২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভেজালের তালিকায় এবার মবিল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভেজালের পালায় এবার যোগ হয়েছে গাড়িতে ব্যবহৃত মবিল। এতদিন খাদ্যে ভেজাল নিয়ে হৈচৈ পড়লেও-সবার আড়ালেই ছিল এই মবিল।

শনিবার র‌্যাবের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত ভেজালের এই দ্রব্যটাও আবিষ্কার করে ফেলে। রাজধানীর নবাবপুর রোডের তিনটি দোকানে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১০ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী পরিচালক সারওয়ার আলম ২ জনকে তাৎক্ষণিক সাজা ও জরিমানা প্রদান করেন। এ সময় বিপুল পরিমাণ ভেজাল মবিল ধ্বংস করা হয়।

র‌্যাব জানায়, নবাবপুর রোডের মদনপাল লেনের মডেল মুক্তিযোদ্ধা মেশিনারী মার্কেটের ‘মেসার্স শামীম ট্রেডার্স, মেসার্স খান ট্রেডার্স ও মেসার্স মোহাম্মদ আলী ট্রেডার্স’ নামক প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় মজিবুর রহমান ও আসলাম নামের দুই কর্মচারীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- প্রদান ও এক লাখ টাকা করে আর্থিক জরিমানা করা হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জনকণ্ঠকে বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে বিদেশী বিভিন্ন নামী দামী ব্র্যান্ডের ভেজাল ও নকল লুব্রিকেন্ট অয়েল এবং ব্রেক অয়েলের ২৮৬২টি ক্যান জব্দ করা হয়। আদালত পরিচালনার সময় দেখা যায় মেসার্স শামীম ট্রেডার্স, খান ট্রেডার্স ও মোহাম্মদী ট্রেডার্স দীর্ঘদিন ধরে কেরোসিন, ডিজেল ও নিম্নমানের রিফাইনারি পুরাতন মবিল সংমিশ্রণ করে ও ভেজাল কেমিক্যাল মিশিয়ে বিভিন্ন দেশের নামী দামী ব্র্যান্ড করার পর সারাদেশে বাজারজাত করে। মেসার্স শামীম ট্রেডার্সের ম্যানেজার ও মালিকের খালাত ভাই মোঃ আসলাম ও তিনজন কর্মচারীকে নকল মবিল তৈরি ও বিক্রির সময় হাতেনাতে আটক করা হয়।

এ সময় আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা জানান, বারবার নিষেধ করার পরও তাদের এহেন অপরাধ থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি।

আটক আসামিরা আদালতকে জানায় যে, বাজারে এসব নকল ক্যানের অনেক বেশি চাহিদা রয়েছে। কারণ গাড়ি চালকেরা মালিকের নিকট থেকে আসল ক্যানের মূল্য দিয়ে নকল লুব্রিকেন্ট ক্রয় করে থাকেন। ভেজাল লুব্রিকেন্ট অয়েল ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিন অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে বিকল হয়ে যায়। ভেজাল ব্রেকঅয়েল ব্যবহারে ব্রেক ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে গাড়ি দুর্ঘটনায় কবলিত হচ্ছে। জান ও মালের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। দেশে ভেজাল লুব্রিকেন্ট অয়েল ও ব্রেক অয়েল তৈরি ও বাজারজাতকরণে একটি অবৈধ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এসব ভেজাল ও নকল ক্যানের আকৃতি ও লেভেলিং বাইরে থেকে দেখতে হুবুহু আসল ক্যানের মতো। সাধারণ ক্রেতাদের বোঝার কোন উপায় থাকে না এটি বিদেশ থেকে আমদানিকৃত নাকি দেশীয় নকল পণ্য। এসব ক্যান আসল ক্যানের চেয়ে ২০০-৩০০ টাকা কম দামে বিক্রি হওয়ায় সাধারণ খুচরা ব্যবসায়ীরা এ ধরনের নকল লুব্রিকেন্ট অয়েল ক্রয় করে তা সাধারণ ভোক্তাদের নিকট বিক্রি করতে বেশি আগ্রহী হন। তৈরিকৃত ও সরবরাহকৃত ভেজাল লুব্রিকেন্ট অয়েল কৃষি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মেশিনারী ইঞ্জিনে (যেমন-পাওয়ার টিলার, শ্যালো মেশিন ইত্যাদি) ব্যবহার হয়ে থাকে। যার ফলে কৃষি কাজে ব্যবহৃত মেশিনারী ইঞ্জিনসমূহ অতি দ্রুত বিকল হয়ে যায়, এতে সাধারণ কৃষকগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, এসব ভেজাল লুব্রিকেন্ট ব্যবহারের ফলে পাওয়ার টিলার ও শ্যালো মেশিনের ইঞ্জিন ২/১ বছরের মধ্যেই বিকল হয়ে যাচ্ছে।