২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাগেরহাটে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ

  • অল্প জমিতে অধিক উৎপাদন

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ সনাতন পদ্ধতিকে পেছনে ফেলে বাগেরহাটে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে অধিক উৎপাদনে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা। অল্প জমিতে অধিক উৎপাদনের ফলে দিন দিন এই চাষ পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ছে বলে জানান তারা। তবে সরকারী সহায়তা পেলে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহারে আগ্রহী হবেন চাষীরা। মৎস্য বিভাগ বলছে, এর পদ্ধতির ফলে চিংড়ির উপযোগী গুণগত মান সম্পন্নের পাশাপাশি এ খাত থেকে বছরে অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

প্রযুক্তির মাধ্যমে অক্সিজেন, ওষুধ ও খাবার সরবরাহের কারণে সম্পূর্ণ ভাইরাসের ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় পদ্ধতিটি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ চাষের তুলনায় মুনাফার পরিমাণ অধিক হওয়ায় পার্শ¦বর্তী কয়েকটি জেলায়ও এ পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে বাগেরহাটে সদর উপজেলার খাড়াসম্বল এলাকায় তিন বছর ধরে ৪০ একর জায়গায় ২২টি পুকুর খনন করে ১৮টি পুকুরে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ শুরু করে ফাহিম এ্যাকোয়া পার্ক নামের একটি প্রতিষ্ঠান। একরপ্রতি যেখানে সনাতন পদ্ধতিতে উৎপাদন ছিল দুই থেকে আড়াই শ’ কেজি চিংড়ি সেখানে বর্তমানে এই আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষে একরপ্রতি উৎপাদন হচ্ছে ২৫০০-৩০০০ কেজি। চাষের ধারাবাহিকতায় বাগদা চিংড়ি উৎপাদন ও বিপণন করে প্রতিষ্ঠানটি দেশে-বিদেশে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। এমনকি এ পদ্ধতির চিংড়ি বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের সফলতা দেখায় পার্শ¦বর্তী চিংড়িচাষীরা আধা নিবিড় পদ্ধতিতে বাগদার চাষ শুরু করেছে। ফাহিম এ্যাকোয়া পার্ক প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ হাসান পান্না বলেন, সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে চিংড়ি উৎপাদন করে সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। আধা নিবিড় পদ্ধতির চাষে তাদের প্রকল্পে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ হাজার কেজি বাগদা উৎপাদন হয়। এ প্রকল্পে উৎপাদিত ৪৫ হাজার কেজি চিংড়ি ২০১৪ সালে বিদেশে রফতানি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ডের সিপি গ্রুপের টেকনিক্যাল সাপোর্ট থাকায় চিংড়িতে ভাইরাসজনিত কোন সমস্যা দেখা দেয় না। চিংড়ির খাদ্য, রাসায়নিক পদার্থ ও যাবতীয় ওষুধপত্র সিপি গ্রুপ সরবরাহ করে থাকে। বর্তমানে প্রান্তি কালচার প্রকল্পে ৩০ জন কর্মরত রয়েছেন। বছরে ২ বার এই চাষ করে একরপ্রতি প্রায় ২০-২৫ লাখ টাকা লাভ হচ্ছে বলে জানান তারা। তবে এই উৎপাদনের পেছনে একরপ্রতি ৭-৮ লাখ টাকা পুঁজি খাটাতে হচ্ছে। তবে ক্ষুদ্রচাষীদের ক্ষেত্রে এই চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়নে সরকারের সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তির সুবিধা নিশ্চিতের দাবি চাষীদের। এছাড়া কয়রা, সাতক্ষীরা ও বটিয়াঘাটা এলাকায়ও তাদের আরও কয়েকটি প্রকল্পে একইভাবে বাগদা উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ প্রকল্পের সহযোগিতা ও সাপোর্ট পেয়ে পার্শ¦বর্তী আরও কয়েকটি ছোট ও মাঝারি প্রকল্প গড়ে উঠেছে। তারাও বাগদা চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন।