১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জেলে থেকেও ইমনের চাঁদাবাজি, লাশ ফেলার আল্টিমেটাম

জেলে থেকেও ইমনের চাঁদাবাজি, লাশ ফেলার আল্টিমেটাম
  • নির্দেশ পালনে সক্রিয় ৭ ক্যাডার

আজাদ সুলায়মান ॥ কয়েক বছর ধরে জেলে। তারপরও এতটুকু পরিবর্তন ঘটেনি স্বভাব চরিত্রে। সেই আগের মতোই চলছে চাঁদাবাজি-খুনখারাবি, হুমকি-ধমকি। রাজধানীর বিত্তবানদের কাছে এখনও মূর্তিমান আতঙ্ক এই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীর নাম ইমন। কারাগারে অভিশপ্ত বন্দীজীবন থেকেও শিক্ষা নিতে পারছে না ইমন। এটা যেন সেই প্রবাদের মতোইÑ কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না। বছরের পর বছর কারাগারে বন্দী থাকলেও সে অপরাধমুক্ত থাকতে পারছে না। প্রতিনিয়তই অভিযোগ আসছে তার বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ চলতি সপ্তাহেও ইমনের হুমকির শিকার হন গুলশানের এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তার কাছে ফোন করে বার বার চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। না দিলে লাশ ফেলার আল্টিমেটামও দেয়া হয়েছে।

হুমকির শিকার হওয়া এই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ইমন জেলে বসেও দিব্যি চাঁদাবাজি, খুন-খারাবির মতো অপরাধ সংঘটিত করছে। তার নিজস্ব বাহিনীর ৭ জন সুপার ক্যাডার এখন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। ইমনের নির্দেশে তারাই এখন একের এক হত্যাকা- ও চাঁদাবাজিতে সক্রিয়।

ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, গত এক সপ্তাহ ধরে ইমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড পরিচয়ে এক সন্ত্রাসী ফোন করে তার কাছে ৫৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি গুলশানের একটি বাড়ির নির্মাণ কাজে হাত দেয়ার পর থেকেই ফোনে চাঁদা দাবি করা হয়। প্রথমে চাঁদার রেট ছিল ৫৫ লাখ। কিন্তু বার বারই ওই পরিমাণে রাজি না হওয়ায় সেটা কমতে থাকে। এখন সেটা ৫৫ লাখ থেকে ৫ লাখে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, এখন যদি এ ৫ লাখ টাকাও না দেয়া হয় তাহলে পরিণতি খুব ভয়াবহ হবে বলে হুমকি দেয়া হয়।

জানা যায়, তার মতো এমন অনেক ব্যবসায়ী ইমনের চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। রাজধানীর উঠতি শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও ঠিকাদাররাই ইমনের টার্গেট হচ্ছেন। বিশেষ করে হাজারীবাগের ট্যানারি ও ধানম-ি এলাকার প্রতিটি ক্লাব থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা তোলা হচ্ছে ইমনের নামে। তার নিয়োজিত ৭ বিশ্বস্ত সহযোগীর মাধ্যমে কারাগারসহ অন্যান্য সুনির্দিষ্ট ফান্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয় টাকা। এমন অনেক অভিযোগ প্রতিনিয়ত ফাঁস হচ্ছে। প্রাণভয়ে অনেকেই ইমন বাহিনীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ থানা পুলিশেও জানাতে পারছে না।

অপর এক ব্যবসায়ীকেও সপ্তাহখানেক আগে এয়ারটেলের একটি ফোন নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি দেয়া হয়। প্রথমদিন ফোন করা হয় ইমন পরিচয়ে। ৫/৭ লাখ টাকার দরকার বলে ফোনে দাবি করা হয়। কদিন পর আবারও একই নম্বর থেকে ফোনে চাঁদা দাবি করা হয়। এভাবে পর পর তিন দফা চাঁদা দাবি করা হয়।

অপর এক ব্যবসায়ী জনকণ্ঠকে জানান, তার কাছে ইমনের ক্যাডার পরিচয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। ফোনে বলা হয়, ইমন বহুদিন জেলে আছে। বিকাশের মতো তাকেও জামিনে বের করতে হবে। এ জন্য প্রচুর টাকা দরকার। কিছু টাকা দিতেই হবে।

এমন বেশ কজন ব্যবসায়ী জনকণ্ঠকে জানান, ইমন জেলে যাওয়ার পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। জেলে বসে চাঁদা দাবিতে হুমকি দিলে এ নিয়ে তো তদ্বির করারও সুযোগ নেই। বাইরে থাকলে তো অন্তত তার মা স্বনামধন্য চিকিৎসক সুলতানা জাহানের কাছে গিয়ে ছেলের বিরুদ্ধে কিছু বলা যেত। এখন তো সে উপায় নেই। এ জন্যই মুক্ত ইমনের চেয়ে বন্দী ইমন অনেক ভয়ঙ্কর।

ধানম-ির এক বাসিন্দার অভিযোগ, তিনি পেশায় পার্লার ব্যবসায়ী। তার কাছে বার বার ইমনের লোকজন গিয়ে হাজির হয়। জেলে ঠিকমতো টাকা পাঠাতে হবে। জেলে বাদশাহী ও আরাম-আয়েশি জীবন চালাতে গেলে মাসে লাখ লাখ টাকা খরচ লাগে। সম্প্রতি কারা কর্তৃপক্ষ কাশিমপুর কারাগারে ইমনের রুম থেকে একটি বিলাসবহুল টিভি উদ্ধার করে। এতেই প্রমাণ মেলে কারাগারে সে কতটা বিলাসী জীবন কাটাচ্ছে। এ ধরনের উদাহরণ টেনে চাঁদা দাবি করে ব্যবসায়ীদের কাছে ফোন করা হয়। বলা হয়, এ টাকা ছাড়া বসের চলে না। ইমনের নামে এভাবেই টাকা তোলা হয় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে।

অপর এক ব্যবসায়ী রবিবার জনকণ্ঠকে বলেন, ইমনের রাজত্ব আগে সীমিত ছিল শুধু ধানম-ি, মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, জিগাতলা ও আশপাশের এলাকায়। কিন্তু জেলে যাওয়ার পর এখন রাজধানীজুড়ে তার রাজত্ব গড়ে উঠেছে। প্রতিটি এলাকায় রয়েছে তার বাহিনীর দুর্ধর্ষ ক্যাডার।

এরাই সম্প্রতি দুটো চাঞ্চল্যকর হত্যাকা- সংঘটিত করেছে। জেলখানায় বসে ইমন ফোনে নির্দেশ দেয় রাজধানীর হাজারীবাগে একজন ব্যবসায়ীর লাশ ফেলতে। তার নির্দেশ মতে সেই ‘কাম’ হাসিল হয়।

ইমনের ঘনিষ্ঠজনদের মতে, রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের শৌখিন সন্ত্রাসী খ্যাত ইমন কারাগারের ভেতর-বাইরে একই রকম। কারাগারের বাইরে যখন ছিল, খুন করেছে একের পর এক। যখন ভেতরে তখন দিয়েছে খুনের নির্দেশ। মোবাইল ফোনের এমন নির্দেশের পর গত বছর লাশ পড়েছিল হাজারীবাগে। র‌্যাব তার মোবাইল ফোনের কথাবার্তা রেকর্ড করলে বেরিয়ে আসে খুনের নির্দেশের এমন ঘটনা।

স্বনামধন্য চিকিৎসক সুলতানা জাহানের সন্তান ইমন। তার পুরো নাম সানজিদুল ইসলাম ইমন। ধানম-িতে তাদের বাসা। এলাকার বখাটে কিছু ছেলের সঙ্গে মেলামেশা করতে গিয়ে অবৈধ অস্ত্রের সঙ্গে তার পরিচয়। তার শখ হয় নিজের কাছে অস্ত্র রাখার। সেই শখ মেটাতেই টাকা দিয়ে নিত্যনতুন অস্ত্র কিনতে থাকে ইমন। যখন যার কাছে নতুন কোন অস্ত্রের সন্ধান পায়, তাকেই বলে অস্ত্র কিনে দিতে। ধীরে ধীরে তার এই অস্ত্রের ভা-ারের সংবাদ চাউর হয়ে যায় আন্ডারওয়ার্ল্ডে। তার শত্রুও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তাকে টার্গেট করে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটে। এরপরই মূলত ইমন নিজেকে রক্ষায় শখের সেই অস্ত্র হাতে তুলে দেয়।

সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেয়া এই সানজিদুল ইসলাম ইমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করে। তার সন্ত্রাসী কর্মকা- শুরু হয় ১৯৯৩ সালে ধানম-ি এলাকার গালকাটা জব্বার নামে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে। পরে সে হয়ে ওঠে ধানম-ি এলাকার ত্রাস। পর্যায়ক্রমে ইমনের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের পরিধি বিস্তৃত হয় ধানম-ি, মোহাম্মদপুর, রমনা, বাড্ডা, কোতোয়ালি, লালবাগ, উত্তরা, তেজগাঁও ও হাজারীবাগ এলাকায়। তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় ৩০টির বেশি হত্যা মামলা রয়েছে। যার মধ্যে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী ও আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম অশ্রু হত্যাকা- রয়েছে।

এক সময় মোহাম্মদপুরের একটি বাহিনীর সঙ্গে ইমনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ওই বাহিনীর সঙ্গে থেকে হিমেল, পলাশ, মার্ডারসহ বেশ কয়েকটি হত্যাকা-ে জড়িয়ে পড়ে। তারপর ফেরার হতে হয় ইমনকে। আন্ডারওয়ার্ল্ডে তার নিজস্ব বাহিনী গড়ে ওঠে। তার বন্ধু ও সহযোগী মামুনকে নিয়ে গড়ে তোলা এ বাহিনীর নাম হয় ইমন-মামুন গ্রুপ। চাঁদাবাজি, খুনসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তারা। ভাড়াটে হিসেবে তারা খুন-খারাবি শুরু করে। এ বাহিনীর ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত থাকতে হতো আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যসব বাহিনীকে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ইমনকে সমীহ করতেন। তাকে দিয়ে বিভিন্ন কাজ করিয়ে নিতেন। বিশেষ করে দেশের একজন আলোচিত-সমালোচিত বিতর্কিত ব্যবসায়ী যিনি দেশের বাইরে থাকেন, সেই ব্যবসায়ীর অন্যতম ক্যাডার ছিল এই ইমন। তার হয়ে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করেন।

সূত্র জানায়, ইমন বিয়ে করে তার বন্ধুর বোনকে। তার শ্বশুরবাড়ি যশোরে। এমন একটি সময় গেছে, যখন খুন-খারাবি ছাড়া ইমন যেন আর কিছুই ভাবতে পারত না। শ্বশুরবাড়ি যশোর গিয়েও সে খুন করে এসেছে। নিছক পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে তর্কবিতর্কের কারণে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আফতাব আহমেদ হত্যাকা-েও জড়িত এই ইমন। এ ছাড়া কারাবন্দী জোসেফের ভাই টিপুসহ দুই খুনেও ইমন জড়িত।

এমনকি জেলে যাওয়ার পরও থেমে থাকেনি তার কিলিং মিশন। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর দুপুরে হাজারীবাগ তিন মাজার মসজিদের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে হাজারীবাগের ট্যানারি ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন সাত্তারকে হত্যা করা হয়। সাত্তার রাজধানীর ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের অভিযোগ ছিল। এর আগে কারাগারে বসে সাত্তারকে খুন করায় বন্দী শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন। প্রায় এক মাসের পরিকল্পনায় সে ভাড়াটে খুনী ব্যবহার করে এ হত্যাকা- ঘটায়। কারাগারে বসেই ইমন তার সহযোগীদের সঙ্গে দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোনে হত্যাকা-ের ছক আঁকে। ইমন ও তার সহযোগীদের মোবাইল ফোনের কথোপকথনের সূত্র ধরে সাত্তার খুনে ইমনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তা ছাড়া হত্যাকা-ের পর ইমনের সহযোগী বুলু ও মাসুদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে ইমনের পরিকল্পনায় কিভাবে এই হত্যাকা- ঘটেছে তার বিস্তারিত খুলে বলেন বুলু।

সূত্র জানায়, সাত্তার সে সময় বুঝতে পেরেছিলেন তার জীবন হুমকির মধ্যে রয়েছে। এ কারণে তিনি বাড়ি থেকে বাইরে বের হওয়া প্রায় বন্ধ করে দেন। আর এতে অপেক্ষা করতে করতে অস্থির হয়ে পড়ে ইমনের সহযোগীরা। হত্যাকা-ের তিন দিন আগে ইমন কারাগার থেকে কিলিং মিশনের সর্বশেষ নির্দেশ দেয়।

২০০০ সালের শেষ দিকে গ্রেফতার এড়াতে ইমন ভারতে আত্মগোপন করে। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠনের পর দেশে ফেরে ইমন। আবার শুরু হয় তার সন্ত্রাসী তৎপরতা। তবে ২০০৫ সালে র‌্যাবের ক্রসফায়ারের ভয়ে আবার ভারতে পালিয়ে যায় ইমন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের শেষ দিকে সিআইডির সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আরেফের (বর্তমানে পুলিশ সুপার) নেতৃত্বে একটি টিম ইমন, তাজ, ইব্রাহিম, লম্বু সেলিমসহ সাত সন্ত্রাসীকে দেশে ফেরত আনে। এরপর থেকে ইমন কারাগারে রয়েছে। প্রথমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। এখন আছে কাশিমপুর। কিন্তু কয়লা ধুলেও ময়লা যায় নাÑ প্রবাদের মতোই এতটুকু পরিবর্তন ঘটেনি তার স্বভাবের। জেলে বসেই লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি ও খুন-খারাবি করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠছে তার বিরুদ্ধে।

র‌্যাব যা বলছে ॥ এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে র‌্যাব পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জনকণ্ঠকে বলেন, এসব অভিযোগ যে সবই সত্য তা বলা ঠিক হবে না। কারণ প্রায়ই দেখা যায় যে, কারাবন্দী শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে ফোনে চাঁদা চাওয়া হয়। পরে তদন্ত করে দেখা যায় হুমকি দাতা ওই ব্যক্তিরই হয় প্রতিবেশী, না হয় সহকর্মী আর না হয় পরিচিত। তারাই নানা উদ্দেশ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে প্রথমে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে কমতে কমতে একেবারে সামান্য পরিমাণে নেমে আসে।

কারাবন্দী শীর্ষ সন্ত্রাসীরা তো মাঝে মধ্যেই ফোনে চাঁদাবাজি করে বলে প্রায়ই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে র‌্যাবের করণীয় কী প্রশ্ন করা হলে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, আগে দেখতে হবে অভিযোগ সুনির্দিষ্ট কিনা। যেমন কোন্ নম্বর থেকে ফোনে চাঁদা দাবি করা হয়েছে, হুমকিদাতার ভয়েস রেকর্ড করে সেটা খতিয়ে দেখা বা মোবাইল ফোন কল ট্র্যাক করে খতিয়ে দেখা। কারাবন্দী সন্ত্রাসীরাও যদি সত্যি সত্যিই এমন অপরাধ করে সেটাও তদন্ত করার সুযোগ আছে বলেই তো কিছুদিন আগে একই কায়দায় জঙ্গী ধরতে পেরেছে র‌্যাব।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে ধানম-ি থানা ওসি নুরে আজম মিঞা জনকণ্ঠকে বলেন, মাঝে মধ্যে কিছু অভিযোগ আসে। ইমনের নাম না বললেও অন্যভাবে চাঁদা দাবি করে। যেমন বলা হয়, আমার কিছু লোক জেলে আছে তাদের জামিন করাতে হবে। চিকিৎসা করাতে হবে। খরচ লাগবে অনেক। টাকা দিতে হবে। তবে তদন্ত করে দেখা যায় এ সব অভিযোগ ঠিক নয়। ভীতি ছড়ানোর জন্য অনেকেই হয়ত শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে ফায়দা লোটে।