধর্মান্ধ থাকলে চলবে না, এই দেশ সকলের জন্য। সকলেই তার ধর্ম পালন করতে পারবে, এমনকি যিনি ধর্ম মানেনও না এই দেশটি কিন্তু তারও। মহান আল্লাহ কিন্তু তাদেরকেও খাওয়াচ্ছেন, পড়াচ্ছেন। তাই বৈষম্য করলে চলবে না, কথাগুলো আমাদের মনে রাখতে হবে। হাইকোর্টের একটা রায় ছিলো ১৬ ডিসেম্বর যে জায়গায় পাকিস্তানী সৈন্যরা আত্মসমর্পণ করেছিলো সেই জায়গাটি সংরক্ষণের জন্য। স্বাধীনতা চত্ত্বর তৈরি করার জন্য। হাইকোর্টের সে রায়টি সরকার এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি। আপনারা যারা মুক্তিযোদ্ধারা আছেন এই কাজকে বাস্তবায়ন করতে একসাথে কাজ করবেন।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, একটা জিনিস কিন্তু আমরা খেয়াল করিনি, যে যখন পারে তখনই বাঙালি জাতিকে ছোটো করার চেষ্টা করে, বাঙালি কিন্তু দুই দুটো রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে। ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান কিন্তু বাঙালিরাই সৃষ্টি করেছিলো, এটা কিন্তু আমরা অনেকেই ভুলে গেছি এবং পরবর্তী কালে তৈরি করেছে বাংলাদেশ।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু একটি অনুষ্ঠানে বললেন নতুন দেশের নাম হবে বাংলাদেশ। তখনো কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনি তার মনে কি কাজ করছিলো। এখানেই একজন রাজনীতিবিদ ও স্টেটসম্যানের মধ্যে পার্থক্য। একজন রাজনীতিবিদ জনগণের বক্তব্যকে তুলে ধরেন আর একজন স্টেটসম্যান তার মতকে জনগণের মধ্য দিয়ে তুলে ধরেন। নিজের মতাদর্শকে জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারেন। যেটি বঙ্গবন্ধুর মধ্যে ছিলো, তিনি তেইশ বছর ধরে বাঙালিকে যেভাবে গড়ে তুলেছেন তার অসাধারণ নেতৃত্বেই সবাই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। সমগ্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা বাঙালিজাতির আলাদা কৃষ্টি-সংস্কৃতি থাকার বিষয়টি তিনিই আমাদের শিখিয়েছেন, এ কারণেই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ।