২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাঁপাইয়ে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ হঠাৎ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মেইল ও লোকাল ট্রেনের সংখ্যা হ্রাসে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। পাশাপাশি একটি মাত্র ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনে আসন সংখ্যা কমানোর কারণে নাগরিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সঞ্চার হয়েছে। আগে সব মিলিয়ে ৬টি ট্রেন থাকলেও তা নেমে তিনে দাঁড়িয়েছে। লোকাল যে দুটি ট্রেন রয়েছে তাতে কমানো হয়েছে কোচ সংখ্যা। সকাল ৮-১০ মিনেটে ট্রেন চলাচল করলেও কোচ স্বল্পতার কারণে শত শত যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে এই ট্রেনটিতে রাজশাহী যাওয়ার যাত্রী বেশি হওয়ার কারণে আমনুরা ছাড়ার পর পরই জন দুর্ভোগ তুঙ্গে উঠে। উল্লেখ্য, একটি মাত্র আন্তঃনগর ট্রেনের (পদ্মা) সঙ্গে সংযোগ দিতে কমিউটার ট্রেন সাড়ে বারটায় রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসে আবার ১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছেড়ে যায়। এই ট্রেনে রাজশাহী পর্যন্ত চলাচলকারী যাত্রীরা আসা যাওয়ার সময় কোন টিকিট না কেটেই যাতায়াত করায় প্রতিদিন সরকার ৬০ হাজার টাকার রাজস্ব হতে বঞ্চিত হচ্ছে। এর মাসিক পরিমাণ ১৮ লাখ টাকা। এই ট্রেনের ভাড়া বেশি হওয়ার কারণে রাজশাহী-আমনুরা-চাঁপাইগঞ্জে যাত্রীরা টিকিট না কেটে গার্ড ও চেকারকে ম্যানেজ করে চলাচল করে থাকে। দীর্ঘদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-আমনুরা-রহনপুর ও রাজশাহী-আব্দুলপুর রেলপথ সংস্কারের অভাবে অধিকাংশ ট্রেন কর্তৃপক্ষ বাতিল করে। ২০১১ সালে এসব রেলপথ সংস্কারে সাড়ে তিন শ’ কোটি টাকা ব্যয় করলেও এসব রেল পথে পূর্বের সিডিউল অনুসারে সবকটি ট্রেন চালু করা হয়নি। তবে জনসাধারণের দাবির কারণে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের মধ্যে কমিউটার ট্রেনের মাধ্যমে আন্তঃনগর ট্রেনের সংযোগ করে রেল মন্ত্রণালয়। বরাদ্দ করা হয় ৭০টি আসন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা ভায়া রাজশাহী আন্তঃনগর সংযোগে এই জেলার মানুষ দারুণভাবে উপকৃত হয়েছিল। কিন্তু চালুর তিন মাসের মধ্যেই আসন সংখ্যা কমে ৪৪ নেমে আসে। ফলে ঢাকাগামী যাত্রীরা বড় ধরনের দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীর মধ্যে কমিউটার ট্রেনের মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে আন্তঃসংযোগ দেয়া হলেও আসন সংখ্যা কমানোর কারণে বেকায়দায় পড়েছে যাত্রীরা। এই সংখ্যা নিদেন পক্ষে শতাধিক হলে জনদুর্ভোগ কমত। পাশাপাশি ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রীরা নিরাপদে রাজশাহী পৌঁছলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাত্রীদের জন্য কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই। ফলে ঢাকা থেকে পদ্মায় চেপে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যাত্রীরা রাজশাহী আসার পর চাঁপাই যাওয়ার জন্য একটি কমিউটার ট্রেন দাবি করেছেন।

গাইবান্ধায় মামলা করায় ধর্ষিতা নিরাপত্তাহীনতায়

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ১৭ অক্টোবর ॥ ধর্ষিতা আদালতে মামলা করায় ধর্ষক ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শনিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণ মামলার আসামি সাদা মিয়াসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। এদিকে ধর্ষিতার বিরুদ্ধেও মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়েরের অভিযোগ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা বেগম লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, তিনি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার নিজাল গ্রামের দরিদ্র কৃষক আশরাফ আলীর মেয়ে। ঢাকার গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের বদলাপাড়া গ্রামের মোখলেছুর রহমানের মেয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারী মোর্শেদা বেগমের সঙ্গে খাদিজার মোবাইল ফোনে পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে। এ সখ্যতার সূত্র ধরেই তার ছোট ভাই সাদা মিয়ার সঙ্গে খাদিজা বেগমের মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর সাদা মিয়া খাদিজা বেগমকে একপর্যায়ে বিয়ে করার আশ্বাস দেয়। সেই সূত্রে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোর্শেদা বেগমের যোগসাজশে খাদিজা বেগমকে সাদা মিয়া বিয়ের কথা বলে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে সাদুল্যাপুরের ধাপেরহাট সংলগ্ন বেড়িবাঁধের কাছে ডেকে নিয়ে আসে। এরপর তারা ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে তাকে সহযোগী বন্ধুসহ পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার চিৎকারে পথচারী তারা মিয়া ও মাফু মিয়া এগিয়ে এসে তাকে প্রথমে পলাশবাড়ি হাসপাতালে পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। সুস্থ হয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর খাদিজা বেগম বাদী হয়ে গাইবান্ধা জজ কোর্টে সাদা মিয়া, আমিনুল ইসলাম, মোর্শেদা বেগম ও অজ্ঞাত একজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে।