১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পে স্কেল ইস্যুতে কমিটির বৈঠকের আগে ধর্মঘটে যাবেন না

  • পাবলিক ভার্সিটি শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পে স্কেল ইস্যুতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ধর্মঘটে না যাওয়ার অনুরোধ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। দাবি পূরণ না হলে আগামী ১ নবেম্বর থেকে ধর্মঘটে যাওয়ার কথা শিক্ষকদের। শিক্ষামন্ত্রী তাদের উদ্দেশে বলেছেন, শিক্ষকরা আন্দোলনে গেলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা পরীক্ষা দিতে পারে না। ক্লাস হয় না। তাই তাদেরকে কোন ক্ষতির মুখে ফেলবেন না। শিক্ষকরা আমাদের কাছে সম্মানের পাত্র। সমস্যা সমাধানে আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারও এ বিষয়ে আন্তরিক। কাজেই সেই কমিটির বৈঠকের আগে কোন প্রকার ধর্মঘটে না যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এলজিইডি ভবনে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ অনুরোধ জানান শিক্ষামন্ত্রী। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি এ্যান্ড এ্যাকসেস এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (সেকায়েপ) ডিরেক্টরের এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেকায়েপের পরিচালক ড. মাহামুদ-উল-হকের সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুনসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আপনাদের বেতন অন্য সরকারী চাকুরেদের সঙ্গে বাড়িয়েছি। কিন্তু এটাকে আপনারা সম্মানজনক মনে করছেন না। তাই আলাদা একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারও এ বিষয়ে আন্তরিক। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে শিক্ষকদের বৈঠক প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রীও সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি একটি কথা বলেছিলেন, শিক্ষকরাও বলেছেন। তবে সবকিছু আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। আশা করি, সবাইকে নিয়েই বিষয়টির সমাধান করা হবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দেশের শিক্ষার বিভিন্ন অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশে মাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছেলেদের ছাড়িয়ে গেছে। আগামী ছয়-সাত বছরের মধ্যে উচ্চশিক্ষাতেও ছেলেদের ছাড়িয়ে যাবে নারীরা। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় ৫১ শতাংশ ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫৩ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী রয়েছে। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল হিসেবে ২০১৫ সালের মধ্যে ছেলে-মেয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে সমতা আনার কথা ছিল। আমরা তিন বছর আগেই প্রাথমিকে তা অর্জন করেছি। যা বিশ্বে আর কেউ পারেনি। বর্তমানে প্রাথমিকে আমাদের ৯৯ শতাংশের বেশি শিশু স্কুলে যায়। ৯৬ শতাংশ রেগুলার স্কুলে আসে। তবে এটা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের যে অগ্রগতি হয়েছে তা ইউরোপের কিছু দেশ ছাড়া আর কোথাও নেই। তবে মানসম্পন্ন শিক্ষা দেয়া একটা চ্যালেঞ্জ। আমাদের শিক্ষার্থী আছে কিন্তু এদের মানসম্পন্ন শিক্ষা দিয়ে উন্নত মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, আমাদের ছাত্র আছে। তবে তাদের মানসম্পন্ন শিক্ষা দিতে না পারলে তারা আর ছাত্র কী? স্কুলে গেল, শিক্ষা পেল কিন্তু মানসম্পন্ন শিক্ষা পেল না। তাহলে কে সে? সে তখন কেবল একজন মানুষ। যদি ছাত্র বলতে চাই, তবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের সোনার খাঁচা রয়েছে। এবার গানের পাখিটা দরকার। আর গানের পাখি হচ্ছে মানসম্পন্ন শিক্ষা। কেননা, আমাদের দেশে চাকরি আছে, যোগ্য প্রার্থীর অভাব। কেবল গার্মেন্ট খাতেই ১৫ হাজার বিদেশী, যারা উচ্চ পদে কাজ করেন। অথচ আমাদের যদি যোগ্য মানবসম্পদ থাকত তবে এই বিদেশীদের প্রয়োজন হতো না। মানের উন্নতি ছাড়া কোন জাতি উন্নত হতে পারে না। দেশ কী? দেশ তো মানুষ, কোন জায়গা নয়। কাজেই এই মানুষকে যোগ্য ও দক্ষ মানসম্মত মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে আমাদের সঙ্গে কেউ পারবে না। কেননা, আমাদের প্রচুর মানুষ আছে।

সেকায়েপ প্রকল্পটির মাধ্যমে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে কাজ করছেন। আর এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য তারা প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর শিক্ষামন্ত্রী স্থানীয় পর্যায়ের এই কর্মকর্তাদের হাতে মোটরসাইকেলের প্রতীকী চাবি, ল্যাপটপ, স্ক্যানার মেশিন তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা না জানানোয় শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতি মন্ত্রীর ক্ষোভ ॥ অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। এ সময় অনেকেই মন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমাদের দিকে একটু নজর দিন। আমাদের সিলেকশন গ্রেড প্রদানে সহায় হোন। আর এ বক্তব্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনাদের চাকরি অস্থায়ী ছিল। তা সরকারীকরণ করা হয়েছে। বেতন বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু একবারও বললেন না, এজন্য আপনারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। একবারও আপনারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিলেন না। শুধু বললেন, নজর দিতে। আমরা নজর না দিলে এতসব পেলেন কিভাবে? দাবি জানানোর আগে কিছুটা কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করতে হয়।

মন্ত্রী তাদের উদ্দেশে আরও বলেন, চাকরি স্থায়ী করার পর অনেকেই বলেছেন আপনাদের আর মাথা থেকে নামানো যাবে না। এখন তো তাই দেখছি।