২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘শেখ কামাল টুর্নামেন্টকে সাধুবাদ জানাই’, তবে...

  • পেশাদার ফুটবল লীগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ও রানার্সআপ শেখ রাসেলকে বাদ দেয়া মেনে নেয়া যায় না, নির্ধারিত সময়ের আগে দলবদল ষড়যন্ত্র, বললেন মনজুর কাদের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শেখ কামালের নামে টুর্নামেন্ট হচ্ছে, আমি ব্যক্তিগতভাবে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু তাই বলে দায়সারা এই আয়োজনকে সমর্থন করতে পারি না। শেখ কামাল কে? সেটা আগে বুঝতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় সন্তানের নামে আয়োজিত এই আসরে শেখ জামাল ও শেখ রাসেল খেলবে না বা থাকবে না এটা মেনে নিতে পারছি না। কথাগুলো শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের সভাপতি, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মনজুর কাদেরের। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, আমরা নাকি প্রাইজমানির জন্য অংশ নিচ্ছি না। এটা ডাহা মিথ্যা। আমার বা শেখ জামাল ক্লাবের কোন কর্মকর্তার সঙ্গে তো আয়োজকদের কথাই হয়নি। যেখানে আলোচনাই হয়নি সেখানে প্রাইজমানির জন্য খেলছি না এটা অবান্তর। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে কোন কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার প্রয়োজন মনে করেননি। শেখ জামাল তো দেশের ফেলনা বা আনকোড়া কোন টিম নয়। পেশাদার লীগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অবশ্যই এই টুর্নামেন্ট খেলা দাবি, অগ্রাধিকার আমরা রাখি। অথচ অংশগ্রহণের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোন আলোচনা বা পরিবেশ সৃিষ্টর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। একই সঙ্গে আমি বলতে চাই, শেখ কামালের নামে আয়োজিত টুর্নামেন্টে শেখ রাসেলকেও রাখা উচিত ছিল। সেটাও করা হয়নি। লীগ রানার্সআপ হিসেবে শেখ রাসেল কেসিও আমাদের মতো এই টুর্নামেন্ট খেলার দাবি রাখে। আমরা তো উপযাচক হয়ে বা সেধে ওদের (আয়োজক) সঙ্গে কথা বলতে পারি না। উদাহরণ টানতে গিয়ে মনজুর কাদের বলেন, আপনি আমাকে দাওয়াত না করলে আমি তো সেধে আপনার বাসায় যেতে পারি না। বিষয়টা তাই দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আলোচনা হলে তারপর না আসবে প্রাইজমানি, খেলা না খেলার বিষয়টি। কাজেই আমি মনে করি কাউকে খুশি করতে তড়িঘড়ি করে দায়সারা এই টুর্নামেন্ট করা হচ্ছে। শেখ কামালের নামে টুর্নামেন্ট করার প্রস্তাব অনেক আগে আমিই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) দিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ কোথা থেকে কি হয়ে গেল, আমার প্রস্তাব মাইনাস করে শেখ কামালের নামে টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করে হয়ে গেল। এতে আমি রীতিমতো বিস্মিত হয়েছি।

এদিকে ফুটবলারদের দলবদলের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে বাফুফে। কিন্তু পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলবদল হওয়ার কথা আগামী বছরের আগস্টে। আগেভাগেই দলবদল আয়োজনের মধ্যে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন মনজুর কাদের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সেরা ফুটবলারদের নিয়ে গড়া আমার (শেখ জামাল) টিমটা ভাঙ্গার জন্যই পেশাদার লীগ কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আলাপচারিতায়, আমাকে বলা হয়েছিল, বৃষ্টি-বাদলের পর আগামী বছরের আগস্টে দলবদল আয়োজনের কথা। কিন্তু বাফুফে প্রেসিডেন্টের কথা অবজ্ঞা করে দ্রুত বা আগাম দলবদল করার সিদ্ধান্তে আমি বিস্মিত। আমি বহুবার বাফুফে সভাপতিকে বলেছি, লীগ কমিটি পরিবর্তন করতে। এখানে অনেক বিতর্কিত, বিরোধী দলীয় লোকজন রয়েছে। এরা সম্পূর্ণ অযোগ্য। এসব বিতর্কিত কর্মকর্তা দিয়ে ফুটবল চলবে না। একটা টিম গঠন করতে কোটি কোটি খরচ হয়। একজন মানমস্পন্ন ফুটবলার দলে নিতে কমপক্ষে ৪০/৪৫ লাখ টাকা লাগে। কাজেই হুটহাট দলবদলের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যায় না। এটা মুড়ি-মুড়কি নয়, যে চাইলেই পাওয়া যায়। ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ফুটলারদের দলবদলের দিন তারিখ চূড়ান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন মনজুর কাদের।

পরিশেষে মনজুর কাদের বললে, শেখ কামালের নামে টুর্নামেন্ট আয়োজন করায় আবারও আমি ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু শেখ জামাল ও শেখ রাসেল কেসিকে বাদ দিয়ে শুধু লীগ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে অপমান করা হয়নি। অবজ্ঞা করা হয়েছে এই দুই ক্লাবের কর্মকর্তা, দেশের সেরা ফুটবলারদের এবং পাশাপাশি শেখ কামালকেও।

উল্লেখ্য, শেখ রাসেল কেসি লিমিটেডের সভাপতি, কৃতী ক্রীড়া সংগঠক নুরুল আলম চৌধুরীও বিষয়টা নিয়ে হতাশ। সম্প্রতি জনকণ্ঠকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, শেখ জামাল ধানম-িকে একটি চিঠি দিয়ে অংশগ্রহণের কথা জানালেও শেখ রাসেলকে সেই সম্মানটুকুও জানানো হয়নি। এক কথায় আমন্ত্রণই দেয়া হয়নি। তিনি যোগ করেন, পেশাদার লীগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব যেমন খেলার দাবি রাখে। একইভাবে পেশাদার লীগ রানার্সআপ হিসেবে শেখ রাসেলও। দেশের দুই সেরা ক্লাবের প্রতি কেন অনীহা আয়োজকরা তা ভাল বলতে পারবেন। প্রসঙ্গত, দেশের সেরা ফুটবলারদের বেশিরভাগের ঠিকানা শেখ জামাল ও শেখ রাসেলে। এই দুটি ক্লাব অংশ নিলে টুর্নামেন্টের আকর্ষণ তথা প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বৃদ্ধি পেত। দেশী-বিদেশী চৌকস ফুটবলারদের পায়ে-বলের দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপভোগ করতে পারতেন দর্শকরা। এখন টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া দেশের তিন ক্লাব, স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনী, ঢাকা মোহামেডান ও ঢাকা আবাহনী বিদেশী দলগুলোর সঙ্গে কতটুকু সুনামের সঙ্গে লড়াই করতে পারে সময়ই তা বলে দেবে। তবে শেখ জামাল ও শেখ রাসেলের অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা বা না খেলানোর বিষয়ে আয়োজক কমিটির জনৈক কর্মকর্তা জানান, শেখ জামাল লীগ চ্যাম্পিয়ন ও শেখ রাসেল লীগ রানার্সআপ দল হলেও তাদের সমর্থক তেমন নেই। সে তুলনায় ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান ও ঢাকা আবাহনীর সমর্থক রয়েছে প্রচুর। দর্শক গ্রহণ যোগ্যতার বিষয়টিকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। আর এ কারণে ঢাকা মোহামেডান ও ঢাকা আবাহনীর অংশগ্রহণ আমরা নিশ্চিত করেছি।