২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আশ্রয়স্থল

সাম্প্রতিককালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার শহরে ও বিভিন্ন জেলায় অমানবিক মানবতাবিরোধী কার্যকলাপ, আর্থিক সঙ্কটের কারণে অথবা পরকীয়া কিংবা ভূমি চক্রান্ত ও বিভিন্ন কারণে নিরীহ নিষ্পাপ শিশু-স্ত্রী-স্বামীকে হত্যা করা হচ্ছে। এসব অমানবিক কার্যকলাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ভূমিষ্ঠ হওয়া অসহায় গরিব-অনাথ শিশুদের জন্য সরকারী উদ্যোগে সরকারী জায়গায় এতিমখানার মতো আশ্রয়স্থল গড়ে তোলা হোক অথবা এতিমখানা ও হেফজখানায় ধর্মমতে অনাথ আশ্রমে লালন-পালন করে প্রাপ্তবয়স্ক করে তোলার জন্য দাবি জানাচ্ছি।

এম এ সালাম

চট্টগ্রাম

তামাকের ব্যবহার

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ বিশ্বের সাতটি দেশের একটি যেখানে সিগারেটের প্রতি প্যাকেটের খুচরা বিক্রয় মূল্যের ওপর ৭৫ শতাংশের বেশি করারোপের ফলে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও তামাকের কারণে মৃত্যুর হার কমেছে। কিন্তু ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্য ‘গুল’-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি ঠিক তার উল্টো। চলতি অর্থবছরে বাজেটে সিগারেট ও বিড়ির ওপর কর বৃদ্ধি করা হলেও গুলের ওপর কোন কর বৃদ্ধি করা হয়নি। উৎপাদক কর্তৃক গুলের ঘোষিত মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপিত আছে। গুলের প্যাকেট বা কৌটায় খুচরা বিক্রয় মূল্য লেখা থাকে না। গুল সেবনকারীরা মুদিদোকান থেকে সপ্তাহে দু’একটির বেশি কৌটা ক্রয় করে না। শাহজাদা ব্র্যান্ডের গুলের একটি কৌটা বিক্রি হয় চার টাকায়। ভ্যাট ১৫ শতাংশ ও সম্পূরক শুল্ক ৬০ শতাংশ হিসেবে এই চার টাকার ওপর ০.৯৬ টাকা কর আদায় হওয়ার কথা যা পণ্যটির খুচরা বিক্রয় মূল্যের ২৫ শতাংশের কম। আর যদি ঘোষিত মূল্যের ওপর কর আদায় করা হয়, তাহলে এটি কোনভাবেই ০.৪৮ টাকার ওপর হবে না। অর্থাৎ প্রকৃত খুচরা বিক্রয় মূল্যের ওপর ১২ শতাংশের কম কর প্রদান করা হচ্ছে। ফল দাঁড়াচ্ছে, সারাদেশে অত্যন্ত কম দামে গুল পাওয়া যাচ্ছে। বলাবাহুল্য, দরিদ্র ব্যক্তিরা দাঁতের মাজন ও দাঁতের ব্যথা কমার ওষুধ হিসেবে গুল ব্যবহার করে এবং পরিণামে এর মরণ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে।

গুল সেবনের ফলে বাংলাদেশে মুখ গহ্বরের ক্যান্সার প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভিমত। তারা জানান, গুল সেবনের ফলে মুখ গহ্বরের তলদেশ, গালের ভেতর ভাগ, মাড়ি ও ঠোঁট এবং মুখের তালুতে এ ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। সিগারেট-বিড়ির ওপর বর্ধিত করের ফলে অপেক্ষাকৃত সস্তা গুলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কার কারণে প্রাণঘাতী এ পণ্যটির প্রকৃত খুচরা বিক্রয় মূল্যের ওপর সিগারেটের মতো উচ্চহারে করারোপের কোন বিকল্প নেই। জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখতে বলি।

মাহবুব আলী

ঢাকা

নির্বাচিত সংবাদ