১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ বোধনের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে দুর্গোৎসব

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ শারদোৎসবে মাতোয়ারা চারিদিক। আনন্দময়ীর আগমনী সুরে অনুরণিত এখন চারিদিক। খড়গ-কৃপাণ, চক্র-গদা, তীর-ধনুক আর ত্রিশূল হস্তে শক্তিরূপেণ দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধে ম-পে ম-পে আজ ঠাঁই নেবেন। মূলত আজ রবিবার বোধনের মাধ্যমেই শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ দুর্গোৎসব শারদীয় দুর্গাপুজো।

শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে আজ সায়ংকালে দেবীর বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনা পুজো করা হবে। ম-পে-মন্দিরে আজ পঞ্চমীতে সায়ংকালে তথা সন্ধ্যায় এই বন্দনা পুজো অনুষ্ঠিত হবে।

বোধন দুর্গোপুজোর অন্যতম একটি আচার। বোধন শব্দের অর্থ জাগরণ বা চৈতন্যপ্রাপ্ত। পুজো শুরুর আগে সন্ধ্যায় বেল শাখায় দেবীর বোধন দুর্গাপুজোর একটি অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ। সাধারণত শুল্কাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় বোধন হলেও এবার শুদ্ধ পঞ্জিকার তিথি অনুযায়ী পঞ্চমীতেই দেবীর বোধন পড়েছে। শরৎকালের দুর্গাপুজোয় এই বোধন করার বিধান রয়েছে। বিভিন্ন পূরাণ অনুসারে ভগবান রামচন্দ্র শরৎকালে রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করার উদ্দেশে দুর্গাপুজো করেন। তিনি অকালে এই বোধন করেন বলেই এটি অকালবোধন নামে খ্যাত। তবে বসন্তকালে চৈত্র মাসে যে দুর্গাপুজো তথা বাসন্তীপুজো অনুষ্ঠিত হয় তাতে বোধন করার প্রয়োজন হয় না।

আজ বোধন শেষে কাল সোমবার থেকে ষষ্ঠী পুজোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে দুর্গাপুজো। বাঙালী হিন্দু ধর্মালম্বীদের পাঁচদিনের সর্ববৃহৎ শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে ২৩ অক্টোবর শুক্রবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। বোধন শেষে আগামীকাল সোমবার ষষ্ঠীপুজোতে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস, মঙ্গলবার মহাসপ্তমী বিহিত পুজো, বুধবার মহাষ্টমী ও কুমারী পুজো, বৃহস্পতিবার একই দিন মহানবমী ও দশমী বিহিত পুজো শেষে দর্পণ বিসর্জন এবং সবশেষ শুক্রবার সারাদেশে সাড়ম্বরে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে দুর্গোৎসব।

আজ বোধনের মধ্য দিয়ে জেগে উঠবেন দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দশভুজা দেবীদুর্গা। খুলে যাবে দশপ্রহরণধারিণী ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার অতল স্নিগ্ধ চোখের পলক। বছর ঘুরে আবারও উমা দেবী আসছেন তার বাপের বাড়ি। হিমালয়ের কৈলাশে তার স্বামী দেবাদীদেব শিবের বাস। সেখান থেকেই সুদূর পথ পাড়ি দিয়ে মা এসেছেন সমতল ভূমিতে। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে। প্রতিবছরের শরৎকালে দেবী দুর্গার এই আগমন হয় নিজ ভূমিতে।

আজ থেকে ঢাকের কাঠি, ঘণ্টা-কাঁসার আওয়াজ, মঙ্গল শাঁখ ও উলু ধ্বনিতে কেঁপে উঠবে প্রতিটি মন্দির। বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে পুজোম-পগুলো। মায়ের আগমনে চারদিকে আনন্দ আয়োজন সম্পন্ন করার তাড়া এখন সবার। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। খুশির আনন্দ ছুঁয়ে যাচ্ছে ঘরে ঘরে, সব বয়সী মানুষের মনে। সার্বজনীন দুর্গোপুজো উপলক্ষে ঘরে ঘরে এখন আনন্দের মহোৎসব চলছে। সারাদেশে এখন উৎসবের আমেজ। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিটি ঘরে ঘরে এখন দেবীদুর্গাকে বরণ করার মহানন্দ।

দুর্গতিনাশিনী দুর্গা সবার মঙ্গলের জন্য আসছেন। শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতীক দেবীদুর্গা। মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা হচ্ছেন দুর্গতিনাশিনী। সব অনাচার তিনি দূর করে দেন তার মঙ্গলালোক, শুভ ও কল্যাণচিন্তায়। হিন্দু শাস্ত্রানুসারে, মা দুর্গা হচ্ছেন আদ্যশক্তি দেবী ভগবতী। তাঁর বহুরূপ। পর্বতরাজ হিমালয়ের কন্যা বলে তিনি পাবর্তী। আবার দুর্গম নামক অসুরকে বধ করেছিলেন বলে তার অন্য নাম দুর্গা। আবার তিনিই চ-ী মহিষাসুরমর্দিনী। পুজোয় চ-ীপাঠ করার সময় তাই এই দেবীর প্রার্থনায় বলা হয়Ñ ‘রূপং দেহি, জয়ং দেহি, যশো দেহি, দ্বিষো জহি।’ অর্থাৎ হে দেবী তুমি আমাকে রূপ দাও, জয় দাও, যশ দাও এবং শত্রুর কবল থেকে মুক্ত কর।