১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, প্রস্তুত থাকছে হেলিকপ্টারও

দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, প্রস্তুত থাকছে হেলিকপ্টারও
  • প্রতিমা বিসর্জন ও তাজিয়া মিছিল আলাদা আলাদ রাস্তায় করার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসবে সর্বসাধারণের মতো বিদেশীরাও নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবেন। আতঙ্কিত হওয়ার ন্যূনতম কোন কারণ নেই। বিদেশীদের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিদেশীরা স্বেচ্ছায় নিরাপত্তা না চাইলেও তাদের নিরাপদে দুর্গোৎসব উপভোগ করতে সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আজ থেকে শুরু হওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দুদের সবচেয়ে বড় এই অনুষ্ঠান আগামী ২৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীর (বিসর্জন) মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে। জুমার নামাজ ও দুর্গোৎসব নির্বিঘœ করতে এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন ও তাজিয়া মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রবিবার ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন। তিনি আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগম বেশি হয় এমন পুজোম-পগুলোতে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর, হ্যান্ড মেটালডিটেক্টর, পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা, অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, বাড়তি গোয়েন্দা নজরদারি, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাসহ নিরাপত্তামূলক নানা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইভটিজিং, পকেটমারসহ যে কোন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে থাকছে বাড়তি নজরদারি ও চেকিং ব্যবস্থা। ঢাকায় ২২২টি ম-পে পুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব ম-পে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সিসি ক্যামেরা মনিটরিং করতে বসানো হয়েছে কন্ট্রোলরুম। ম-পগুলোতে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট তল্লাশি চালাবে। যানজট নিরসনে ম-পে আগত পুণ্যার্থীদের যানবাহন রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপাসনালয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার আলাদা আলাদা রাস্তা নির্ধারিত রয়েছে। এসব রাস্তায় চেকপোস্ট থাকছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও বস্তুতে তল্লাশি চালানো হবে।

প্রতিবারের মতো এবারও অধিকাংশ প্রতিমাই বিসর্জন দেয়া হচ্ছে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর ওয়াইজঘাট ও আশুলিয়ার বিআইডব্লিউটিএ-এর ল্যান্ডিং ঘাটে। এসব এলাকায় ওয়াচ টাওয়ার থেকে বিসর্জনের সময় সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে। বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দিয়ে এসব জায়গায় তল্লাশি চালানো হবে। থাকছে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। আপদকালীন মুহূর্ত মোকাবেলায় হেলিকপ্টার প্রস্তুত থাকছে। থাকছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডুবুরি। যাতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় কেউ ডুবে গেলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রতিমা বিসর্জনের দিন রাস্তা, জলাশয়, খাল ও নদী-ঘাটসমূহে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ও নৌ টহল অব্যাহত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, দুর্গোৎসবের বিসর্জন ও মহরমের তাজিয়া মিছিল একই দিন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ জন্য বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন এবং তাজিয়া মিছিল আলাদা আলাদা রাস্তায় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার। এদিন জুমার নামাজ ও অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে ঢাকায় দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিজয়া দশমী ও তাজিয়া মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দুপুর ২টার পর থেকে আলাদা আলাদা রাস্তায় বিজয়া দশমী এবং তাজিয়া মিছিল হবে। ইতোমধ্যেই শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমানদের তাজিয়া মিছিল যে এলাকা থেকে বের হবে, সে সব এলাকার আশপাশেই করতে বলা হয়েছে। মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও পুরান ঢাকার হোসনীদালান এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি তাজিয়া মিছিল বের হওয়ার কথা জানা গেছে। তাজিয়া মিছিল দ্রুত শেষ করার বিষয়েও শিয়া সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করা হয়েছে। আর সূর্যাস্তের আগে প্রতিমা বিসর্জন শেষ করতে পুজো কমিটিকে অনুরোধ করা হয়েছে।