২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দখল বাণিজ্য

কত বিচিত্র উপায়ে এবং বিবিধ ক্ষেত্রেই না দখলের ঘটনা ঘটে চলেছে, তার বিবরণ জানলে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হতে হয়। প্রতিটি দখলের পেছনেই থাকে একেকজন খলনায়ক। বিল নদী-নালা দখল করে রমরমা বাণিজ্য কেন্দ্র খুলে বসার তুঘলকি সব কা-কারখানা খবরের কাগজে মাঝে মাঝেই প্রকাশিত হয়। রাজধানীর ফুটপাথ দখল করে বিচিত্র সব ব্যবসা ফেঁদে বসার সংবাদও কম মেলে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছুদিন তৎপর থাকে, তারপর একই অবস্থা। রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের অধীনে থাকা অর্ধশতাধিক পার্কের বেশিরভাগই বর্তমানে বেদখল। জমি দখলের পাশাপাশি চলছে বন দখলও। মধুপুর জাতীয় উদ্যানের গাছকেটে বন দখলের পাশাপাশি উদ্যানের ভেতর বাইরে বাড়ছে আনারস আর কলার বাগান। বন রক্ষায় কিছুটা সচেতনতা বাড়লেও নানা কৌশলে চলছে বন দখল। সম্প্রতি পত্রিকান্তরে প্রকাশিত ডিসিসির হাজার কোটি টাকার জমি দখল করে ব্যবসা করা সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি পড়লে হতবাক হতে হয়। রাজধানীর বিশাল এলাকাজুড়ে চলছে ইট-বালুর ব্যবসা। শত শত ব্যবসায়ী ছোট গদিঘর তুলে জমিয়ে ব্যবসা ফেঁদেছেন। জমির মালিক হওয়া সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণ নেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি)। স্থানীয় কাউন্সিলরসহ প্রভাবশালী মহল সেটি দখল করে মামলা- মোকদ্দমার জাল বিছিয়ে বছরের পর বছর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইট-বালু ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। শুধু উত্তর নয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনেরও অনেক জায়গা এভাবে বেদখল হয়ে গেছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র খোলাখুলি বলেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অনেক সম্পত্তি বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন। গাবতলীতে একটি আন্তর্জাতিকমানের পশু জবাইখানা করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের যে জায়গার কথা ভাবা হচ্ছে তাও বেদখল হয়ে আছে।

অবৈধ দখলদারদের ক্ষমতার উৎস কী? এ জিজ্ঞাসার জবাব খুঁজতে গেলে বেরিয়ে আসে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কথা। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তখন সে দলেরই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা চালু রাখে দখল বাণিজ্য। সরকারী জমি জবরদখল করা একটি অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। এসব দখলদারের জন্য সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে তার অপরাধমূলক কর্মকা-কে আমলে নিয়ে স্বাভাবিক আইনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অন্যায়ের সুরাহা করা গেলে তা শুভ ফলই বয়ে আনবে। তবে সব কিছুর আগে সরকারী সম্পত্তি দখলমুক্ত করা চাই। এজন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী। আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাবতীয় দখল তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া