২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতীয় জালনোট পাচারের ট্রানজিট রুট বাংলাদেশ

  • গত দু’বছরে উদ্ধার হয়েছে ২৩ কোটি টাকার জালনোট;###;পাকিস্তানে তৈরি এসব নোট দুবাই হয়ে আসে ঢাকা ও চট্টগ্রামে

শংকর কুমার দে ॥ বাংলাদেশকে ভারতীয় জালনোট পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের করাচীতে তৈরি ভারতীয় জালনোট দুবাই হয়ে বাংলাদেশের ঢাকা ও চট্টগ্রামের পথ দিয়ে ভারতে পাচার হচ্ছে। ভারতীয় জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ’র হিসাব অনুযায়ী, গত ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পৌনে দু’বছরে বাংলাদেশে উদ্ধার করা হয়েছে ২৩ কোটি টাকার ভারতীয় জালনোট। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের জালনোট পাচার চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী মাসে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ’র তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের পুলিশ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ প্রদানের কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পাকিস্তান যাতে ভারতের জালনোট পাচার না করতে পারে সেজন্য ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনায় ঐকমত্য পোষণ ও কী ধরনের কর্মসূচী গ্রহণ করা যায় সে বিষয়ে কৌশলী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের জালনোট পাচার মোকাবেলায় ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ’র তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের পুলিশ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। পাকিস্তানে যে ধরনের ভারতের নোট জাল করা হচ্ছে তার গুণগতমান খুবই উন্নত, যা ভারতের পুলিশ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরাও সাদা চোখে তো দূরের কথা পরীক্ষা করেও ধরতে হিমশিম খাচ্ছেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পুলিশ কিংবা ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা চিনতেই পারছেন না। এনআইএ’র কলকাতার এসপি বিক্রম খলাটের নেতৃত্বে গোয়েন্দাদের একটি দল এ বিষয়ে বিশদ খোঁজ নিতে ঢাকায় এসে আলোচনা করে গেছেন। আলোচনা করে তারা জানতে পেরেছেন, করাচী থেকে দুবাই হয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পথকে ভারতীয় জালনোট পাচারের জন্য বেছে নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের পুলিশ ও গোয়েন্দাদের জাল ভারতীয় নোট চিনতে সে দেশে অবস্থিত বিভিন্ন ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখার কর্মী-অফিসারদের ওপরই মূলত নির্ভর করতে হয়। হাতেগোনা কয়েকজন পুলিশ অফিসারই জাল ভারতীয় নোট চিহ্নিত করতে পারেন। কিন্তু এটাই আরও বিস্তারিত আকারে করতে পুলিশকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি’র সূত্রের দাবি, ২০১৪-এর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২৩ কোটি টাকার ভারতীয় জালনোট উদ্ধার করা হয়েছে বাংলাদেশে। গত ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে দুই কোটি ৭১ লাখ টাকার জাল ভারতীয় নোট ধরা পড়েছে। তার দু’দিন পর ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছানো এক ব্যক্তির কাছে পাওয়া যায় আরও এক কোটি ২৮ লাখ টাকার জাল ভারতীয় নোট। ভারতীয় জাল টাকা বাংলাদেশে কোন নাগরিকের কাছে পাওয়া গেলে পুলিশের সন্দেহ হয় ঠিকই। অস্বাভাবিক পরিমাণে বিদেশী মুদ্রা রাখার অভিযোগে মামলাও হয়। কিন্তু ওই অভিযুক্তরা সহজেই জামিন পেয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানায়, ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলো আগে সন্দেহ করত যে, ভারতে যেসব জালনোট ঢুকছে তা বাংলাদেশেই তৈরি করা হতো। এই সন্দেহ দূর করতে দুই দেশের গোয়েন্দাদেরই তদন্তে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র সচিব কিংবা বিজিবিপ্রধান ভারত সফরে গিয়ে বলেছেন, যে জালনোটগুলো বাংলাদেশে ঢুকছে সেগুলো আমাদের দেশে তৈরি নয় তা নিশ্চিত। কিন্তু কোথায় তৈরি হচ্ছে তা বলা মুশকিল! তারপরই ঢাকায় আসে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ’র প্রতিনিধি দল। তারা ঢাকায় এসে তদন্ত করে গেছেন।