২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী এমপিদের বেতন বাড়ল

  • স্পীকার, প্রধান বিচারপতি, বিরোধীদলীয় নেতাও বর্ধিত বেতন পাবেন

এম শাহজাহান ॥ সরকারী চাকরিজীবীদের পর এবার রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, প্রধান বিচারপতি, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যদের বেতন- ভাতা বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বেতন ৬১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ৫৮ হাজার ৬০০ টাকার বদলে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন। জাতীয় সংসদের স্পীকারের বেতন মাসে ৫৭ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা হচ্ছে। এছাড়া প্রধান বিচারপতির বেতন ৫৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য করা সদ্য অনুমোদিত অষ্টম পে-স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বেতন ও ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর হবে।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই বেতন বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পীকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, চীফ হুইফ, আপীল বিভাগের বিচারক, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক, প্রতিমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় উপনেতা, হুইফ, উপমন্ত্রী, ও সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব আইনের সংশোধনী প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই বেতন বৃদ্ধি হলো। বেতনের সঙ্গে তাদের ভাতাও বাড়ছে। রাষ্ট্রপতির সুপারিশ নিয়ে এখন এসব খসড়া পাসের জন্য সংসদে তোলা হবে। নতুন হারে বেতন কার্যকর হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। আর ভাতা ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে।

নতুন হারে সরকারের মন্ত্রী, ডেপুটি স্পীকার, বিরোধীদলীয় নেতা, চীফ হুইপ এবং আপীল বিভাগের বিচারকদের বেতন ৫৩ হাজার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা হচ্ছে। আর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের বেতন ৪৯ হাজার থেকে বেড়ে হচ্ছে ৯৫ হাজার টাকা।

এছাড়া প্রতিমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় উপনেতা ও হুইপের বেতন ৪৭ হাজার ৮০০ থেকে বেড়ে ৯২ হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রীর বেতন ৪৫ হাজার ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা হচ্ছে। এছাড়া নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে জাতীয় সংসদের সদস্যরা প্রতিমাসে বেতন হিসেবে পাবেন ৫৫ হাজার টাকা, যা এতদিন ২৭ হাজার ৫০০ টাকা ছিল। এর আগে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বেতন বাড়ানো হয়েছিল। তবে ২০১১ সালে সরকারী চাকরিজীবীদের দৈনিক ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা হলেও সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীগণের দৈনিক ভাতা বাড়ানো হয়নি।

এদিকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তাদের বেতন-ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব সংবলিত এ সংক্রান্ত আলাদা ৬টি সংশোধনী আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্য ‘দ্য প্রেসিডেন্ট (রেমুনারেশন এ্যান্ড প্রিভিলিজেস) (এ্যামেন্ডমেন্ট) এ্যাক্ট-২০১৫’ এবং ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টারস (রেমুনারেশন এ্যান্ড প্রিভিলিজেস) (এ্যামেন্ডমেন্ট) এ্যাক্ট-২০১৫’ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি বেতন পাবেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তিনি বর্তমানে বেতন পাচ্ছেন ৬১ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া রাষ্ট্রপতি বিমানযোগে ভ্রমণকালে বীমা সুবিধা পাবেন ২৭ লাখ টাকা। সেটা আগে ছিল ১৫ লাখ টাকা। তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল ২ কোটি টাকা বহাল রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বেতন বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। বর্তমান তিনি বেতন পান ৫৮ হাজার ৬০০ টাকা। তিনি বেসরকারী বাড়িতে বসবাস করলে এক্ষেত্রে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন এক লাখ টাকা। আগে সেটা ছিল ৫০ হাজার টাকা। দৈনিক ভাতা ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া তিনি বিমানযোগে ভ্রমণকালে বীমা সুবিধা পাবেন ২৫ লাখ টাকা। সেটা আগে ছিল ১৫ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল ২ কোটি টাকা বহাল রাখা হয়েছে।

স্পীকারের বেতন-ভাতা যা হবে ॥ প্রস্তাবিত নতুন বেতন-স্কেল অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পীকারের বেতন ৫৭ হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৩ হাজার টাকা, বিমানযোগে ভ্রমণকালে বীমা কাভারেজ ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১৬ লাখ টাকা, দৈনিক ভাতা ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে দুই হাজার ৫শ’ টাকা। আর স্বেচ্ছাধীন তহবিল সাড়ে ৪ লাখ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১১ লাখ টাকা। নতুন বেতন কাঠামো দিতে ‘স্পীকার এ্যান্ড ডেপুটি স্পীকার (রেমুনারেশন এ্যান্ড প্রিভিলিজেস) (এ্যামেন্ডমেন্ট) এ্যাক্ট-২০১৫’ এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সুপ্রীমকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেতন-ভাতা ॥ প্রধান বিচারপতির বর্তমান বেতন ৫৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে। ডোমেস্টিক এইড ভাতা ১ হাজার ৬২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা, ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করলে কার এ্যালাউন্স ১৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা, সরকারী-বেসরকারী গাড়ি ব্যবহার না করলে ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে ‘দ্য সুপ্রীমকোর্ট জাজেস (রেমুনারেশন এ্যান্ড প্রিভিলিজেস) (এ্যামেন্ডমেন্ট) এ্যাক্ট-২০১৫’ এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রী, ডেপুটি স্পীকার, বিরোধীদলীয় নেতা, চীফ হুইফ ও আপীল বিভাগের বিচারকদের বেতন-ভাতা ॥ মন্ত্রীদের বেতন ৫৩ হাজার ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার, বেসরকারী বাড়িতে বসবাসের ক্ষেত্রে বাড়িভাড়া ভাতা ৪৫ হাজার টাকা (স্বেচ্ছায় বেসরকারী বাসায় বসবাস করলে ২৫ হাজার টাকা) থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা, বিমাযোগে বীমা কাভারেজ ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৮ লাখ টাকা, দৈনিক ভাতা সাড়ে ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা। স্বেচ্ছাধীন তহবিল ৪ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এজন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য ‘দ্য মিনিস্টারস, মিনিস্টারস অব স্টেট এ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন এ্যান্ড প্রিভিলিজেস) (এ্যামেন্ডমেন্ট) এ্যাক্ট-২০১৫’ এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

এছাড়া ডেপুটি স্পীকারের বেতন ৫৩ হাজার ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার, বেসরকারী বাড়িতে বসবাসের ক্ষেত্রে বাড়িভাড়া ভাতা ৪৫ হাজার টাকা (স্বেচ্ছায় বেসরকারী বাসায় বসবাস করলে ২৫ হাজার টাকা) থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা, বিমানযোগে বীমা কাভারেজ ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৮ লাখ টাকা, দৈনিক ভাতা সাড়ে ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা এবং স্বেচ্ছাধীন তহবিল ৪ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোতে বিরোধীদলীয় নেতার বেতন ৫৩ হাজার ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা, বেসরকারী বাড়িতে বসবাস করলে ভাড়া ৪৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা (স্বেচ্ছায় বেসরকারী বাসায় বসবাস করলে ২৫ হাজার টাকা), বিমানযোগে ভ্রমণকালে বীমা কাভারেজ ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৮ লাখ টাকা, দৈনিক ভাতা সাড়ে ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা। স্বেচ্ছাধীন তহবিল ৪ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া চীফ হুইপের বেতন ৫৩ হাজার ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা, বেসরকারী বাড়িতে বসবাস করলে ভাড়া ৪৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা (স্বেচ্ছায় বেসরকারী বাসায় বসবাস করলে ২৫ হাজার টাকা), বিমানযোগে ভ্রমণকালে বীমা কাভারেজ ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৮ লাখ টাকা, দৈনিক ভাতা সাড়ে ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা এবং স্বেচ্ছাধীন তহবিল ৪ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

আপীল বিভাগের বিচারকদের বেতন ৫৩ হাজার ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা। অন্য ভাতার মধ্যে ডোমেস্টিক এইড ভাতা ১ হাজার ৪৬৫ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। রেসিডেন্স এ্যালাউন্স ২৬ হাজার ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা, ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করলে এ্যালাউন্স ১৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা, সরকারী বা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করলে ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের বর্তমান বেতন ৪৯ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৯৫ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৩ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা। অন্য ভাতার মধ্যে ডোমেস্টিক এইড ভাতা ১ হাজার ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার, রেসিডেন্স এ্যালাউন্স (অফিসিয়াল বাসা না পেলে) ২৬ হাজার ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা, কার এ্যালাউন্স (ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করলে) ১৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা। কার এ্যালাউন্স (সরকারী বা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করলে) ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা।

প্রতিমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় উপনেতা ও হুইপের বেতন-ভাতা ॥ প্রতিমন্ত্রীর বেতন ৪৭ হাজার ৮০০ থেকে বাড়িয়ে ৯২ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ হাজার টাকা, বেসরকারী বাড়িতে বসবাসের ক্ষেত্রে বাড়িভাড়া ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৭০ হাজার টাকা, বিমানযোগে ভ্রমণকালে বীমা কাভারেজ ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৮ লাখ টাকা, দৈনিক ভাতা সাড়ে ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা, স্বেচ্ছাধীন তহবিল ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। বিরোধীদলীয় উপনেতার বেতন ৪৭ হাজার ৮০০ থেকে বাড়িয়ে ৯২ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ হাজার টাকা, বেসরকারী বাড়িতে বসবাসের ভাতা ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৭০ হাজার টাকা, বিমানযোগে ভ্রমণকালে বীমা কাভারেজ ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৮ লাখ, দৈনিক ভাতা সাড়ে ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা, এবং স্বেচ্ছাধীন তহবিল ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। এছাড়া হুইপের বেতন ৪৭ হাজার ৮০০ থেকে বাড়িয়ে ৯২ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ হাজার টাকা, বেসরকারী বাড়িতে বসবাসের ভাতা ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৭০ হাজার টাকা, বিমানযোগে ভ্রমণকালে বীমা কাভারেজ ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৮ লাখ, দৈনিক ভাতা সাড়ে ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা এবং স্বেচ্ছাধীন তহবিল ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা ॥ উপমন্ত্রীদের বেতন ৪৫ হাজার ১৫০ থেকে বাড়িয়ে ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৩ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা, বেসরকারী বাড়িতে বসবাসের ভাতা ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৭০ হাজার টাকা, বিমানযোগে ভ্রমণকালে বীমা কাভারেজ ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৮ লাখ, দৈনিক ভাতা ৬০০ থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা, স্বেচ্ছাধীন তহবিল ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। সরকারী বা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করলে কার এ্যালাউন্স ভাতা ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া সংসদ সদস্যদের বেতন সাড়ে ২৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫৫ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৩ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা, বিমানযোগে ভ্রমণকালে বীমা কাভারেজ ১০ লাখ অপরিবর্তিত (দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা পঙ্গুত্ববরণের ক্ষেত্রে), দৈনিক ভাতা ৩০০ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭০০ টাকা এবং স্বেচ্ছাধীন তহবিল ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। অন্য ভাতার মধ্যে নির্বাচনী এলাকার জন্য মাসিক খরচ ভাতা সাড়ে ৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ১২ হাজার টাকা, পরিবহন ভাতা ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৭০ হাজার টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা, ক্রোকারিজ ইত্যাদি ভাতা ৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ বার্ষিক ভাতা ৭৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অষ্টম পে-স্কেল আদেশ নবেম্বরে ॥ চলতি অক্টোবর মাস শেষে বা নবেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অষ্টম বেতন কাঠামোর আদেশ জারি হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা। তিনি বলেন, অষ্টম বেতন কাঠামোর আদেশ জারির বিষয়ে অর্থবিভাগ কাজ করছে। আদেশ জারির প্রক্রিয়া শেষ করতে এক মাস বা তারও বেশি সময় লাগে। তবে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি জানান, সুপ্রীমকোর্টে বিচারক বাদে জুডিশিয়াল অফিসার্স, জেলা জজসহ অন্যান্য জজদের বিষয়েও খুব শীঘ্রই আদেশ জারি হবে, তাদের বেতনও চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তবে বেতন কাঠামোর আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত সরকারী চাকরিজীবীরা সপ্তম বেতন কাঠামো অনুযায়ীই বেতন পাবেন বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

প্রসঙ্গত, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গত ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভায় অষ্টম বেতন কাঠামো অনুমোদিত হয়। এতে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বেতন এবং আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।