১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাফল্যের পথে বাধা যে সাত ভুল

  • মু. আবদুল্লাহ আল আমিন

জীবনে উন্নতি করতে চাও? লেখাপড়া কর, ভাল একটা চাকরি জোটাও, বিয়ে কর, বাড়ি কর, গাড়ি কেন, সন্তানসন্ততি জন্ম দাও- এগুলোই যদি আপনার আকক্সিক্ষত হয়ে থাকে তা পাওয়ার চেষ্টা করবেন, সমস্যা নেই। জীবনে সফল হওয়ার এগুলোই একমাত্র উপায় কিনা তবে এ নিয়ে নতুন করে চিন্তার অবকাশ রয়েছে।

সফলতার শুরু ডিগ্রী দিয়ে আসল কথা : সফলতার শুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী থেকে এবং ভাল একটি চাকরি জোটানোর মাধ্যমে এর পরিসমাপ্তি। ভাল ডিগ্রী ছাড়া আপনি ভাল চাকরি জোটাতে পারবেন না। আর চাকরি জোটাতে না পারলেন তবে বাড়ি, গাড়ি, পরিবারের দেখাশোনা আপনি কিভাবে করবেন।

যে কথা ভেবে দেখি না : আপনার দৃষ্টিতে ‘সাফল্য’ আসলে কি? নিজেকে প্রশ্ন করা শুরু করুন। আপনি যা পছন্দ করেন সেরকম কিছু করতে পারলে উচ্চ বেতনের তথাকথিত হাই প্রোফাইল চাকরির পেছনে ছোটার কোন প্রয়োজনই বোধ করবেন না। আপনি যে কোন ধরনের কাজে নিয়োজিত হতে পারেন যদি বিষয়টি আপনার কাছে উপভোগ্য হয়। দক্ষতা ও পছন্দের মধ্যে সমম্বয় ঘটাতে পারলেই হলো।

২ বিয়ে ও সন্তান সুখী ও সফল হওয়ার অপরিহার্য উপাদান। রূপকথার গল্পের শেষ দৃশ্যে যেমন বলা হয়ে থাকে, ‘অতঃপর তারা সুখেই বসবাস করতে থাকল...’। একজন সঙ্গী না থাকলে জীবন অর্থহীন। পরিবার গঠনের মাধ্যমে নিজের বিশ্বাস, মূল্যবোধ, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা মানুষ মানুষ এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে পারে।

যে কথা ভেবে দেখি না : নিজের জীবন থেকে ১৮টি বছর ব্যয় করে আরেকটি জীবনের লালন পালনের মধ্যেই কি জীবনের স্বার্থকতা নিহিত বলে আপনার কাছে মনে হয়? বিয়ের সন্তান জন্ম দেয়া এবং সন্তান মানুষ করে যাওয়ার অলিখিত দায়িত্ব একজন মানুষ নিজের ওপর চাপিয়ে নেয়। লক্ষ্য করলে দেখবেন আরেকটি জীবনকে লালন করা এক জিনিস আর নিজের জীবন পুরোপুরি বিকশিত করা আরেক জিনিস। বিয়ে করে সংসারী হওয়াটা বেঁচে থাকার একটি দিক মাত্র। সীমাবদ্ধ ধারণার বাইরে চিন্তা করুন।

একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট না থাকলে সম্মান থাকে না : কবির ভাষায় ‘একটুখানি বাসা, করেছিনু আশা’। ফ্ল্যাট বাড়িতে অর্থব্যয় সেরা বিনিয়োগ বিবেচিত হয়। নিজের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই অবশ্যই চাই।

যে কথা ভেবে দেখি না : তবে যে অর্থ আপনি বাড়ির পেছনে ব্যয় করবেন সেটি খরচ করার বিকল্প খাতগুলোর কথাও চিন্তা করুন। ওই অর্থ দিয়ে আপনি ছোটখাটো একটি ব্যবসা করতে পারেন, দেশবিদেশ ঘুরতে পারেন, ছেলেমেয়েদের প্রতিষ্ঠিত হতে খরচ করতে পারেন কিংবা করতে পারেন কোন জনহিতকর কাজ, যে কাজ আপনাকে অনাবিল তৃপ্তি দেবে। অপরের স্বপ্নের মধ্যে বাস না করে নিজের স্বপ্নের জীবনের জন্য বিনিয়োগ করুন।

অন্যের নিরূপিত মানদ-ে যাচাই করা : সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ সাধারণত অন্যের নিরূপিত মানদ-ে নিজের সফলতা ব্যর্থতাকে মূল্যায়ন করে থাকে। সম্মিলিতের প্রভাবকে অতিক্রম করা অনেক সময় একার পক্ষে সম্ভব হয় না।

যে কথা ভেবে দেখি না : দশজনের সায় আছে, শুধু এটাই একটা কিছু করার কোন ভাল কারণ হতে পারে না। আপনার ভ্যালুজগুলো কি কি? জীবন থেকে কি আপনি পেতে চান? একটি নির্দিষ্ট লাইফস্টাইল বা ক্যারিয়ার একজনের জন্য যথোপযুক্ত হতে পারে, আরেকজনের জন্য নয়। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন কারণ নেই। অন্তর থেকে কি বার্তা পান সেটি অনুসরণ করুন।

সুখ আসবে কর্মজীবন থেকে অবসর নেয়ার পর : একটানা বহু বছরের খাটনির পর অবসর মিললে তবেই জীবনে আসতে পারে সুখ। এজন্য জীবনের প্রথম অন্তত ৬০টি বছর আপনাকে পরিশ্রম করে যেতে হবে। জীবনে একদিন সুখ আসবে, এর জন্য আপনি প্রস্তুত হবেন এতগুলো বছর ধরে।

যে কথা ভেবে দেখি না : সুখ আসলে এমন কিছু নয় যার জন্য আপনাকে বছর, মাস, সপ্তাহ বা এমন কি একটি দিনও বেশি অপেক্ষা করতে হবে। যদি আপনি এখনই সিদ্ধান্ত নেন যে আপনি সুখী হবেন, তাহলে সুখী হওয়ার পথে আপনার যাত্রা শুরু হয়ে গেল।

চাকরি, পরিবার ও রিয়েল এস্টেট- ভবিষ্যত নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ : আসলেই কি তাই ? যে জীবন আপনি কাটাচ্ছেন বা যে চাকরি আপনি করছেন সেটি যদি আপনার অপছন্দের হয় তবে সেটি ছেড়ে দিলে আপনার হারানোর খুব বেশি কিছু থাকবে না। বরং তা আপনার কাক্সিক্ষত পথ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। তবে কোন কিছু ছেড়ে দেয়ার আগে পরবর্তী করণীয় আগেই ঠিক করে নেবেন।

যে কথা ভেবে দেখি না : শুধু যা অপ্রয়োজনীয় সেগুলো বাদ দিন। জীবন থেকে আপনার প্রত্যাশা কি এ ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা থাকলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন কোনটা রাখবেন, কোনটা বাদ দিবেন। জিনিস যত বেশি থাকবে, আপনি তত সুখী হবেন এমন ধারণা অনেকেই পোষণ করে। সম্পদ বা সামগ্রী যত বেশি থাকবে ততই আপনি সুখী হবেন এমন কোন নিশ্চয়তা নেই।

যে কথা ভেবে দেখি না : যা কখন ব্যবহারে আসবে না তা জমিয়ে রেখে লাভ নেই। অপ্রয়োজনীয় জিনিস ঝেটিয়ে বিদায় করে জীবনটাকে সহজ করুন।

ছবি : আরিফ আহমেদ

মডেল : সজল