১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দারিদ্র্য কমেছে

সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপে ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার হ্রাস পাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ মূল্যায়নও বলছে, অতি দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো অনেক দূর এগিয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দারিদ্র্য কমেছে এবং মানব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশটির অগ্রগতি হচ্ছে। ২০১৫ সালে এই অঞ্চলে অতি দরিদ্র লোকের সংখ্যা ১৩.৫ শতাংশ কমবে। ২০৩০ সালের মধ্যে অতি দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্য অর্জনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। দেশে দারিদ্র্যের হার এখন ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ। অতি দারিদ্র্য ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। মানুষের আয়-ব্যয়, ভোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ দারিদ্র্য পরিস্থিতির পর্যালোচনায় এই তথ্য উঠে আসে। দুটি কারণে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনে এই সাফল্য পেয়েছে। একটি শ্রমের মজুরি বৃদ্ধি। অন্যটি জনসংখ্যার প্রকৃতিতে পরিবর্তন। তবে অতি দারিদ্র্য বিমোচনে অসাধারণ সাফল্যের মূল কারণ মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি। এর বাইরে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী ২০০০ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০০৫ সালে কমে দাঁড়ায় ৪০ শতাংশে। ২০১০ সালে আরও কমে হয় ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। এই জরিপের ভিত্তিতে পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক্কলন হলো, ২০১৫ সালে দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ। আর অতি দারিদ্র্যের হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। ধারাবাহিক এই অগ্রগতি বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য কম গৌরবের নয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ যে অতি দরিদ্র্যতা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে, তাদের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে, তা যথেষ্ট ইতিবাচক দিক।

বিশ্বে চরম দরিদ্র ৭০ কোটি মানুষ। আমাদের দেশে এখনও প্রায় ৪ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে। এর মধ্যে চরম দরিদ্রের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ৮০ শতাংশ মানুষ ছিল দরিদ্র। এখন অবশ্য সে অবস্থা নেই। সত্তর ও আশির দশকের তুলনায় পরবর্তী সময়ে দারিদ্র্য কমেছে বেশি হারে। গত ১৫ বছরে দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নেমেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অনুসারে ২০১৫ সালের টার্গেট তিন বছর আগেই অর্জন করে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই এমডিজি অর্জনে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূলকরণ, সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা, জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুমৃত্যু হার কমানো, মাতৃ স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, এইচআইভি-এইডস ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ সাফল্যজনক অগ্রগতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে নিজেদের স্বাবলম্বী হওয়ার মধ্য দিয়ে। দেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। যে সংস্থাটি আজ সার্টিফিকেট দিচ্ছে সেই বিশ্বব্যাংক ঋণ প্রত্যাহারের পরও পদ্মা সেতুর মতো বিশাল প্রকল্প বাংলাদেশ নিজের চেষ্টায় এগিয়ে নিচ্ছে। যোগাযোগসহ গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন এগিয়ে চলেছে নিজেদের প্রচেষ্টায়।

বাংলাদেশের ইতিবাচকভাবে এই বদলে যাওয়া অন্যান্য দেশের জন্য ঈর্ষণীয়। এখন টেকসই অর্থনীতি, টেকসই সমাজ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ২০৩০ সালের মধ্যে লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে সরকারকে। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের অগ্রগতিকে বার বার ব্যাহত করতে চাইলেও দেশের মানুষ নিজ প্রচেষ্টায় তা রোধ করেছে। এদেশের মাটি উর্বর, এদেশের মানুষ পরিশ্রমী এই বিশ্বাস থেকে বলা যায় এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। দেশ একদিন সম্পূর্ণ দারিদ্র্যমুক্ত হবে এটা এখন শুধু স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা।