২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডেঙ্গুজ্বর থেকে সতর্ক থাকুন

  • পাভেল মনজুর আহমেদ

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে ও টি-২০ দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ৮ অক্টোবর রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খুলনার হয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ডে খেলতে যাওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।

হঠাৎ করেই রাজধানীজুড়ে বেড়ে চলেছে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এরই মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪ জন। গত দু’মাসে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ১৬০ ডেঙ্গুআক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। অতিবৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কারণে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ ক’টি নগরীতে এবার ডেঙ্গু সংক্রমিত হয়েছে। চলতি বছর সারাদেশে ২ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকা শহরেই গত ৪ মাসে আক্রান্ত হয়েছে ৬৯০ জন। এরই মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪ জন।

‘ডেঙ্গু’ শব্দের উদ্ভব পরিষ্কার নয়। তবে একটা মত হলো এটি এসেছে ঝধিযরষর শব্দবন্ধ কা-ডিঙ্গা পেপো, যার অর্থ দুষ্ট আত্মার কারণে ঘটিত রোগ। ডেঙ্গুজ্বর, যা ব্রেকবোন ফিভার নামেও পরিচিত, একটি সংক্রামক ট্রপিক্যাল ডিজিজ যা ডেঙ্গু ভাইরাসের কারণে হয়। ডেঙ্গুজ্বর একটা ভাইরাসজনিত রোগ। ডেঙ্গুজ্বরের কারণ হচ্ছে ডেঙ্গু ভাইরাস যা ৪ প্রকারের। ডেঙ্গু ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়ায় মশার মাধ্যমে। ইহা উপকূলীয় অঞ্চলের রোগ। এই রোগ সারা বছর হতে পারে তবে মূলত বর্ষাকালে এর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। মানুষ থেকে মানুষে এই রোগ ছড়ায় না।

ডেঙ্গুজ্বর অবফবং ধবমুঢ়ঃর এবং অবফবং ধষনড়ঢ়রপঃঁং এই দুই প্রকার মেয়ে এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। এরা বাঘ মশা নামে পরিচিত কারণ তাদের গায়ে ডোরা কাটা দাগ থাকে। এডিস মশা মূলত সকালে কামড়ায় এবং বাড়ির আশপাশের জমা পানিতে বংশ বিস্তার করে। ৮০% ডেঙ্গু রোগীদের কোন লক্ষণ দেখা দেয় না। ৫% রোগী অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কিছু মানুষের জন্য রোগটি মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

লক্ষণসমূহ

উচ্চ তাপমাত্রা ৩-৭দিন, প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে অত্যধিক জ্বর, প্রায়শ ৪০ক্ক সে (১০৪ক্ক ফা)-র বেশি, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, সারা শরীরের মাংসে এবং গিঁটে গিঁটে ব্যথা, প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়া, কালসিটেপড়া, শরীরের বিভিন্ন স্থান দিয়ে রক্ত পড়া এর উপসর্গ। শিশুদের মধ্যে প্রায়ই সাধারণ ঠা-া এবং মধংঃৎড়বহঃবৎরঃরং (বমি ও পাতলা পায়খানা) লক্ষণ দেখা দেয়।

সতর্ক সংকেত সমূহ প্রচণ্ড পেটে ব্যথা, বমি, রক্তপাত হবে একের অধিক জায়গা হতে, গাঢ় প্রস্রাব অল্প পরিমাণে হওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, ৩ দিনের বেশি ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ থাকা।

চিকিৎসা

ডেঙ্গুজ্বরের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। রোগের লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে।

জ্বরের জন্য ঢ়ধৎধপরঃধসড়ষ ৬ঘণ্টা পরপর দিতে হবে, এবং জ্বর ১০২ডি. সেলসিয়াসের বেশি হলে ংঁঢ়ঢ়ড়ংরঃড়ৎু ঢ়ধৎধপরঃধসড়ষ পায়খানার রাস্তায় ব্যবহার করতে হবে। পানিশূন্যতা প্রতিরোধের জন্য প্রচুর সালাইন, ডাবের পানি, ডাল, জুস দিতে হবে। হাসপাতালে ভর্তি এবং শিরায় স্যালাইন দেওয়া নির্ভর করে সতর্ক সংকেত সমূহের উপর যা উপরে বর্ণিত রয়েছে। বাচ্চা এবং বয়স্কদের তাড়াতাড়ি হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে কারণ তারা তাড়াতাড়ি অসুস্থ হয়ে যায়।

প্রতিরোধ

ঘুমানোর সময় দিনে/রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে। বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে কোথাও যাতে পানি জমে থাকতে না পারে যেমন ফুলের টব, নারিকেলে মালা, পরিত্যক্ত বালতি, ভাঙ্গা ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোসা, ভাঙ্গা বেসিন, অব্যবহৃত টায়ার, মুখ খোলা পানির ট্যাঙ্ক, প্লাস্টিকের প্যাকেট, পলিথিন এবং ঘরের আশপাশে যেন পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য মশা নিয়ন্ত্রণ ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।এই মরণঘাতী রোগ হতে বাঁচার একমাত্র পথ সচেতনতা। আসুন ডেঙ্গু সম্পর্কে নিজে সচেতন হই এবং আশপাশের সকলকে সচেতন করি।

ছবি : আরিফ আহমেদ

মডেল : অহনা ও তার মা