২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বরেণ্য ইতিহাসবিদ জাতীয় অধ্যাপক সালাহউদ্দীন আহমদ স্মরণ

বরেণ্য ইতিহাসবিদ জাতীয় অধ্যাপক সালাহউদ্দীন আহমদ স্মরণ
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশবরেণ্য ইতিহাসবিদ জাতীয় অধ্যাপক সালাহ্্উদ্দীন আহ্্মদ। ধর্মান্ধতা ও বৈজ্ঞানিক সত্যান্বেষণকে তিনি অনায়াসে সাহসের সঙ্গে পৃথক করে রাখতে পেরেছিলেন। আর তিনি শুধু ইতিহাসবিদ ছিলেন না, ছিলেন ইতিহাস-পুরুষ। ইতিহাসের নতুন রূপকার ও আধুনিক বিশ্লেষক। বিকৃত ইতিহাসচর্চার পুরোহিত হননি। তাই বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম ও জাতীয় মনমানসের বিবর্তনকে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, যা জাতির বিবেককে জাগায় ও সামনের দিকে তাকাতে শেখায়। কাল সোমবার এই মনীষীর প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী। উপলক্ষে শনিবার বিকেলে স্মরণ করা হলো স্বদেশের ভাবনায় আলোকিত এই গুণীজনকে। জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তার বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর আলোকপাত এবং তার আত্মজৈবনিক স্মৃতিকথা ‘ফিরে দেখা’ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় অনুষ্ঠানে।

এ্যাডর্ন পাবলিকেশন আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। আলোচনায় অংশ নেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক, সাংবাদিক সৈয়দ বদরুল আহসান, ‘ফিরে দেখা’ গ্রন্থের সম্পাদক অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ ও তার পরিবারের সদস্য প্রখ্যাত আলোকচিত্রী সাঈদা খানম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এ্যাডর্ন পাবলিকেশনের প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সালাহ্্উদ্দীন আহ্্মদের পছন্দের রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে। মিলনায়তনে সুরের মায়া ছড়িয়ে কণ্ঠশিল্পী রোকাইয়া হাসিন গেয়ে শোনান ‘কাঁদালে তুমি মোরে ভালোবাসারই ঘায়ে..’ ও ‘তবু মনে রেখো যদি দূরে চলে যাই...’। গান শেষে ফিরে দেখা গ্রন্থটির অংশবিশেষ পাঠ করেন বাচিকশিল্পী নিশাত জাহান রানা।

সভাপতির বক্তব্যে আনিসুজ্জামান বলেন, কারও জন্য অধ্যাপক সালাহ্্উদ্দীন আহ্্মদের সাহচার্য পাওয়াটা ছিল সৌভাগ্যের ব্যাপার। আমি সেই সৌভাগ্যবানদের একজন। তিনটি বিশেষ গুণকে ধারণ করেছিলেন তিনি। সেগুলো হলো যুক্তিবাদ, মানবিকতা ও সহনশীলতা। তার অন্য গুণগুলোও বিকশিত হয়েছে এই তিন গুণের ভেতর থেকে।। আর ব্যক্তিগতভাবে তিনি ছিলেন খুব নরম স্বভাবের মানুষ। এ কারণেই অন্যের মধ্যেও সব সময় গুণ খুঁজে বের করতেন। সব কিছুর মধ্যেই ভাল কিছুর সন্ধান করতেন। তার সামনে কারও নিন্দা করা হলে তিনি তার গুণগুলোকে সবার মাঝে উপস্থাপন করতেন। এটা ছিল তার স্বভাবজাত। আবার যেখানে প্রতিবাদের প্রয়োজন সেখানে ঠিকই প্রতিবাদ করেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক ও অগণতান্ত্রিক যে কর্মকা-ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে গেছেন। তিনি চলে গেলেও তার চিন্তা আমাদের মাঝে রয়ে গেছে। দেশের প্রতি তার ভালবাসা আমাদের পথ দেখাবে। তাঁর জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের ভাবনা আমাদের উদ্দীপ্ত করবে।

মুনতাসীর মামুন বলেন, সালাহ্্উদ্দীন আহ্্মদ ছিলেন একজন স্বাধীন মানুষ। যে কারণে কখনই তিনি উচ্চাকাক্সক্ষার দাসত্ব করেননি। তার সমগ্র জীবন পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, তিনি সব সময় স্বাধীন চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন। কোন পদের প্রতি মোহ ছিল না। সে কারণেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কিংবা সরকারী কর্মকমিশনের চেয়ারম্যানের পদের প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিতে পেরেছিলেন। স্মৃতিচারণ করে মুনতাসীর মামুন বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন তখনই আমার সঙ্গে তার সরাসরি পরিচয় ঘটে। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকই তার এই যোগদানকে সহজভাবে মেনে নেননি। কারণ, তার মতো খ্যাতি ইতিহাস বিভাগের অন্য শিক্ষকদের ছিল না। এসব কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির মেয়াদ শেষে থেকে তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়া হয়নি। সেই সূত্রে দেয়া হয়নি প্রকৃত সম্মান। আমি ছিলাম তার প্রথম পিএইচডির ছাত্র। তার অধীনে আমার পিএইচডি করা নিয়েও অনেক জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সালাহ্্উদ্দীন আহ্মদ ছিলেন সমন্বয়বাদী দর্শনে বিশ্বাসী একজন মানুষ। তিনি যতটা জানতেন ততটা লেখেননি।

মফিদুল হক বলেন, ফিরে দেখা গ্রন্থে তার জীবন সাধনার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি নামাজ পড়তেন, কিন্তু মোনাজাত করতেন ব্রাহ্মসঙ্গীত কিংবা প্রার্থনা সঙ্গীতের বাণীতে। শৈশবের এমন ঘটনা দিয়ে বোঝা যায় তিনি কতটা অসাম্প্রদায়িক ছিলেন। তার জীবনের মূল সাধনা ছিল অসাম্প্রদায়িকতা। ধর্মের ভিত্তিতে সৃষ্ট দ্বিজাতিতত্ত্বের বিরুদ্ধেও তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন। রাজা রামমোহনের দর্শনকে ধারণ করেছিলেন। সব মিলিয়ে তিনি সহনশীলতার উদাহরণ রেখে গেছেন। একাত্তরের চেতনার বাংলাদেশে তাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বার বার ফিরে যেতে হবে তার কাছে।

সৈয়দ বদরুল আহসান বলেন, তার আত্মজীবনীটা ব্যতিক্রমী। নিজের জীবনের কথা ছাড়াও তিনি নানা প্রসঙ্গ তুলে এনেছেন। সেই সূত্রে ইতিহাসের অংশ হওয়া মানুষের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে লেখায়। মহাত্মা গান্ধী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো মানুষের কথা তার জীবনের অংশ থেকে উঠে এসেছে।

সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, সালাহ্উদ্দীন আহ্্মদের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল অসাম্প্রদায়িক বাঙালী। অনেক কাজ করে গেছেন অগোচরে। এ দেশে মৌখিক ইতিহাসের ধারণার প্রচলন করেন দিনি। এ ছাড়া লেখা ও কাজের চেয়ে মানুষ হিসেবে অনেক বেশি মহৎ ছিলেন তিনি।

ভাষাসংগ্রামী আবদুল মতিন স্মরণ ॥ শনিবার বিকেলে স্মরণ করা হলো ভাষাসংগ্রামী আবদুল মতিনকে। যৌথভাবে এ স্মরণসভার আয়োজন করে সম্মিলিত শিশু সংগঠন জোট ও শিশু নিকেতন। শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে এ স্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নতুন প্রজন্মকে ভাষা মতিনের আদর্শকে ধারণ করতে হবে। তাঁর দেখানো শোষণহীন সমাজ গড়ার কাজে নিয়োজিত করতে হবে নিজেদের। তাঁর সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টুর সভাপতিত্বে স্মরণানুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন ভাষাসৈনিক বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, ভাষা মতিনের সহধর্মিণী গুলবননেছা মনিকা মতিন ও আয়োজক সংগঠনের সদস্য সচিব মোখলেউদ্দিন খান মজলিস।

শিমুল মুস্তাফার পঞ্চাশতম জন্মদিন উদযাপন ॥ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পঞ্চমতলায় ছোট্ট একটি কক্ষে আয়োজন। শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠান কক্ষে প্রবেশ করতেই প্রথমে চোখে পড়ে শিল্পী চারু পিন্টুর আঁকা একটি ব্যানার। সেখানে লেখা শিমুল জয়ন্তী। বিচ্ছিন্নভাবে বসে আছেন কয়েকজন। পাশে রাখা দুটি ঝুড়িতে ভর্তি খই-বাতাসা। আর এক প্রান্তে গালে হাত দিয়ে বসে আছেন আবৃত্তিশিল্পী শিমুল মুস্তাফা ও অঙ্কন শিল্পী চারু পিন্টু। সময় গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই শুরু মাহেন্দ্রক্ষণ। একে একে আসতে থাকেন তাঁর যাপিত জীবনের বন্ধু, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। পঞ্চাশতম জন্মদিনে শিমুল মুস্তাফাকে জানানো হয় শুভেচ্ছা। গানে নৃত্যে ও কথায় এই বাচিকশিল্পীর জন্মদিন উদযাপন করেছে তারই সৃষ্ট সংগঠন বৈকুণ্ঠ আবৃত্তি একাডেমি।

রবীন্দ্র লাইব্রেরির উদ্বোধন ॥ রাজধানীর ২০/বি গাউস নগর, নিউ ইস্কাটনে স্থাপিত হলো রবীন্দ্র লাইব্রেরি। তাতে রবীন্দ্রনাথের রচনা ছাড়াও থাকছে রবীন্দ্রনাথ-বিষয়ক নানা রচনা। শুক্রবার সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনাথের ওপর এককভাবে প্রতিষ্ঠিত এ লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন ভাষাসংগ্রামী ও রবীন্দ্রগবেষক আহমদ রফিক।

আইজিসিসিতে ফকির আলমগীরের সঙ্গীতসন্ধ্যা ॥ স্বাধীন বাংলা বেতারের কণ্ঠসৈনিক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসঙ্গীতশিল্পী ফকির আলমগীর। ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (আইজিসিসি) আমন্ত্রণে শনিবার হেমন্তের সন্ধ্যায় গাইলেন কিছু মানবতার গান। শোনালেন দুঃখ বেদনা ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার গান।