২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুর্মিটোলা হাসপাতালকে জনগণের চিকিৎসালয়ে পরিণত করতে হবে ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালকে জনগণের হাসপাতালে পরিণত করতে হবে। সাধারণ মানুষের কাছে এ হাসপাতালটির পরিচিতি কম। এ কারণে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ঢাকা মেডিক্যাল, মিটফোর্ড ও সোহরাওয়ার্দীসহ অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে ভিড় করেন। অথচ এই হাসপাতালে সব রোগের চিকিৎসা পাওয়া যায় জানলে রোগীরা হাসপাতালমুখী হবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ধনাঢ্য মানুষ রোগে আক্রান্ত হলে পাঁচতারা হোটেলের মতো বড় বড় বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। কিন্তু গরিবের সেই সামর্থ্য নেই। তাদের আশ্রয়স্থল সরকারী হাসপাতাল। ১৬ কোটি মানুষের দেশে সরকারী হাসপাতালে শয্যা কম বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন নতুন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন। কুর্মিটোলা হাসপাতালে সেগুলোর একটি। গরিব মানুষ এখানে সেবা পাবেন।

রবিবার হাসপাতাল মিলনায়তনে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজের মাঝে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোঃ নুরুল হক এবং সামরিক চিকিৎসা অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল রবিউল হোসেইন এতে স্বাক্ষর করেন। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক। অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মন্জুরুল ইসলাম, আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর হোসেন মল্লিকসহ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও সেনাবাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, এই সমঝোতা স্মারকের বলে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজের একসঙ্গে পথচলা শুরু হলো। এখন থেকে এ দুটি প্রতিষ্ঠান একীভূত হয়ে চিকিৎসা ও শিক্ষা নিশ্চিত করবে। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যায়ের চিকিৎসকরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের কাজে সম্পৃক্ত হবেন। আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাসকরা ইন্টার্নি চিকিৎসকরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রশিক্ষণ নেবেন। এছাড়া তৃতীয় বর্ষ থেকে কলেজের ছাত্রছাত্রীরা হাসপাতাল থেকে ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ পাবেন। চিকিৎকদের ¯œাতকোত্তর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। অধ্যাপকরা যোগদানের পর হাসপাতালে নেফ্রোলজি, বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি, মনোরোগ, রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগসহ আরও নতুন বিভাগ চালু করা হবে। কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহায়তায় হাসপাতালে স্থাপিত আধুনিক হিমঘর এবং ময়নাতদন্ত শুরু হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে হাসপাতালটির পূর্ণাঙ্গভাবে যাত্রা শুরুর ঘোষণা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেডিক্যাল শিক্ষার প্রসারের কথা চিন্তা করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজকে একীভূত করা হয়েছে। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের একীভূত হয়ে যাত্রা শুরু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। দুটি প্রতিষ্ঠানের একত্রে পথচলার মধ্য দিয়ে দরিদ্র রোগীদের আরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক বলেন, আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল একীভূত হওয়ার মধ্য দিয়ে সশস্ত্রবাহিনী সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার সুযোগ পেল। সশস্ত্রবাহিনী দেশরক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করবে। হাসপাতালে দরিদ্র মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান তিনি।