১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই ঘন্টায়    
ADS

আইনের শাসন

আইনের শাসন বলতে মূলত আমরা বুঝি আইন ভঙ্গ করা ছাড়া কাউকে শাস্তি দেয়া যাবে না। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তা সাধারণ আদালতে প্রমাণ হতে হবে। দ্বিতীয়ত, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবাই আইনের চোখে সমান। তৃতীয়ত, ব্যক্তি-অধিকার বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। দেশের মানুষ শান্তি চায়, সুশাসন প্রত্যাশা করে। অপরাধ করে কোন প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবান ব্যক্তি পার পেয়ে যাক- এটা কারোরই কাম্য নয়। সম্প্রতি বাংলাদেশে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও দমন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার ব্যাপারে ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। দেশের মানুষ এটাই চায়। এর মাধ্যমে নীরবে গোটা সমাজে স্বস্তিবোধ ফিরে আসে। সরকারের প্রতিও মানুষের আস্থা বাড়ে। সিলেটের কুমারগাঁওয়ে একটি দোকান ঘরের খুঁটিতে বেঁধে চোর ‘অপবাদে’ শিশু রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সমাজের মর্মমূল প্রচ-ভাবে নাড়া খেয়েছিল। আমরা প্রশ্ন তুলেছিলাম- এ কোন্ বর্বরতা! মানুষ এতটা নির্মম নৃশংস নিষ্ঠুর কিভাবে হতে পারে? ওই পৈশাচিক হত্যাকা-ের মূল হোতা পালিয়ে সৌদি আরব চলে গিয়েও রেহাই পায়নি। দুই দেশের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং ইন্টারপোলের সহায়তা নিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ ধরনের দৃঢ় আইনানুগ তৎপরতা সমাজে বিরল।

আরও একটি বিষয় দেশের নাগরিকদের মনে গভীর রেখাপাত করেছে। সেটি হলো ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য হোক, কিংবা সংসদ সদস্যের নিকটাত্মীয়ই হোক- অপরাধ করে কেউই আইনের হাত থেকে বাঁচতে পারছে না। যে যত বড় ক্ষমতাধরই হোক, পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারছে। একই নীতি প্রযোজ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ব্যাপারেও। নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের সঙ্গে র‌্যাব-পুলিশের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় জনমনে এমন একটি ধারণা বা সন্দেহ তৈরি হয়েছিল যে আসামিদের রক্ষার জন্য ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয়া হবে। বিশেষ করে ওই হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের এক মন্ত্রীর নিকটাত্মীয় হওয়ায় সন্দেহটি বড় হয়ে উঠেছিল। জনমনে এমন শঙ্কাও গড়ে উঠতে শুরু করেছিল যে অভিযুক্তদের রেহাই দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। এ জন্য মানুষকে দোষ দেয়া যাবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমনটাই চলে আসছে এতকাল। এ সরকারের আমলে তার বিশেষ ব্যতিক্রম ঘটতে দেখা গেছে। চার্জশীট দেয়া হয়েছে অভিযুক্ত র‌্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে। গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত সংসদ সদস্য এবং সংসদ সদস্যদের নিকটাত্মীয়রা আজ বিচারের মুখোমুখি।

আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান, এখানে ছাড় দেয়া কিংবা বিরাগবশত চরম পদক্ষেপ নেয়া- দুটোরই কোন সুযোগ নেই। যে যতখানি অন্যায় করবে তার সাজা আইনসম্মতভাবে ততটুকুই নির্ধারিত। সব অপরাধীকেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা রাষ্ট্রের কর্তব্য। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালকে আইনের শাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুবর্ণকাল হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে। সরকার সব হত্যাকা-কে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। আইন ও বিচার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছে। দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণ এখন আস্থাশীল। সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয় ও কার্যকর থাকা জরুরী, সেগুলো বর্তমানে তাৎপর্যপূর্ণভাবে কর্মক্ষম। এর ফলে অন্যায় ও অপকর্ম করে পার পাওয়া যাচ্ছে না, অপরাধীরা শাস্তি পাচ্ছে, সাধারণ মানুষ বিচার পাচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটেছে। এতে সমাজে অপরাধ হ্রাসের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবেও বাংলাদেশের মর্যাদা যে বাড়ছে, তাতে কোন সংশয় নেই।