২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই ঘন্টায়    
ADS

বান্দরবানে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের দফায় দফায় গোলাগুলি

  • গ্রাম পুলিশ নিহত আহত ২

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান, ১৮ অক্টোবর ॥ বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলায় অপহৃত গাইডসহ দুই পর্যটক উদ্ধার অভিযানে যৌথবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আর এ ঘটনায় একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য নিহত ও দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে জেলার রুমা সীমান্তে যৌথবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে। গোলাগুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সেনাক্যাম্পে দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ মেচং ম্রো। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন সেনা সদস্য ২৯ বীরের সৈনিক কাশেম ও আনসারের সিপাহী হান্নান। তাদের উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে দ্রুত চট্টগ্রাম সিএমএইচে পাঠানো হয়। এ সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বান্দরবানের রুমা জোনের স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট রাফি জানান, গোলাগুলির ঘটনায় শক্তি বৃদ্ধির জন্য সদর জোন থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঘটনাস্থলে সৈন্য তলব করা হয়েছে। আর এ ঘটনার পর বান্দরবান সদর জোন থেকে অন্তত সাতবার হেলিকপ্টারযোগে জেলার রুমা সীমান্তে বাড়তি সৈন্য পাঠানো হয়।

গত ৩ অক্টোবর জেলার রুমার রাইক্ষ্যং পুকুরপাড়ার কাছ থেকে অপহৃত হন ঢাকার মিরপুরের পর্যটক জাকির মুন্না ও আবদুল্লাহ আল জুবায়ের এবং তাদের গাইড মাংসাই ম্রো। এ সময় অপহরণকারীরা নিজেদের আরকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি) পরিচয় দিয়ে অর্ধ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। জেলায় পর্যটন শিল্প বিকাশের পর পর্যটক অপহরণের ঘটনা এই প্রথম হওয়ায় জেলার প্রশাসনজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর আদলে পোশাক পরিহিত ১০ জনের এএলপির (আরকান লিবারেশন পার্টি) একটি সশস্ত্র দল তাদের অপহরণ করে রাখা হয়েছে রাঙামাটির বিলাইছড়ি সীমান্তের গহীন অরণ্যে। অপহরণের পর অপহৃত গাইডের ভাই পাসিং ম্রোকে ফোন করে সশস্ত্র গ্রুপটি অর্ধ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এরপর গাইড মাংসাই ম্রোর বড়ভাই প্রাচিং ম্রোসহ ৪ জনপ্রতিনিধি একটি প্রতিনিধি অপহৃতদের উদ্ধারে আরকান লিবারেশন পার্টির নেতাদের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় দেখা করলে তারা অপহরণের সঙ্গে কোনভাবেই জড়িত নয় বলে দাবি করে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বান্দরবানের সেক্টর কমান্ডার অলিউর রহমান জানান, অপহরণের ঘটনায় গত ১৩ অক্টোবর গাইড মাংসাই ম্রোর বড়ভাই প্রাচিং ম্রো, বড়তলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য অন চন্দ্র ত্রিপুরা, স্থানীয় বাসিন্দা মেনচং ম্রো ও জয়পাল বড়ুয়াকে যৌথবাহিনী ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে।

আরও জানা যায়, পর্যটকদের খোঁজে বিজিবির পক্ষ থেকে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে যে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বিএসএফ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি কর্মকর্তা অলিউর রহমান।

অপহরণের পর থেকে পর্যটকদের খোঁজে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথবাহিনীর সাতটি টহল দল রুমার দুর্গম এলাকায় অভিযান চালায়। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। রুমায় দফায় দফায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকালে পর্যটক উদ্ধার অভিযানে রুমার তাংজং পাড়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় যৌথবাহিনী ১টি মার্ক টু-এসকে রাইফেল, ১টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ৩টি ম্যাগাজিন, ১টি ওয়াকিটকি ও ২২০ রাউন্ড গুলি ও সন্ত্রাসীদের পোশাক উদ্ধার করে।