২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভূমি কেনাবেচায় চরম ভোগান্তি

  • চট্টগ্রামে রেজিস্ট্রি, মিউটেশন ও জরিপ যেন একেকটি ফাঁদ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ ২০১২ সালে প্রবাসী টিপু সুলতান জনৈক খালেদ মাহমুদ থেকে চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদ-ী মৌজার ১০ শতক জায়গা কিনেন। ২০ শতক দাগের অর্ধাংশ এ জায়গা কিনে খালি অবস্থায় রেখে তিনি ওই বছর বিদেশ চলে যান। চলতি বছর বিদেশ থেকে এসে ওই জায়গাটি দখল করতে যান টিপু সুলতান। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন রফিক আহমদ নামে এক ব্যক্তি জায়গাটি দখলে নিয়ে স্থাপনা তৈরি করে রেখেছেন। খোঁজ নিয়ে টিপু সুলতান জানতে পারেন তিনি বিদেশ থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালে খালেদ মাহমুদের ভাই সুজন মাহমুদ জায়গার ওপর সাংঘর্ষিক হাতনক্সা উল্লেখ করে জায়গাটি রফিক আহমদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। রফিক আহমদের কাছে ওই জায়গার রেজিস্ট্র্রি দলিল, নামজারি খতিয়ান, সংশোধিত সিটের কাগজপত্রও রয়েছে। দলিল রেজিস্ট্রি নেয়ার পর টিপু সুলতান ভূমি অফিসে তার নামে পৃথক নামজারি খতিয়ান তৈরি ও জরিপ অফিসে দাগ সংশোধন না করায় ভূমি অফিস ও জরিপ অফিস বিষয়টি জানত না। তাই খালেদ মাহমুদের ভাই সুজন খুব সহজে জায়গাটি পুনরায় বিক্রি করতে পেরেছেন। একই অবস্থা ঘটেছে সাদ্দাম হোসেনের পিতা আনোয়ার হোসেনের ক্ষেত্রেও। ১৯৬৭ সালে জনৈক আবুল কাশেমের কাছ থেকে তিনি নগরীর বাকলিয়া মৌজার পাঁচ শতক জায়গা কিনেন। ১৯৯০ সালে আনোয়ার হোসেন মারা যাওয়ার পর ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন ওই জায়গাটি বিক্রি করতে গিয়ে দেখেন জমিটি তার বাবার নামে নেই। দলিল রেজিস্ট্রির পর আরএস এবং বিএস খতিয়ানে আনোয়ার হোসেনের নাম না ওঠায় আবুল কাশেমের ওয়ারিশগণ জায়গাটির মালিকানায় রয়েছেন।

শুধু প্রবাসী টিপু সুলতান আর আনোয়ার হোসেন নয় ভূমির রেজিস্ট্রেশন, মিউটেশন, জরিপে সংশোধনের কাজ তিনটি পৃথক পৃথক সংস্থার অধীনে থাকায় ভূমি ক্রয় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত এভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন শত শত মানুষ। এতে একদিকে যেমন কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে জায়গা কিনেও অনেকে প্রতারিত হচ্ছেন। তেমনি জায়গা পাওয়ার আশায় মামলা করে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন কেউ কেউ। ভূমি জটিলতা নিয়ে প্রতিনিয়ত মারামারি, হানাহানির ঘটনাও ঘটছে। পাশাপাশি আদালতে জমিজমার মামলাও বাড়ছে।

শুধু তাই নয়, জমি রেজিস্ট্রেশনের পর পর সংশ্লিষ্ট খতিয়ান সংশোধন না হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দাতা একই জায়গা বার বার বিক্রি করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। আবার মালিক না থাকা সত্ত্বেও বিএস রেকর্ডে নাম থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে জায়গার মালিকানা দাবি করা, কিংবা জায়গার দখল হস্তান্তর ছাড়া শুধু দলিল রেজিস্ট্রি বিক্রি করার মতোও ঘটনা ঘটছে অহরহ। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ভূমি রেজিস্ট্রির জন্য একজন লোককে যেতে হয় সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে। খতিয়ান তৈরির জন্য যেতে হয় সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে। সিটে সংশোধনের জন্য যেতে হয় জরিপ কর্মকর্তার কাছে। সরকারের পৃথক তিনটি সংস্থা ভূমি নিয়ে এসব কাজ সম্পাদন করে। আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস এবং জরিপ অধিদফতরের অধীনে কাজ করে ভূমি জরিপ অফিস। তিনটি পৃথক সংস্থায় কাজ থাকায় একজন ক্রেতাকে একদিকে জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে তিন জায়গায় ধরনা দিতে হয়। তেমনি সময় নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে একই কাজে একাধিক কর্মকর্তাকে সন্তুষ্টি করতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার মোসতাক আহমেদ বলেন, রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস, জরিপ অফিস তিন সংস্থা যেহেতু একই কাজ করেন সেহেতু এগুলো একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা উচিত। জরিপ অধিদফতর চট্টগ্রামের জোনাল অফিসার আলতাফ হোসেন বলেন, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো এক জায়গায় আনা গেলে কাজ অল্প সময়ের মধ্যে শেষ করা যাবে, জনগণের ভোগান্তি ও হয়রানি অনেকাংশে কমে যাবে। সরকার যদি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেন অবশ্যই জনগণ উপকৃত হবে। আমাদেরও কাজ করতে সুবিধা হবে।