২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কর্মী প্রত্যাহার করায় আইসোলেক্সের জরিমানা হতে পারে

  • মিট দ্য প্রেসে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে কর্মী প্রত্যাহার করায় স্পেনের কোম্পানি আইসোলেক্সকে জরিমানা করা হতে পারে। দুই বিদেশী হত্যাকা-ের পর আইসোলেক্স তাদের ৪১ কর্মীকে দেশের তিনটি বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। বিদ্যুত-জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিদ্যুত-জ্বালানিখাত নিয়ে ‘মিট দ্যা প্রেস’-এর পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, তারা সুস্পষ্টভাবে চুক্তি লঙ্ঘন করে নির্মাণাধীন বিদ্যুতকেন্দ্র থেকে কর্মী প্রত্যাহার করেছে। চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণাধীন কোন প্রকল্প এলাকা থেকে কোন কোম্পানি চলে যেতে পারে না। তারা চুক্তির কোন্ শর্ত অনুসারে কর্মী প্রত্যাহার করেছে তা আমাদের জানায়নি। তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যা পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের জরিমানা করা হবে।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, আজ রবিবার স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে আইসোলেক্সের চলে যাওয়া প্রসঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারীখাতের তিনটি বড় বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের কাজ করছে স্পেনের এই কোম্পানিটি।

দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার পর গত ৩ অক্টোবর স্পেন দূতাবাস নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে। আর ৫ অক্টোবর সরকারকে এক চিঠি দিয়ে আইসোলেক্স তাদের কর্মী প্রত্যাহার করে। এদের অনেকই বাংলাদেশের বাইরে চলে গেছেন। কিন্তু পৃথবীর অন্যান্য দেশের যেসব কর্মী বাংলাদেশে কাজ করছেন তারা সকলেই রয়েছেন। এমনকি পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্পের কাজও চলছে। সেখানে স্পেনের নাগরিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাস দিলেও তারা কাজে যোগ দেয়নি।

এদিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিট দ্য প্রেসে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডে নাইকোকে কাজ দেয়াটা ভুল ছিল। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বেই নাইকোর অবস্থা ভাল না। আমরা একটা অবস্থানে যেতে চাই। নাইকোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য বাংলাদেশ চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক আদালতে (ইকসিড) করা নাইকোর মামলার শুনানির জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আগামী ২ নবেম্বর থেকে লন্ডনে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৩ সালে নাইকোর সঙ্গে বাপেক্সের চূড়ান্ত চুক্তি হয়। ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফা দুর্ঘটনা ঘটে। এর জন্য নাইকোর গাফিলতিকে দায়ী করা হয়।

নসরুল হামিদ, বিদ্যুত খাতের উন্নয়নে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে বলেন, আমরা চাই দেশের মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত দিতে। এ জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বছর খানেকের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বায়ু প্রবাহের ম্যাপ পাওয়া যাবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তখন হয়তো বায়ু বিদ্যুতের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশদ বলা যাবে।

আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় কয়লার একটা বড় ভূমিকা থাকবে। তবে নানান কারণে কয়লার ব্যবহার সহসা সম্ভব হচ্ছে না।

দেশীয় কয়লার উত্তোলন সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর জন্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। এদেশের কয়লা খনিগুলোর ওপর বিপুল পানির স্তর রয়েছে। এই পানি ব্যবস্থাপনা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা চেষ্টা করছি কয়লার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে। তবে কয়লা উত্তোলন ও আমদানির পুরো ব্যবস্থা সরকারী তত্ত্বাবধানে হবে।

রামপাল বিদ্যুত প্রকল্পের বিরোধিতা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিরোধিতাকে আমি সব সময় ইতিবাচক হিসেবে দেখি। যারা বিরোধিতা করছে তারা হয়তো অনেকেই আমাদের উদ্যোগ সম্পর্কে বিশদ জানেন না। আমি চেষ্টা করছি তাদের সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরিয়ে আনব। এতে হয়তো ধারণার পরিবর্তন ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যুত দরকার আবার পরিবেশের দিকেও নজর দিতে হবে। আমরা সে হিসেবেই এগুচ্ছি। এলএনজি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে চুক্তি করতে পারি।

ভুটান-নেপাল থেকে বিদ্যুত আমদানির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এ দুই দেশ থেকে জলবিদ্যুত আমদানির ওপর জোর দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে ভারতের সম্মতি প্রয়োজন। চলতি মাসে ভুটানের অর্থমন্ত্রী আসছেন। তার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। গভীর সমুদ্রে দ্বীমাত্রিক সিসমিক জরিপের জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।

এই মাত্রা পাওয়া