২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকার দিনরাত

  • মারুফ রায়হান

হেমন্তের আঘ্রাণ পাওয়া যাচ্ছে ঢাকায়; আরও স্পষ্ট করে বললে বলতে হবে ঢাকার রাতগুলোয়। ঢাকার দিবসগুলো এখনও রোদ-ঝলসিত, তেতে ওঠা। বত্রিশের আশপাশেই থাকছে তাপমাত্রা। গত সপ্তাহে একদিন শুধু ত্রিশের নিচে নেমেছিল বর্ষার সৌজন্যে। তবে রাতে যে আর ভ্যাপসা গরম লাগছে না, গভীর রাতে উঠে সিলিং ফ্যান অফ করে দিতে হচ্ছে, এমনকি ভোরবেলা একটু ঠাণ্ডা-ঠাণ্ডাও লাগছে, তাতে ঢাকাবাসী স্বস্তিবোধই করছেন।

অট্টালিকার আড়ালে

রাজধানী একেবারে ভরভরান্ত হয়ে উঠেছে আকাশ-ছোঁয়া অট্টালিকার বহুলতায়। মাটির ওপর একে একে জন্ম নেয়া এইসব ভবনকে ভুঁইফোঁড় অবশ্য বলা যাবে না এই অর্থে যে, প্রতিটি নির্মাণের নেপথ্যে থাকে বহু মানুষের শ্রম ও মেধা। কত শ্রমিক যে প্রাণ হারিয়েছেন বহুতল ভবনগুলো গড়ে ওঠার সময়, তার অনুপুঙ্খ হিসাব কোথায় লেখাজোঁকা আছে? ক’দিন আগেও ইউসুফ আলী নামে একজন শ্রমিক মারা গেলেন। কিছুকাল আগে জনকণ্ঠের প্রথম পাতার প্রথম কলামে ‘মানুষ মানুষের জন্য’ শিরোনামে সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছিল একজন পঙ্গু ভবন-শ্রমিকের জন্য। যিনি আট বছর আগে কর্তব্য পালনের সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। অনেক উঁচু থেকে নিচে পড়ে গিয়ে তার মতো ইউসুফও যদি বেঁচে থাকতে পারতেন! মৃত্যুর চাইতে জীবন নিশ্চয়ই বড়, তা সে যত বিপত্তি ও বৈরিতার মধ্যেই থাকুক না কেন। মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনের ভাষানটেক এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ১১তলা ভবন থেকে পড়ে ইউসুফ আলীর মৃত্যু আমাদের খুব একটা স্পর্শ করে কি? ভবনটির ছয় তলায় বাঁশের মাচার ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করছিলেন ইউসুফ। হঠাৎ পা ফসকে ভবনের দোতলায় পড়ে যান তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে তিনি জীবিকার সন্ধানেই এসেছিলেন এই নিষ্ঠুর নগরীতে। ওই ভবনটির কোন বাসিন্দা হয়ত জানবে না কিংবা মনে রাখবে না ইউসুফের কথা। ইটের স্থাপনায় অদৃশ্য স্পর্শ লেগে থাকে কতই না শ্রমিকের!

দুটো কথা বলা জরুরী। এক, ওই শ্রমিকের পরিবারের আর্থিক প্রাপ্তি নিশ্চিত করা চাই। ‘ক্ষতিপূরণ’ শব্দটির প্রয়োগ ভুল বলেই মনে হয়। জীবননাশের মতো ক্ষতি কখনোই পূরণ হবার নয়। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিষয়টি প্রযোজ্য: নির্মাণ শ্রমিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই নির্মাণ কাজের সূচনা করতে হবে। এমন মৃত্যু আমাদের ব্যথিত, ক্ষুব্ধ তো করেই, মানুষ হিসেবে আমাদের উচ্চতাও খর্ব করে।

সড়ক-কৌতুক

মহানগরীর ভীষণ জটিল এবং ব্যস্ততম মোড় হচ্ছে কাওরানবাজারের মোড়। প্রশাসনও সেটা বিলক্ষণ জানে। সে কারণেই ওই মোড়ে একখানা র‌্যাকার সারাক্ষণ দাঁড় করানো থাকে। আর বিশাল সাইনবোর্ডে লেখা আছে- ‘এখানে বাস থামানো সম্পূর্ণ নিষেধ। দাঁড়ালেই দ-!’ তবে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের এই সতর্কবার্তা এ পথে চলাচলকারীদের কাছে কৌতুককর হয়ে উঠেছে। ওই সাইনবোর্ডের সামনেই সব রুটের লোকাল বাসগুলো এসে দাঁড়ায়। যাত্রীরাও ওঠানামা করেন। শনিবার সন্ধ্যায় এখানে অতিরিক্ত পুলিশের অবস্থানও প্রত্যক্ষ করলাম। তাদের বেশিরভাগই নির্বিকার ও গাছাড়া। লোকাল একটাও বাস বা মিনিবাসকে দেখা গেল না র‌্যাকার-পুলিশের উপস্থিতি এবং সাইনবোর্ডের হুঁশিয়ারিকে সমীহ করছে।

বৃষ্টি মানেই দুর্ভোগ

গত মঙ্গলবার এবং তার আগের দিন রাজধানীতে ঝুম বৃষ্টি নেমে এসেছিল। শেষ শরতের এই বৃষ্টিতেও নাকাল হয়েছে ঢাকা। রাস্তাঘাট, অলিগলি পানিতে সয়লাব, অনেক নিচু এলাকার বাসাবাড়িতে পানি জমে যায়। এক-দু’ঘণ্টার বৃষ্টিতে ঢাকার অবস্থা করুণ হয়ে উঠবে, পুরো এক বেলা কিংবা একটি আস্ত দিন পানি জমে থাকবে- এটা কি একটি দেশের রাজধানীর নিয়তি হতে পারে! রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিয়ে কম সভাসেমিনার হয় না, কাগজেও প্রচুর লেখালেখি হয়। তবু এর স্থায়ী সমাধানে কোন বাস্তবসম্মত কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। অথচ জলাবদ্ধতা দূর করার নামে নাকি বহু কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে গত কয়েক বছরে। জলাবদ্ধতাসহ নানা কারণে রাস্তাগুলোয় গর্ত সৃষ্টি হয়ে চলাচল বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। দু’জন নির্বাচিত মেয়র পাওয়া গেছে। অনেকটা সময় তো গেল, এবার উভয়ে কোমর বেঁধে নামুন। রাজধানীবাসীকে একটু স্বস্তি দিন।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী!

দু’দিন বাদেই বাঙালীর প্রাণের কবি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুবার্ষিকী। পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া সময়ের শাঁস তুলে ধরতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন- ‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ, যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা’। অন্ধ বলতে আক্ষরিক অর্থে দৃষ্টিহীনের কথা তিনি বলেননি। বলেছিলেন, অন্তর্দৃষ্টি ও সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি-হারা মন্দ ও কুটিল মানুষের কথা। ‘যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই, প্রীতি নেই, করুণার আলোড়ন নেই’; অথচ কী আশ্চর্য, ‘পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া’। আহা, সত্যিই কলিকাল এসে পড়েছে পৃথিবীতে। অন্ধ না হয়েও অন্ধের ভান করা মানুষের দেখা মেলে চোখ খোলা রাখলেই। যাহোক, বৃহস্পতিবার ছিল বিশ্ব সাদা ছড়ি দিবস। নিরাপদে পথ চলতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা সাদা ছড়ি ব্যবহার করেন। তবে রাস্তা পারাপারের সময় তাদের অপরের সহযোগিতার প্রয়োজন পড়ে। বৃহস্পতিবারেই বিজয় সরণির পাশে এক দৃষ্টিহীন ব্যক্তি অনবরত পথচারীদের আবেদন জানাচ্ছিলেন তাকে রাস্তা পার করে দেয়ার জন্য। কেউ তার আবেদন না শোনার ভান করে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছেন। কারও কানে হয়ত সত্যিই লোকটির আবেদন পৌঁছুচ্ছে না। রাজধানীর মানুষ ছুটছে, তাদের অনুভূতিও কিছুটা নিশ্চয়ই ভোঁতা হয়ে গেছে। অন্ধ ব্যক্তির হাত ধরে রাস্তা পার করিয়ে দেয়ার মতো সময় আর মানসিকতা আমাদের মধ্যে ক’জনের আছে? খুব বেশি লোকের যে নেই, তা নিশ্চিত হয়েই বলা যায়। যিনি চক্ষুষ্মান হয়েও চলার পথে অন্ধ লোকের কাতর আহ্বানে সাড়া দেয়ার বোধ হারিয়ে ফেলেছেন, তিনি কি আসল প্রতিবন্ধী নন? ‘অন্ধজনে দেহ আলো মৃতজনে দেহ প্রাণ’- এসব নীতিকথা বুঝি বিফলেই যায়।

খাদ্যমেলা

ঢাকায় হরহামেশাই নানান সব মেলা বসছে বিভিন্ন উপলক্ষকে সামনে রেখে। এর কিছু রুটিনওয়ার্ক, সন্দেহ নেই। তবু এসব মেলা ঢাকাবাসীর নিস্তরঙ্গ জীবনে অনেক সময় কিছুটা আনন্দ ও উদ্দীপনা নিয়ে আসে। শুক্রবার ছিল বিশ্ব খাদ্য দিবস। এ উপলক্ষে খাদ্যমেলার আয়োজন করা হয় ফার্মগেটের খামারবাড়িতে। উদ্যোক্তা কৃষি মন্ত্রণালয়। খাদ্য মেলায় দেশীয় খাদ্যের সমাহার ঘটে। সরকারী-বেসরকারী মোট ৪০টি কৃষি উৎপাদন ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। নগরবাসী শিশু-কিশোরদের জন্য এ ধরনের মেলা আনন্দ সহযোগে শিক্ষা গ্রহণের উপলক্ষ হয়ে ওঠে। শাকসবজির পাশাপাশি তার বীজও প্রদর্শিত হয় মেলায়। যেমন ধান, পাট, শিম, ফরাস বিন, বিল কলমি, উচ্ছে, পালংশাক, ঢেঁড়স, কপি, মরিচ, বেগুনের বীজ, তিল, তিশি, বিলাতি ধনিয়া, শালুকসহ অনেক বীজ। কাঁচামরিচ, তেঁতুল, আম, জামসহ অনেক ধরনের আচার। মাশরুমের তৈরি খাবার ছিল অর্ধ ডজনের ওপরে, আর পিঠা ছিল বারো-চৌদ্দ রকমের। লোভনীয় ব্যাপার হলো আমড়ার জুস, কামরাঙ্গার জুস, আনারসের জুস, বিলিম্বির জুসসহ অনেক ধরনের শরবত চেখে দেখার সুযোগ ছিল মেলায়। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশে খাদ্যমেলা গৌরব ও আনন্দের উপলক্ষ বটে।

শচীন স্মরণ

বাংলা গানের বিরল প্রতিভা শচীন দেববর্মণের জন্ম ও মৃত্যু অক্টোবর মাসে। কুমিল্লায় জন্মগ্রহণকারী এই কালজয়ী সুরস্রষ্টা ও কণ্ঠশিল্পীর উদ্দেশে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়টিকেই বেছে নেয়া হয়। ডেইলি স্টার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে যথেষ্ট দর্শক সমাগম হয়। খ্যাতিমান লোকসঙ্গীতশিল্পী কিরণ চন্দ্র রায় দীর্ঘদিন শচীনকর্তার গান করে আসছেন। বলা যায়, আজকের প্রজন্মের যেসব শ্রোতার পক্ষে শচীন দেবের স্বকণ্ঠে রেকর্ডকৃত গানগুলো শোনার সুযোগ হয়নি বা শচীন দেব সুরারোপিত বাংলা গান সম্পর্কে যাদের ধারণা নেই, সেইসব শ্রোতার কাছে পৌঁছে গেছে কিরণ চন্দ্র রায়ের গাওয়া গানগুলো। বড় নিষ্ঠাভরেই শিল্পী শচীন দেবের গানগুলো করলেন সেদিন সন্ধ্যায়। কিন্তু আমরা যারা অন্তত সাড়ে তিন দশক ধরে শচীন দেবের কণ্ঠে তার গান শুনে মজে আছি, তাদের কানে সুরের একটুখানি পরিবর্তন, কিংবা কথার হেরফের বড় কানে লাগে। আরো একটি বিষয়, কণ্ঠশিল্পীর কাছে শ্রোতারা গানই শুনতে চান, বক্তৃতা নয়। যাহোক, অনুষ্ঠানে শচীন দেবের বাংলা গান আরও গেয়ে শোনান দুই শিল্পীÑ সঞ্জয় রায় ও নাসিমুল মাহবুব রুবেল। দু’জনের পরিবেশনায় মুন্সিয়ানা আছে এটা বলতেই হবে। কর্তৃপক্ষ আরও যে কারণে প্রশংসা পাবেন, সেটি হলো শচীন দেব সুরারোপিত কিছু বিখ্যাত হিন্দী সিনেমার গান পরিবেশনের উদ্যোগ নেয়ায়।

চ্যানেল আই ভবনে

লেখক-আড্ডা

আড্ডা হলো খোলা জানালার মতো; আড্ডা থেকে যে কোনো মানুষই পান প্রাণের রসদ, তবে সৃষ্টিশীলরা পেয়ে থাকেন সৃষ্টির প্রেরণা ও উপাদান। বিশেষ করে লেখকদের জন্য আড্ডা খুব উপকারী। একজন লেখককে ঘিরেও আড্ডা হতে পারে, আবার কয়েকজন লেখক মিলে কোন স্থানে বসে তুলতে পারেন চায়ের কাপে ঝড়। তবে লেখকদের আড্ডা আরও জম্পেশ হয়ে উঠতে পারে যদি আড্ডায় থাকেন ক’জন অলেখক ও গোগ্রাসী পাঠক। সমালোচক থাকলে তো কথাই নেই। ঢাকায় বিখ্যাত আড্ডার কথা তুললে বিউটি বোর্ডিংয়ের কথাই ঘুরেফিরে আসে, যার প্রচলনের সঙ্গে মিশে আছে কবি শহীদ কাদরী ও কবি বেলাল চৌধুরীর নাম। শাহবাগ বইপাড়ায় এক সময়ে তরুণ লেখকরা ছোট ছোট বলয়ে আড্ডা জমাতেন। বইপাড়া প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে শাহবাগে কোহিনূর ও সিলভানা- এ দুটি রেস্তোরাঁ ছিল লেখকদের আড্ডাস্থল। শামসুর রাহমান ও ফজল শাহাবুদ্দীন- এই দুই কবিকে ঘিরে উভয়ের কর্মস্থল ও বাসভবনে লেখকদের আড্ডা হতো নিয়মিত। এখন লেখক-আড্ডার উৎকৃষ্ট স্থান হলো একুশের বইমেলা।

ঢাকায় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় লেখকদের যে আড্ডার আয়োজন করা হলো চ্যানেল আই ভবনে, তার নেপথ্যে ছিলেন ফরিদুর রেজা সাগর, যিনি লেখকপুত্র, নিজেও শিশুসাহিত্যিক। লেখকদের জন্য তিনি অন্তরে ধারণ করেন আন্তরিক ভালবাসা ও গভীর শ্রদ্ধা, তা অনেকেরই জানা। একসঙ্গে অনেক লেখককে একই ছাদের নিচে আমন্ত্রণ জানানোর কাজটি সূচারুরূপেই করতে সক্ষম হলেন তার দুই সুযোগ্য সহযোগী আমীরুল ইসলাম ও রেজানূর রহমান। আড্ডার একটা থিমের কথাও শুনেছিলাম- ‘সাহিত্য কী এবং কিভাবে’। অবশ্য আড্ডায় কোন বিশেষ থিম থাকা জরুরী নয়। তাছাড়া আড্ডা হবে মুখোমুখি, পারস্পরিক; এবং কথার পিঠে পাল্টা কথা, যুক্তির বিপরীতে আরেক যুক্তি, আর হাসি, উষ্মা, বিরক্তি ও অনুরাগে ভরপুর। আলোচনা, আলাপচারিতা, আনুষ্ঠানিক বক্তব্য- এ সবই আড্ডার দীঘিতে মিলেমিশে থাকে। চ্যানেল আইয়ের আড্ডাটি অন্য ধরনের, কিছু টিভি ক্যামেরার সামনে আয়োজিত আড্ডাটি যথার্থ আড্ডা নয়, এটি হলো আড্ডা নিয়ে স্মৃতিচারণা এবং মনের গভীরে লালন করা আড্ডা-তৃষ্ণার আবেগময় প্রকাশ; সেটাও একতরফা- মানে সঞ্চালকের আহ্বানে মঞ্চে উঠে মাইক্রোফোনে একজন লেখকের বক্তব্য প্রদান। সূচনায় স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে দীর্ঘ বক্তব্য দিলেন সৈয়দ শামসুল হক। সঞ্চালক ইমদাদুল হক মিলন নানাভাবে প্রচেষ্টা নিয়েছেন আড্ডাটি জমানোর, আমন্ত্রিতদের আনন্দদানের। এজন্য কিছু কৌতুকও বলতে হয়েছে তাকে। তবে সত্যিকারের লেখক-আড্ডার সঙ্গে এই আয়োজনের পার্থক্য থাকলেও এটি জমে উঠেছিল। নৈশভোজে তুমুল গালগপ্পে মাতেন লেখকরা। অনুষ্ঠানটি বাস্তবিকই লেখকদের মিলনমেলা হয়ে উঠতে পেরেছিল। তরুণ-প্রবীণ প্রচুর লেখকের সমাগম ঘটেছিল। টিভি তারকাও ছিলেন ক’জন। কয়েকজন লেখকের নাম উল্লেখ না করলেই নয়। এসেছিলেন : রাহাত খান, ড. এনামুল হক, ফজল-এ-খোদা, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, আমজাদ হোসেন, খালেক বিন জয়েন উদদীন। মাসে একই জায়গায় অন্তত একটি করে আড্ডা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। আশা করি কয়েকটি আড্ডা হওয়ার পর এটি সত্যিকারের আকর্ষণীয় লেখক-আড্ডা হয়ে উঠবে, যেটির জন্য প্রতীক্ষায় থাকবেন লেখকেরা।

প্রিয় মেয়র,

আপনাকেই বলছি

আমরা এই কলামে ঢাকার দুই মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধান ও অনিয়মের সুরাহা চাইব। এটা নিছক অনুরোধ নয়, সমাজেরই দাবি। আজ আমরা তুলে ধরব ঢাকার ক্রেতাবহুল দুটি মার্কেটের সংযোগ রক্ষাকারী ফুটওভার ব্রিজ দখল প্রসঙ্গ। নিউমার্কেট ও গাউছিয়া মার্কেটের মাঝে অবস্থিত ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহার করেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। অথচ এই ব্রিজটি পুরোপুরি হকারদের দখলে চলে গেছে। এটি হয়ে উঠেছে আরেক মিনি মার্কেট। ফলে পথচারী ও মার্কেটে আগত ক্রেতাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মেয়র চাইলে এটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দখলমুক্ত করা সম্ভব।

১৮ অক্টোবর

marufraihan71@gmail.com