২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই ঘন্টায়    
ADS

জমিদারদের শহর নড়াইল

বাংলাদেশের একটি ছোট সমৃদ্ধ জেলার নাম নড়াইল। এ জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। জেলাটি মাত্র ৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত? নড়াইল সদর, কালিয়া আর লোহাগড়া। নড়াইল জেলাটি আকার আয়তনে ছোট হলেও এখানে কালে কালে জন্ম নিয়েছেন বহু কৃতী সন্তান। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান, নৃত্যশিল্পী উদয়শংকর, অমর ঔপন্যাসিক ডাঃ নীহাররঞ্জন গুপ্ত। এই জনপদে প্রভাবশালী পরিবারের বসতি ছিল। নড়াইল জমিদার-পরিবারের নামানুসারেই নাম হয়েছে ‘নড়াইল’। এ জেলার আয়তন ৯৬৭.৯৯ বর্গকিলোমিটার।

লোহাগড়ার ‘নিরিবিলি’ স্পটটি দেখার মতো। নড়াইলে রয়েছে কবিয়াল তারক গোঁসাইয়ের তীর্থস্থান। চিত্রা নদী পার হলেই এসএম সুলতানের স্বপ্নের ‘শিশু স্বর্গ’ ও আর্ট গ্যালারি। এর কাছেই দেখবেন প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী ও নৃত্য পরিচালক উদয়শংকরের বাড়িটি। সুলতান মাজার কমপ্লেক্স, সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা ভবনও ঘুরে দেখুন। নড়াইল শহরে রয়েছে জমিদারবাড়ি, ভিক্টোরিয়া কলেজ।

নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ ভবন দেখে অতীত যুগে ফিরে যাবেন হয়তোবা। নড়াইলের জমিদার রতন রায় ১৮৫৭ সালে নড়াইল কলেজিয়েট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এ স্কুলভবনই এখন নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ। মহারানী ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে এ নামকরণ করা হয়।

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৩ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল শহরের পাশেই মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এস এম সুলতানের ডাকনাম ছিল লালমিয়া। স্থানীয় ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট হাইস্কুলে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৩৮ সালে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে কলকাতায় গেলেন। সুলতান ১৯৪১ সাল থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত কলকাতা আর্ট কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ পর্যন্ত ইউরোপ ও আমেরিকায় অবস্থান করে নিজের আঁকা ছবি নিয়ে প্রদর্শনীতে অংশ নেন। দেশে ফিরে আসেন ১৯৫৪ সালে। ১৯৮২ সালে তিনি ‘একুশে পদক’ পান। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর এস এম সুলতান দেহত্যাগ করেন।

মধুমতি, চিত্রা, নবগঙ্গা, ভৈরব ও কাজলা নদী বয়ে গেছে নড়াইল জেলার অভ্যন্তর থেকে। এই নদীগুলো নড়াইলকে করেছে সবুজ-শ্যামল। চাঁচুড়িসহ কয়েকটি বিল ও বাঁওড় রয়েছে নড়াইলে। নড়াইল জেলার গোয়ালবাথান গ্রামের মসজিদ, কদমতলার মসজিদ, নলদীর গাজীর দরগাহ, উজিরপুর রাজা কেশব রায়ের বাড়ি, জোড়বাংলা, রাধাগোবিন্দ মন্দির, লক্ষ্মীপাশার কালীবাড়ি, নিশিনাথতলা বড়দিয়ার মঠ? এসব প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রতœসম্পদ আপনার দুনয়ন ভরিয়ে দেবে। এসব নিদর্শনাদি দেখতে যাওয়ার পথগুলোও মনোরম। কিছুদূর পর পর রয়েছে পথের বাঁক? সেখানে শুনবেন কত-না পাখির ডাক। ‘বউ কথা কও’ পাখির ডাক শুনে মন হারিয়ে যাবে। নড়াইলের গ্রামে বেড়াতে গিয়ে দেখবেন আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, জাম, নারিকেল, সুপারির বাগান। বাগবাগিচায় ভরপুর নড়াইলে বেড়াতে এসে কয়েকদিন থাকতে মন চাইবে। অপরূপ এ নড়াইলে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলবেন পর্যটন কর্পোরেশন- এখন এই প্রত্যাশায়।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা

লন্ডন ষড়যন্ত্র

ক্ষুধার জ্বালা নয়Ñ এ যেন মনের জ্বালা! যেন প্রতিহিংসা। দেশে জনগণের প্রশ্ন মেজর জিয়া ক্যু করে ক্ষমতায় এসে হাঁ বা না ভোটে ভোটারবিহীন নির্বাচনে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করেন। বিএনপি নামক দলটি ক্ষমতায় থেকে ইনডেমনিটি নামক কালো আইন তৈরি করে সকল হত্যার বিচার বন্ধ করে দেয়। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থেকে অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ চালিয়েছেন। তার কাফফারা হিসেবে জনগণের ভোটে পরাজিত হয়ে বর্তমানে আবোল-তাবোল বকছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রত্যাখ্যান করে এবং অপরাধীদের পক্ষ সমর্থন করে খালেদা জিয়া এখন লন্ডনে বসে ক্ষমতায় যেতে নিত্যনতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বেগম খালেদা জিয়া তথা বিএনপি বাংলাদেশকে স্বীকার করেন না। দেশবিরোধীদের নিয়ে দেশ ধ্বংসের খেলায় মেতেছেন। তার সেই খেলার সঙ্গে তার পুত্র তারেক রহমান প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। লন্ডন ষড়যন্ত্র করছেন তিনি। খালেদা-তারেক লন্ডনে বসে মনে করছেন কোন এক অদৃশ্য শক্তি তাদের অলৌকিক ক্ষমতাগুণে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবেন। ভাবতে অবাক লাগে তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে কেউ কাউকে ক্ষমতার মসনদে বসিয়ে দিতে পারে না। লন্ডনে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী তারেক রহমান দেশে আসুন। দেশে এসে জাতির পিতার বিরুদ্ধে কথা বলু। প্রমাণ হবে কত ধানে কত চাল। মনে রাখবেন, বাংলাদেশে রাজার শাসন শেষ। প্রজার শাসন চলমান।

মেছের আলী

শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ