১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীতে হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রী ভোগান্তি চরমে

রাজধানীতে হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রী ভোগান্তি চরমে
  • বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগে মোবাইল কোর্টের হয়রানিকে দায়ী করেছে শ্রমিকরা;###;বিকেল পাঁচটার পর ফের গাড়ি চলাচল শুরু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দুপুর আড়াইটা। ফার্মগেটে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষ। তারা তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়ানো। কিন্তু রাস্তায় কোন গাড়ি নেই। যে কয়টা আছে সেগুলোও গেটলক। কেউই উঠতে পারছে না। গাড়ির সঙ্কটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। অনেকে আবার উপায় না পেয়ে হেঁটে রওনা দেয়। গণপরিবহন সঙ্কটে যাত্রীরা ভোগান্তি চরমে পৌঁছে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে কয়েক বাস চালককে জরিমানা ও সাজা দেয়ার প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকেই পরিবহন ধর্মঘটে নামে শ্রমিকরা। অবশ্য বিকেল পাঁচটার দিকে আবার গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

যাত্রীরা জানায়, সকাল থেকেই গাড়ির সঙ্কটে পড়েছেন তারা। রাস্তায় কোন গাড়ি না থাকায় তারা তাদের কর্মস্থলে ঠিকমতো পৌঁছতে পারেনি। অনেকের জরুরী কাজ থাকলেও সেখানে পৌঁছতে পারেনি। একজন অসুস্থ ব্যক্তি থাকেন মিরপুরে। সকালে বাসা থেকে বের হয়েছেন শাহবাগের বারডেমে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু বাসা থেকে বের হয়ে দেখেন, রাস্তায় কোন গাড়ি নেই। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে যেখানে সারাদিন গাড়ির জন্য মানুষ চলাফেরা করতে পারে না, সে জায়গা আজ ফাঁকা। ওই ব্যক্তি অনেকটা অবাক হয়ে রিক্সা নিয়ে ফার্মগেটে আসার প্রস্তুতি নেন। কারণ তার ডাক্তার দেখানো খুব জরুরী। ভেবেছিলেন ফার্মগেটে গেলে মনে হয় শাহবাগে যাওয়ার গাড়ি পাবেন। এই আশায় দুপুর প্রায় ১টার দিকে ফার্মগেটে পৌঁছে দেখেন সেখানে অসংখ্য মানুষ দাঁড়ানো কিন্তু রাস্তায় কোন গাড়ি নেই। এমনকি ওই দিকে রিক্সা দিয়ে যাওয়ারও কোন ব্যবস্থা নেই। শেষ পর্যন্ত ডাক্তার না দেখিয়ে আবার ফার্মগেট থেকে মিরপুরের বাসায় ফিরে যান ওই ব্যক্তি।

রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরীতে দেখা গেছে হাতেগোনা কয়েকটি বাস চলাচল করছে। মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মহাখালী, পূরবী, কালশী, বিশ্বরোড, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, শাহবাগসহ বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে শত শত যাত্রী বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু কোন বাস সড়কে পাওয়া যাচ্ছে না। পুরো মিরপুর এলাকায়ই যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

জানা যায়, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত হয়রানি করছে- এমন অভিযোগ এনে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। অফিস ছুটি শেষে গন্তব্যে ফেরার জন্য হাজার হাজার যাত্রী রাস্তায় অপেক্ষা করলেও কোন যানবাহন পাচ্ছেন না। এ দৃশ্য ছিল সকাল থেকে।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি সেলিম উদ্দিন বলেন, আগে থেকে কোন ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই হঠাৎ করে অভিযান শুরু করেছে বিআরটিএ। রবিবার সকাল ১০টায় মিরপুর ১০ নম্বরে নারায়ণগঞ্জগামী হিমাচল পরিবহনে সমস্যা দেখা দিলে গাড়ি থামায় চালক। তখন ভ্রাম্যমাণ আদালত গাড়িতে উঠে কোন কিছু না বলে চালকসহ আরও একজনকে জরিমানা করে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, কিছু গাড়ির কাগজপত্র না থাকলেও অধিকাংশ পরিবহনের কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু আদালত গণহারে জরিমানা আদায় ও মামলা দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এভাবে যখন তখন রাস্তায় গাড়ি আটকানো যাবে না। এমন হলে রাস্তায় একটা গাড়িও ছাড়বে না মালিক সমিতিগুলো। যখন পুলিশ অভিযান চালায় তখন মনির হোসেন নামে হিমাচল বাসের এক কন্ডাক্টরকে মামলা দিয়ে থানায় নিয়ে গেছে আদালত। এর প্রতিবাদেই পরিবহন শ্রমিকরা গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের সবার দাবি, যতক্ষণ পর্যন্ত ওই দুই শ্রমিককে ছাড়া না হবে ততক্ষণ মিরপুর থেকে কোন গাড়ি ছেড়ে যাবে না।

তবে সকাল থেকে গাড়ির সঙ্কট থাকলেও বিকেল পাঁচটা থেকে আবার গাড়ি চলাচল শুরু হয় বলে জানান সেলিম চৌধুরী। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি মেনে নেয়ায় বিকেল পাঁচটা থেকে আবার গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে মিরপুর থানার ডিউটি অফিসার আসিফ ইকবাল বলেন, এটা সামান্য একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। তবে পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। সকাল থেকে ভুল বোঝাবুঝির কারণে গাড়ি না চললেও বিকেল পাঁচটা থেকে আবার স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চলাচল করেছে।