১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজারে সূচকের সঙ্গে কমেছে লেনদেন

  • সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন বাড়লেও কমেছে সব ধরনের সূচক। আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রধান সূচক কমেছে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ। এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) প্রধান সূচক ২ দশমিক ২২ শতাংশ কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহের চেয়ে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ১ দশমিক ২২ শতাংশ বা ২৩ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার ১৫৯ টাকার। আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৯১৭ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ১৪৩ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৮৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮ হাজার ৯৮৪ টাকার শেয়ার।

সমাপ্ত সপ্তাহে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির লেনদেন হয়েছে ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ‘এন’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ‘জেড’ ক্যাটাগরির লেনদেন হয়েছে দশমিক ৬৫ শতাংশ।

সারা সপ্তাহে সূচকের ওঠানামার পরে ডিএসইর ইনডেক্স বা ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ বা ১০৪ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএস৩০ সূচক কমেছে ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ বা ৪৯ দশমিক ৫০ পয়েন্ট। অপরদিকে শরীয়াহ বা ডিএসইএস সূচক কমেছে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ বা ৩৪ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে।

এদিকে কোম্পানিগুলোর দর কমার কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ বা দশমিক ৩৭ পয়েন্ট কমেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৫ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহে এই পিই রেশিও ছিল ১৫ দশমিক ৯১ পয়েন্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, পিই রেশিও যতদিন ১৫ এর ঘরে থাকে ততদিন বিনিয়োগ নিরাপদ। সপ্তাহ শেষে খাতভিত্তিক ট্রেইলিং পিই রেশিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৬ দশমিক ৯ পয়েন্ট, সিমেন্ট খাতের ৩১ দশমিক ১ পয়েন্ট, সিরামিক খাতের ৩৮ দশমিক ৩ পয়েন্ট, প্রকৌশল খাতের ২৯ দশমিক ৯ পয়েন্ট, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ৩১ দশমিক ৫ পয়েন্ট, জ্বালানি ও বিদ্যুত খাতে ১৩ পয়েন্ট, সাধারণ বীমা খাতে ১০ দশমিক ৯ পয়েন্টে, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ১৭ দশমিক ১ পয়েন্টে, পাট খাতের মাইনাস ২৫ দশমিক ৭ পয়েন্ট, বিবিধ খাতের ৩০ দশমিক ৯ পয়েন্ট, এনবিএফআই খাতের ২০ দশমিক ৪ পয়েন্টে, কাগজ খাতের ১১ দশমিক ৫ পয়েন্ট, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২২ দশমিক ৩ পয়েন্ট, সেবা ও আবাসন খাতের ৩৫ দশমিক ৩ পয়েন্ট, চামড়া খাতের ২৭ দশমিক ৬ পয়েন্ট, টেলিযোগাযোগ খাতে ১৭ দশমিক ৬ পয়েন্ট, বস্ত্র খাতের ১২ দশমিক ৪ পয়েন্ট এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ১৫ দশমিক ৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩২৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫৮টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ২৫৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টির। আর লেনদেন হয়নি ২টি কোম্পানির শেয়ার।

ডিএসইর সাপ্তাহিক লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : বেক্সিমকো ফার্মা, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং, ব্র্যাক ব্যাংক, কেডিএস এক্সেসরিজ, স্কয়ার ফার্মা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, গ্রামীণফোন, বিএসআরএম স্টিল মিলস লিমিটেড ও সিটি ব্যাংক।

দর বৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : অলটেক্স ইন্ড্রাস্টিজ, আইপিডিসি, জাহিন টেক্সটাইল, যমুনা ব্যাংক, আরামিট, এমারেল্ড অয়েল ও প্রিমিয়ার সিমেন্ট।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো : মতিন স্পিনিং, বিডি ওয়েল্ডিং, এ্যাপোলো ইস্পাত, মডার্ন ডাইং, গ্রীন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, মাইডাস ফাইন্যান্স, হাক্কানী পাল্প, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ও মুন্নু সিরামিক।