২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপি-জামায়াত ঘেঁষা কর্মকর্তাই জড়ো হয়েছিল ফোর সিজনসে

  • গোয়েন্দা রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর শঙ্করের ফোর সিজনস রেস্তরাঁয় বৈঠকটি কি উত্তরা ষড়যন্ত্রের অংশ বিশেষ। সেখানে সরকারী কর্মকর্তাগণ কি করছিলেন ? সরকারী কর্মকর্তা হয়েও কোন পূর্ব অনুমতি না নিয়ে কেন গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন? তদন্তে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। উত্তরা ষড়যন্ত্রের মতো এটাও শঙ্কর ষড়যন্ত্র। ১০ অক্টোবরের ওই বৈঠকে যেসব কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের অধিকাংশই ছাত্র দল, বিএনপি ও জামায়াতের। আর যিনি সরকারদলীয় লোক ছিলেন তিনি ছাত্র জীবনে জাসদ-ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্যই তারা এ ধরনের গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা সংস্থার হাতে যেসব ছবি ছিল তা দেখে ওইসব কর্মকর্তার ছাত্র জীবন ও কর্মজীবনের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিকট রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

যখন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদের ফাঁসির পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। আসামি পক্ষ দ- বাতিল চেয়ে রিভিউ করেছে। ঠিক এই সময়ে জুডিশিয়ারি কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক নিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রুলসে নাই বাইরে বৈঠক করা। তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে বৈঠকটিতে যদি কোন ষড়যন্ত্র না হতো আর তাদের উদ্দেশ্য যদি ভাল থাকত তা হলে সংশ্লিষ্ট ওই রিপোর্টারকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করা হতো না। বা তার মোবাইল থেকে ধারণকৃত ছবিগুলো ডিলিট করে দেয়া হতো না। তাছাড়া তারা গোয়েন্দা ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে যে যার মতো দ্রুত রেস্তরাঁ থেকে সটকে পড়েন।

শঙ্কর বৈঠক বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহম্মেদ জনকণ্ঠকে বলেছেন, সরকারী সাভেন্টস রুলসে আছে কোন সরকারী কর্মকর্তা নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে। এখানেও যদি কোন আইনের বরখেলাপ হয়ে থাকে, তা হলে সেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। যদি ওই গোপন বৈঠকে সরকারের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র হয়ে থাকে তা হলে অবশ্যই সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যদি তদন্ত করে দেখে তারা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। তা হলে সেই ষড়যন্ত্রের ঘটনা অবশ্যই উদঘাটন করতে হবে।

সূত্র জানায়, ১০ অক্টোবর শনিবার রাতে ফোর সিজনস রেস্টুরেন্টে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা, বেশ কয়েকজন জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ, সুপ্রীমকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার, সুপ্রীমকোর্টের একজন মহিলা কর্মকর্তা, সুপ্রীমকোর্ট ও ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাসহ অন্তত ২০ জন অংশ নেন। শনিবারের এ বৈঠকের খবর গোয়েন্দা সংস্থাসহ সাংবাদিকবৃন্দ আগেভাগেই অবহিত হন। সন্ধ্যার পর থেকেই কর্মকর্তাবৃন্দ আসতে শুরু করেন। গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও ওঁৎপেতে থাকে। তাদের ছবি সুকৌশলে ক্যামেরায় বন্দী করা হয়। এরই মধ্যে একটি ইংরেজী পত্রিকার একজন রিপোর্টার সেখানে উপস্থিত হন। তিনি তার মোবাইলে আগন্তকদের ছবি তোলেন। এ সময় সরকারদলীয় অঙ্গ সংগঠনের এক নেতা তাকে নাজেহাল করেন এবং তার মোবাইল কেড়ে ছবি মুছে ফেলা হয়। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ওই নেতা ছাত্র জীবনে জাসদ ছাত্রলীগ করতেন।

এছাড়া এক মহিলা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। যিনি ব্যক্তি জীবনে বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী। তিনিও বিএনপির সমর্থক। ওই মহিলা কর্মকর্তা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শামনামলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেখানে আর যোগদান করেননি। বৈঠকে সুপ্রীমকোর্টের একজন এবং ঢাকা জজকোর্টের দুই জন আইনজীবী ছিলেন। তাদের একজন স্যার এফ রহমান হলের ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। এছাড়া বিচার বিভাগীয় যেসব কর্মকর্তা সেখানে ছিলেন তাদের বেশিরভাগই বিএনপির সমর্থক। গোয়েন্দা সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৪ নবেম্বর বিএনপি নেতা মাহামুদুর রহমানের নেতৃত্বে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর সড়কের ১৬ নম্বর বাড়িতে এক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে সরকারী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে মিডিয়ার উপস্থিতি টের পেয়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের আড়াল করে পালানোর চেষ্টা করেন। বহুল আলোচিত এই বৈঠক ‘উত্তরা ষড়যন্ত্র’ হিসেবে পরিচিত।

গোয়েন্দা তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, ওই দিন যে রিপোর্টারকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করা হয়েছিল- তিনি ধানম-ি থানায় জিডি করতে গেলে জিডিকে শুধুমাত্র এ্যাক্রিডিটেশন কার্ড হারিয়ে গেছে তাই উল্লেখ করা হয়েছে। জিডি নং ৫১৫, তারিখ ১১ অক্টোবর। এদিকে ওই বৈঠকটি ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল না এটা প্রমাণ করার জন্য একটি অংশ কাজ করে যাচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থা সেগুলোও পর্যবেক্ষণ করে দেখছেন।