১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চিনিকল বাঁচাতে সঠিক পদক্ষেপ প্রয়োজন

তৌহিদ আক্তার পান্না, ঈশ্বরদী ॥ অতিরিক্ত জনবল ও মাথাভারি প্রশাসন, পুরাতন যন্ত্রপাতি দিয়ে আখমাড়াই, সঠিক সময়ে কৃষকদের পরামর্শ সহযোগিতা প্রদানে ব্যর্থ হওয়া এবং অস্বচ্ছতার কারণে পাবনা ও নর্থ বেঙ্গল চিনিমিলসহ দেশের লোকসানী ১৫টি চিনিমিলকে বাঁচানোর জন্য সরকারীভাবে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। একইভাবে পাকশী কাগজকলটিও সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে বন্ধ হয়ে বেসরকারী কাগজকল মালিকদের ব্যবসার পরিবেশ প্রশস্ত করেছে। কাগজ ব্যবহারকারী দেশবাসীদের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরকারের অব্যাহতভাবে মোটা অংকের লোকসান গোনার পরিবেশ বিস্তৃত হয়েছে। পক্ষান্তরে বেসরকারী কাগজকল মালিক ও র-সুগার আমদানিকারকদের শ’ শ’ কোটি টাকা আয়ের পথ নিষ্কণ্টক হয়েছে। বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও উন্নয়নমুখী সরকারের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক জরুরী ভিত্তিতে ১৫ চিনিমিল ও পাকশী পেপার মিলকে বাঁচাতে এখনই সঠিক ও প্রয়োজনীয় বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

বিশেজ্ঞদের মতে, চিনিকল ও পেপার মিলকে বাঁচাতে এবং দেশবাসীর কল্যাণে কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা খুবই জরুরী। বাংলাদেশের পেক্ষাপটে কাগজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর জন্য যথোপযুক্ত পরিকল্পনা না থাকায় জাতীয় পর্যায়ে সেল গঠন করা অত্যন্ত জরুরী। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশী ও বিদেশী উপদেষ্টা নিয়োগ করতে হবে। দেশের লোকসানী চিনিমিলগুলোকে রক্ষা, আখচাষীদের ভাগ্যোন্নয়ন এবং সরকারকে আর্থিক উন্নয়ন বৃদ্ধি করতে মূল্যবান বাই-প্রডাক্ট ব্যগাসকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থে প্রত্যেক চিনিমিলে বয়লার চালানোর জন্য গ্যাস সংযোগ প্রদান বা কয়লাভিত্তিক জ্বালানি বয়লার স্থাপন করা প্রয়োজন। উন্নতমানের আখ চাষের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। চিনিমিলগুলোতে অপরিপক্ব আখমাড়াই কঠোরভাবে বন্ধ করা দরকার। উন্নœতমানের সিঙ্গেল ক্রাসিংয়ের ব্যবহার করা দরকার। কাঁচামাল ব্যগাস পরিবহনের খরচ বাঁচাতে এবং ব্যগাস পরিবহন বন্ধ করতে প্রত্যেক চিনিমিলে ছোট ছোট ব্যগাসভিত্তিক পাল্প ও পেপার মিল স্থাপন করতে হবে। যাতে একই পাওয়ার প্লান্ট, বয়লার, ওয়াটার প্লান্ট ও রিপিয়ারিং ওয়ার্কশপ চিনিমিল, পাল্প ও পেপার মিল ব্যবহার করতে পারে। যেহেতু চিনিমিল মাত্র ছয় মাস চালু থাকে আর ছয় মাস বন্ধ থাকে। সেক্ষেত্রে পাল্প ও পেপার মিল চিনিমিলের সঙ্গে থাকলে সারা বছরই মিলটি চালু থাকবে। ব্যগাস স্বল্পতা হলে সাময়িকভাবে গ্রীন জুট ব্যবহার করা যাবে। রিসাইকেল পেপার, বিদেশী পাল্প ও হোয়াইট কাটিং ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে মিলের জনবলের সুষ্ঠু ব্যবহার ও প্রাকটিভিটি বৃদ্ধি হবে। প্রত্যেক চিনিমিলে ছোট ছোট পাল্প ও পেপার মিল স্থাপন করা হলে দেশের প্রত্যেক জেলায় স্বল্প পরিবহন খরচে কাগজ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। দেশের চিনি শিল্প ও সরকারকে ব্যবসায়ীদের শুভঙ্করের ফাঁকি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বিদেশ থেকে র-সুগার আমদানি বন্ধ করতে হবে। র-সুগার আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ট্যাক্স দিয়ে থাকে কিন্তু ফাইনাল প্রডাক্ট চিনি হিসেবে আমদানি করা হলে দ্বিগুণ ট্যাক্স দিতে হতো।