২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

না’গঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষকের নিষ্ঠুরতায় শিশু হাসপাতালে

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিদ্ধিরগঞ্জ, না’গঞ্জ, ১৮ অক্টোবর ॥ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সাইলো রোড এলাকার একটি কওমী মাদ্রাসার এক শিক্ষক সাইফুল ইসলাম খালেদ (১০) নামে এক শিশুছাত্রকে অমানবিকভাবে বেত্রাঘাত করে গুরুতর আহত করেছে। তার পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ওই শিক্ষকের নাম হাফেজ খাইরুল ইসলাম। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ওই ছাত্রের পিতা ইলিয়াছ মিয়া একজন ট্রাকচালক। তারা সিদ্ধিরগঞ্জ বাজারের আমতলী এলাকার তাপসের বাড়ির ভাড়াটিয়া।

জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো রোড এলাকায় অবস্থিত মহিউদ্দিন কওমী মাদ্রাসার কোরআন হেফজ বিভাগের শিশুছাত্র সাইফুল ইসলাম খালেদ ঈদের ছুটি শেষে মাদ্রাসা খোলার ৬ দিন পর উপস্থিত হয়। এছাড়াও শনিবার সে মাদ্রাসায় এসে আবারও কাউকে কিছু না বলে বাসায় চলে যায়। পরে রাতে সে আবার মাদ্রাসায় ফিরে এলে একই মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ খাইরুল ইসলাম তাকে বেত্রাঘাত করে। তার পুরো শরীরে আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। ঘটনার পর স্বজনরা সিদ্ধিরগঞ্জ বাজারে একটি ফার্মেসিতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এলে স্থানীয় লোকজন ওই শিক্ষকের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে। পরে ওই ছাত্রকে স্থানীয় সুগন্ধা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মহিউদ্দিন কওমী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আবুল হাসনাত ঘটনাটি স্বীকার করে জানান, শিক্ষক খাইরুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আহত ছাত্রকে আমরাই সুগন্ধা হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছি। তবে ওই ছাত্রের পিতা ইলিয়াছ মিয়া মুঠোফোনে জানান, তিনি এখন চট্টগ্রামে আছেন। ঘটনাটি তাকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষক ছাত্রকে মেরেছে, কী আর করার আছে। এ নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি না করাই ভাল। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বাবুল জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে ওই মাদ্রাসায় প্রায়ই ছাত্রদের বেত্রাঘাত করা হয়। এর প্রতিকার হওয়া উচিত।