২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রুবেল তাসকিনের খেলা নিয়ে সংশয়!

রুবেল তাসকিনের খেলা নিয়ে সংশয়!
  • জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দুই জনই বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ পেসার। একজন ভুগছেন কাফ মাসলের সমস্যায়। তিনি রুবেল হোসেন। আরেকজন ভুগছেন সাইড স্ট্রেইনের সমস্যায়। তিনি তাসকিন আহমেদ। দুইজনই সেপ্টেম্বরে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েছেন। দুইজনেরই নবেম্বরে অনুষ্ঠেয় জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজে খেলা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল-টি২০) ঠিকই খেলতে পারবেন এ দুই পেসার।

ফিজিও বায়েজিদ আহমেদের কথাতেই তা পরিষ্কার। তাসকিনকে নিয়ে বায়েজিদ বলেছেন, ‘তাসকিনের সাইড স্ট্রেইন সমস্যা। গ্রেড থ্রি সম্পূর্ণ করা হচ্ছে। এটা ঠিক করার জন্য ছয় সপ্তাহ দরকার। ইতোমধ্যে চার সপ্তাহ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। তাসকিন এ সপ্তাহ থেকে ওর স্বাভাবিক অনুশীলগুলো শুরু করছে। পুনর্বাসন এর যে অনুশীলন আছে লেভেল ১, ২ ও ৩ করা শেষ। এখনও শুধু পরবর্তী পর্যায়ের পুনর্বাসন শেষ করবে। আশা করছি ৬ থেকে ৭ সপ্তাহের মধ্যে তাসকিন শেষ করতে পারবে। পুরোপুরি অনুশীলন শুরু করলে বোঝা যাবে কেমন হয়।’ রুবেলকে নিয়ে বলেছেন, ‘রুবেল গ্রেড ২ এর কাফ মাসলের ইনজুরিতে ভুগছে। প্রথমবারের মতো এই ইনুজরিতে পড়েছে। গ্রেড ২ তে সাধারণত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগে। ইতোমধ্যে তিন সপ্তাহ শেষ হয়েছে। রুবেলের উন্নতি বেশ ভালই। আজ প্রথম রানিং শেষ করল। অন্য বিষয়েও ভালই করেছে। আশা করছি ঠিক সময়েই ও সেরে উঠবে। এই মুহূর্তে যদি বিবেচনা করি রুবেল ওই সময়ে (জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজের আগে) প্রায় ফিট থাকবে। রুবেলের ফিফটি ফিফটি সম্ভাবনা আছে।’ সঙ্গে আবার তাসকিনকে নিয়ে বলেন, ‘কিন্তু তাসকিনের বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। ও পুরোপুরি বোলিং শুরু করলে বোঝা যাবে।’

এ সময় আরেক পেসার ইনজুরিগ্রস্ত শফিউল ইসলাম পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলেই জানিয়েছেন বায়েজিদ, ‘শফিউলের খুব বড় ইনজুরি না। ওর গ্রেড ১ এর হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি। ও প্রায় সেরে উঠেছে। ওর রানিংয়ের গড় প্রায় ৮০ ভাব এসে গেছে। এ সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ, আসলে ও বোলিং শুরু করতে পারবে। সে খেলার অবস্থায় থাকবে।’

বায়েজিদের কথাতেই বোঝা যাচ্ছে, তাসকিনকে নিয়ে কোন নিশ্চয়তা নেই। রুবেলের বেলাতে ‘ফিফটি-ফিফটি’ বলেছেন। তার মানে শতভাগ রুবেলকে মেলার সম্ভাবনা নেই। আর তাই এ দুইজনকে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজে নাও দেখা যেতে পারে। জাতীয় ক্রিকেট লীগও (এনসিএল) খেলতে পারছেন না রুবেল ও তাসকিন। খেলার মধ্যে না থাকলে হুট করে তো আর ইনজুরি থেকে ফিরেই মাঠে নেমেও যেতে পারবেন না তারা। অবশ্য রুবেল ও তাসকিন দুইজনই ‘জান-প্রাণ’ দিয়ে চেষ্টা করছেন যেন জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজের আগেই ঠিক হয়ে উঠতে পারেন। এবং সিরিজটি খেলতে পারেন। যতদূর জানা গেছে, ১ নবেম্বর বাংলাদেশে আসবে জিম্বাবুইয়ে। ৪, ৬ ও ৮ নবেম্বর যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে এবং ১১, ১৩ ও ১৫ নবেম্বর যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি২০ ম্যাচ হতে পারে। সিরিজ শুরুর আগে সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন দুই পেসার।

রুবেল যেমন বললেন, ‘আমি তো চেষ্টা করছি। সিডিউল অনুযায়ী আমার ফিজিও যেভাবে আমাকে বলেন, ওইভাবেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। সেরা চেষ্টাই করছি, যেন জিম্বাবুইয়ে সিরিজটা খেলতে পারি। এখনও ওইভাবে বলতে পারছি না। খেলার সম্ভাবনা আসলেই ফিফটি ফিফটি। কারণ এখনও একটু ব্যথা আছে। প্রত্যেকটা পেস বোলারই বর্তমানে ইনজুরিতে আছে। আর পেস বোলারদের ইনজুরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এটা আসলে আমি ওইভাবে নিচ্ছি না। কিভাবে ইনজুরি থেকে ফেরা যায় সেটা নিয়ে ভাবছি। সামনে বিপিএল আছে, জিম্বাবুইয়ে সিরিজ আছে। এই দুইটাই বড় জিনিস। আমার নজর এদিকেই। আমি আশাবাদী যে জিম্বাবুইয়ে সিরিজটা খেলতে পারব।’

তাসকিন জানালেন, ‘আল্লাহর রহমতে অবস্থা এখন অনেক ভাল। বিপিএলটাই মূলত লক্ষ্য ছিল। বিপিএল নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। ওইটা খেলতে পারব। বিপিএলের আগে হঠাৎ করে জিম্বাবুইয়ে সিরিজ হচ্ছে তো। আশা রাখি। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। আমি আমার সেরা চেষ্টা করব জিম্বাবুইয়ে সিরিজের আগে ফিট হওয়ার। জিম্বাবুইয়ে সিরিজ খেলার অনেক ইচ্ছা আছে। কারণ, শেষ আন্তর্জাতিক সিরিজে (দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে) থাকতে পারিনি ইনজুরির কারণে। আবার আরেকটা সিরিজ শুরু হতে যাচ্ছে। তো এটা মিস করলে আমার জন্য দুঃখজনক হবে। কারণ পরপর দুটি সিরিজ ইনজুরির কারণে মিস হয়ে যাবে। তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে দুটি সিরিজই তো জীবনের সবকিছু না। সামনে আরও খেলা আছে। আর সুস্থ থাকাটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাস্ট বোলারের জন্য।’

সঙ্গে যোগ করলেন যদি অন্তত ১ টি২০’ও খেলা যায়, সেই চেষ্টাই করবেন, ‘আমি চেষ্টা করব অবশ্যই জিম্বাবুইয়ে সিরিজে দলে ফেরার জন্য। কারণ শুনেছি ওয়ানডে ও টি২০ আছে। যদি ওয়ানডেতে না হয় অন্তত টি২০তে যেন ফিরতে পারি। হাল আসলে ছাড়া যাবে না। চেষ্টা করব ফিট হয়ে খেলার জন্য। সামনে অনেক খেলা আছে। সবই অংশ নিতে চাই। পরশু (মঙ্গলবার) থেকেই বোলিং শুরু হবে আমার। ইনজুরির যে সমস্যাগুলো ছিল সেসব আল্লাহর রহমতে নেই দেখেই আবার বোলিং শুরু করতে যাচ্ছি। বোলিং শুরু করার পর আস্তে আস্তে বোলিংয়ের শক্তি বাড়বে। আর এটা যত বাড়বে কাজের পরিধিও উঁচুতে যাবে। এসব যদি স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে আর সমস্যা না হয় তাহলে আশা করি জিম্বাবুইয়ে সিরিজেও ফেরা সম্ভব। আর বিপিএলের দুই-এক সপ্তাহ আগেই আমি সুস্থ হয়ে যাব।’ এখন দেখা যাক, শেষপর্যন্ত ইনজুরি মুক্ত হয়ে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজে খেলতে পারেন কি না রুবেল ও তাসকিন।

নির্বাচিত সংবাদ