২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্লাটারকে ছাড়াই ভাল চলছে ফিফার কর্মকাণ্ড

ব্লাটারকে ছাড়াই ভাল চলছে ফিফার কর্মকাণ্ড
  • ফেরার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ব্লাটার ;###;আইনী লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্লাতিনির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার এফএ’র

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময়ে রয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সেপ ব্লাটার পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ফিফার বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয় উঠে আসে এবং বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলে যখন যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীরা ব্লাটারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ব্লাটার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তবে পরবর্তী সভাপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত পদ ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আগামী ফেব্রুয়ারিতে বিশেষ ফিফা কংগ্রেসে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অন্যতম প্রার্থী মিশেল প্লাতিনির সঙ্গে অবৈধভাবে দুই মিলিয়ন ইউরো লেনদেনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ফৌজদারি তদন্ত শুরুর পর ফিফার নৈতিকতা কমিটি তিন মাসের জন্য সব ধরণের ফুটবল কর্মকা- থেকে নিষিদ্ধ করে ব্লাটার ও প্লাতিনিকে। অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ইসা হায়াতু। তবে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপীল করে ফিরে আসার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্লাটার এবং আগামী নির্বাচনে লড়ার জন্য প্লাতিনিও আপীল করেছেন। কিন্তু ইংলিশ ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন (এফএ) প্লাতিনির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থিতার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এফএ থেকে সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্লাতিনির আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার পর বিভিন্ন তথ্য জেনেই এফএ প্লাতিনির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।

এবারের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ বিন হাম্মান দুর্নীতির অভিযোগে আজীবন নিষিদ্ধ হন গত ফিফা নির্বাচনের কিছুদিন আগে। ফলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবার সভাপতি হন ব্লাটার। কিন্তু দুর্নীতির বীজ উপড়ানো যায়নি। ফিফার সঙ্গে ১৮ বছর হয়ে গেছে ব্লাটারের। কিন্তু আবারও ফিফার আর্থিক দুর্নীতি এবং অন্যান্য অপকৌশল নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান ব্লাটার। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশেষ কংগ্রেসও আহ্বান করেছেন। নতুন করে নির্বাচন হওয়ার পর নিজ উত্তরসূরিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করা পর্যন্ত থাকতে চেয়েছিলেন। সেটাও হলো না। ৯০ দিনের জন্য তাঁকে এথিকস কমিটি সব ধরনের ফুটবল কর্মকা- থেকে নিষিদ্ধ করেছে। নতুন দায়িত্বে এসেছেন হায়াতু। নির্বাচনের পরই তিনি নতুন সভাপতির কাছে দায়িত্বভার অর্পণ করে সরে যাবেন।

উত্তরসূরি হিসেবে ব্লাটারের অন্যতম প্রধান অগ্রগামী ব্যক্তি ছিলেন প্লাতিনি। তিনি কিছুদিন আগেও ইংলিশ এফএ এবং লাতিন আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনের সমর্থন পেয়েছেন। এমনকি তাঁর ওপরও ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরও এ দুই কনফেডারেশন তাদের প্রায় ৭০টি দেশের ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন নিয়ে সমর্থন জ্ঞাপন করেছিল। ব্লাটার এবং প্লাতিনি দু’জনই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপীল করেছেন। আবারও আপীলের সময় ব্লাটার আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। আর প্লাতিনিকে নির্বাচন করার জন্য নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া জরুরী। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সময় প্রয়োজন হবে প্লাতিনির। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগও মিথ্যা প্রমাণ হতে পারে। তাঁর অবস্থানটাও বেশ দৃঢ়। এ কারণে এবার ফিফা নির্বাহী কমিটি জরুরী একটি সভার আহ্বান করেছে। সে সভায় ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আরও পিছিয়ে দেয়া নিয়ে আলোচনা হবে।

এফএ প্রথমে প্লাতিনির পক্ষে কথা বললেও এবার তারাও বেঁকে বসেছে। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এফএ মিস্টার প্লাতিনিকে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য কামনা করছে। আমরা প্রত্যাশা করব, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে তিনি মুক্ত হবেন। আমরা বৃহস্পতিবার এফএ সভায় প্লাতিনির আইনজীবীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে অনেক তথ্য নিয়েছি। সে কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আইনগত এই ঝামেলাসমূহের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে প্লাতিনির পক্ষে আমাদের সমর্থন প্রত্যাহার করা অবশ্যই উচিত।’ আর ব্লাটার আইনী লড়াই নিয়ে বলেছেন, ‘আমি যদি এখন পালিয়ে যাই এবং সবকিছু হতে দিই সেক্ষেত্রে নিজেকেই হেয় করা হবে। তাই আমি ফিরতে চাই লড়াই করে এবং কংগ্রেসের একজন নেতা হিসেবেই থাকতে চাই।’ তবে ব্লাটারকে ছাড়া বেশ ভালভাবেই চলছে ফিফা। এমনটাই দাবি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মারকাস কাটনারের। তিনি বলেন, ‘পরিচালনার দিক থেকে ফিফা এখনও বেশ ভালভাবেই কাজ করে যাচ্ছে। এটাই হওয়া উচিত। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি অনুর্ধ-১৭ ফিফা বিশ্বকাপ। এটা অচিরেই চিলিতে শুরু হতে যাচ্ছে। এছাড়া ফিফা বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচগুলো ভালভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে আমাদের ফুটবল উন্নয়নের কর্মকা- বেশ দ্রুতগতিতেই ভালভাবে এগিয়ে চলেছে।’

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া