২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পোশাক শিল্পে ‘ওভার রিএ্যাকশন’

  • বিদেশী খুনের ঘটনায় এইচ এ্যান্ড এম বাংলাদেশ সফর বাতিল করেনি ॥ বিজিএমইএ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এইচ এ্যান্ড এম বাংলাদেশ সফর বাতিল করেনি। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার এইচ এ্যান্ড এমের গ্লোবাল চেইনের এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। এই সময় তিনি তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করেন বলে জানান বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। এছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশে দুই বিদেশী খুনের ঘটনায় দেশে-বিদেশে ‘ওভার রি-এ্যাকশন’ দেখানো হয়েছে বলে মনে করেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশেও ঘটে। এটা পোশাক খাতে প্রভাব ফেলার কোন কারণ নেই। গত কয়েকদিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অনেক হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। সেই হিসাবে বাংলাদেশের ঘটনায় অনেক বেশি রি-এ্যাকশন দেখানো হয়েছে।

শনিবার দুপুরে বিজিএমইএর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি বাংলাদেশে দুই বিদেশী খুনের ঘটনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সিদ্দিকুর রহমান এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল আলম মহিউদ্দিন, আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ ও আবদুস সালাম মুর্শেদী, বর্তমান সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, মইনুদ্দিন আহমেদ, এসএম মান্নান, মাহমুদ হাসান খান ও মোহাম্মদ নাসির প্রমুখ।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাংলাদেশ সব মানুষের জন্য নিরাপদ। এখানে বিদেশীরা নির্বিঘেœ চলাফেরা করতে পারেন। বর্তমান সরকার অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে জঙ্গী নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তাই এখানে সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভাল আছে। সার্বিক নিরাপত্তায় সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় স্বার্থান্বেষী মহল জড়িত থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার আগে এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি নন তিনি। পোশাক ও শিল্প খাতে সার্বিক পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প চাপে রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর এ চাপ আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রফতানিতে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে বাংলাদেশ। কারণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম বিনাশুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি করতে পারবে, জিএসপি স্থগিত থাকার কারণে বাংলাদেশ সে সুযোগ পাচ্ছে না।

আরেক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, টিপিপিতে ১২টি দেশকে সুযোগ দেয়াটা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমরাও এই সুযোগ পেতে দ্বিপাক্ষিকভাবে চেষ্টা করব। এছাড়া রাশিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাওয়ার ব্যাপারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গত এক বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মুদ্রা ইউরোর মান ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে গেছে। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে আমাদের সামগ্রিক রফতানি প্রায় ৬০ শতাংশ।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে টিকে থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে আসছি। ক্রেতারা পোশাকের মূল্য না বাড়ালেও তাদের জোট ‘এ্যাকর্ড’ ও ‘এ্যালায়েন্স’ এবং আমাদের ‘ন্যাশনাল এ্যাকশন প্ল্যান’র সুপারিশ অনুযায়ী কারখানার সংস্কার করছি। দুর্বল অবকাঠামো, গ্যাস-বিদ্যুত ও দক্ষ শ্রমিক সঙ্কটের মোকাবিলা করে রফতানি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। পোশাকশিল্প খাতের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোকে ১০ বছর মেয়াদে পুনঃতফসিলিকরণের সুযোগ দিতে হবে।

পোশাক শিল্পে গ্যাস সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ ব্যবহার করে থাকে পোশাক খাত। অথচ এমন পোশাক কারখানা আছে, যেগুলো গ্যাসের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। সরকারের কাছে অনুরোধ করব, ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনে ব্যবহৃত গ্যাসের ট্যারিফ একেবারে ১০০ শতাংশ না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাড়ানো হোক। বন্ধ কারখানায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দেয়া হোক। বাংলাদেশেও পোশাক শিল্পের জন্য সরকারের তরফ থেকে একটি পৃথক সচিবালয় গঠনের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন বিজিএমইএ সভাপতি।