২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংঘাত ছড়াবে মধ্য এশিয়ায়

  • সিআইএস শীর্ষ সম্মেলনে পুতিন

আফগানিস্তানে চলমান সহিংসতা মধ্য এশিয়াতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন শুক্রবার সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ওই সঙ্ঘর্ষ কবলিত দেশটিতে হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন রাখবে বলে ঘোষণা দেয়। কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পুতিন ও সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্রগুলোর নেতারা কোন সঙ্কটকালে মধ্য এশিয়ার সীমান্ত রক্ষার জন্য এক যৌথ টাস্ক ফোর্স গঠনে সম্মত হয়। এ চুক্তির ফলে আফগানিস্তান সংলগ্ন অস্থিরতাপূর্ণ তাজিকিস্তানের ১৩০০ কিলোমিটার সীমান্ত বরাবর রুশ ও অন্যান্য দেশের সৈন্য মোতায়েনের পথ সুগম হলো। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের।

পুতিন বলেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি বলতে গেলে আসলেই সঙ্কটাপন্ন। তিনি স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথের (সিআইএস) শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তিনি বুরাবেতে বলেন, বিভিন্ন নামের সন্ত্রাসীরা আরও প্রভাব অর্জনের চেষ্টা করছে এবং তারা আরও বিস্তার লাভের পরিকল্পনা গোপন করছে না। বুরাবে কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানা থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। উগ্রপন্থী দলগুলোর প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, তাদের অন্যতম লক্ষ্য হলো মধ্য এশীয় অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করা। এ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে একযোগে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভøাদিমির পুতিন আরও বলেন, রাশিয়া ও অন্যান্য সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র থেকে ৫-৭ হাজার লোক সিরিয়ায় তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পক্ষে লড়াই করছে। রুশ নেতা ওই আঞ্চলিক ফোরামে বলেন, আইএস যোদ্ধারা তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে আসে গুরুতর ঝুঁকি দেখা দেবে। সাবেক সোভিয়েত দেশ কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং ওই অঞ্চলের অনেক দেশই আফগানিস্তান সংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলীয় অরক্ষিত সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে মস্কোর ওপর নির্ভর করে থাকে।

সংঘাত কবলিত আফগানিস্তানের সঙ্গে তাজিকিস্তানের খোলা সীমান্ত ও বিশেষ উদ্বেগের বিষয়, কারণ আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে লড়াইয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের অস্থিরতার কারণে রুশ সৈন্যরা সীমান্ত রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে পারে বলে কথাবার্তা ওঠে। গত মাসে তালেবানের হাতে গুরুত্বপূর্ণ কুন্দজ শহর সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য অধিকৃত হওয়ার ঘটনা ওই অস্থিরতা আরও স্পষ্ট করে তোলে।

তবে তাজিক বিশ্লেষক আবদুগনি মামাদাজিমভ বলেন, ক্রেমলিন তাজিক সীমান্ত পাহারার দায়িত্ব নেবে বলে সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, দেশটিতে রাশিয়ার ঘাঁটি থাকা এক বিষয়। কিন্তু সীমান্ত তাজিক সরকারের জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিষয়। যদিও রাশিয়া আফগান লড়াইয়ের মাত্রা চড়ে যাওয়ার দিকে সতর্কতার সঙ্গে দৃষ্টি রাখছে, তবু সিরিয়ার দিকেই এর মূল মনোযোগ নিবন্ধ। মস্কো সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সমর্থনে সেখানে বোমা বর্ষণ করে যাচ্ছে।

পুতিন দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান বিমান হামলার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার বিমান হামলা কয়েক ডজন কমান্ড পোস্ট, অস্ত্রাগার, শত শত যোদ্ধা ও বিরাট পরিমাণ সামরিক যন্ত্রপাতি ধ্বংস করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়া সিরিয়াতে কেবল সন্ত্রাসীদের ওপরই হামলা চালাচ্ছে এবং সিরীয় সৈন্যরা যতদিন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে, ততদিনই বিমান হামলা চলবে। যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা সিরিয়ায় মস্কোর হস্তক্ষেপের নিন্দা করে বলেছে, রাশিয়া আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত মধ্যপন্থী দলগুলোর আঘাত হানছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ওই কোয়ালিশন ইসলামিক স্টেট জিহাদীদের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।