২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আগামী মাসের প্রথম দিকেই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে নূর হোসেনকে

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ চাঞ্চল্যকর নারায়ণগঞ্জ সাত খুনের আসামি বহুল আলোচিত নূর হোসেনকে কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নবেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঢাকায় ফিরিয়ে আনার পর তাকে নিয়ে যাওয়া হবে নারায়ণগঞ্জে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার খবরে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের মানুষের মধ্যে গভীর আগ্রহ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বর্তমান সরকারের আরেক সাফল্য। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই আইনী প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ নূর হোসেনকে নিয়ে আসবে বেনাপোল সীমান্তে। এরপর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে তুলে দেবে নূর হোসেনকে। বিএসএফ বেনাপোল সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির হাতে তুলে দেবে নূর হোসেনকে। শুক্রবার তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেয়ার আদেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত। অতি দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট সন্দ্বীপ চক্রবর্তী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। যোগাযোগ করে তারা জানতে পেরেছে, আদালতের নির্দেশটি যাবে রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরে। তারপর পররাষ্ট্র দফতর প্রত্যর্পণের একটা সমান্তরাল আদেশ দেবে। আদালতের আদেশ পাঠানো হবে নূর হোসেন যে কারাগারে আটক আছে সেই কারাগারে। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারের কাছেও যাবে আদালতের আদেশ। তারা বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় করে এসকর্ট করে বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে আসবে নূর হোসেনকে। সবকিছু চূড়ান্ত করে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সঙ্গে কথা বলে তাকে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। নূর হোসেনের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলবে বেনাপোল সীমান্তের জিরো লাইনে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, নূর হোসেনকে আইনী প্রক্রিয়ার মধ্যে কিভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা যায় তার সবকিছু আগে থেকে ঠিক করে রাখা হয়েছে। সাধারণত এই প্রক্রিয়া শেষ করতে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তবে যেহেতু এই মামলাটি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে দুই দেশের সরকার এটা নিয়ে চিঠি চালাচালি ও মৌখিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, এ কারণে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুততার সঙ্গে শেষ করার চেষ্টা চলছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর সাত খুনের বিচার প্রক্রিয়াও শুরু হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের এপ্রিলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ এবং পরে হত্যা করা হয়। শীতলক্ষ্যা নদীতে নিহতদের লাশ ভেসে ওঠে এর ঠিক দু’দিন পরই। এ হত্যাকা-ের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশেনের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে দায়ী করা হয়। হত্যাকা-ের ঘটনার পরপরই কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী বিউটি, শ্বশুর শহিদুল ইসলাম র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ এবং হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। এদের মধ্যে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন এ মামলার অন্যতম আসামি। নারায়ণগঞ্জ সাত খুনের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে গিয়ে সেখানে গ্রেফতার হন তিনি। বর্তমানে ভারতের ২৪ পরগনা জেলার দমদম সেন্ট্রাল কারাগারে আটক রয়েছেন।