২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুই বিদেশী হত্যায় ফেঁসে যেতে পারেন সাবেক এক মন্ত্রী

  • তার ওপর চলছে গোয়েন্দা নজরদারি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দুই বিদেশী হত্যায় ফেঁসে যেতে পারেন সাবেক বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের এক মন্ত্রী। তার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল ও তার কয়েক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বিশেষ যোগাযোগ রয়েছে। সোহেলের সূত্র ধরে ওই মন্ত্রীর নাম আসার কথা জানা গেছে। ওই মন্ত্রীর বিদেশে যাতায়াতের ওপর বিধি নিষেধ আরোপ করা হতে পারে। তার ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। ইতোমধ্যেই তাভেলা হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়া ৩ জনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তারা যে কোন সময় গ্রেফতার হতে পারে। হত্যা মিশনে অংশ নেয়া ওই তিন পেশাদার শূটার যুবদলের নেতাকর্মী বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। যারা সোহেলের মদদে যে কোন ধরনের অপরাধ করতে প্রস্তুত। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাভেলা হত্যা পরিকল্পিত। এটি একটি ষড়যন্ত্র। এর মাস্টারমাইন্ড শনাক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যেই তদন্তে শনাক্ত হয়েছে তাভেলা হত্যার মূল চক্রান্তকারী ও আসল হোতা। তাদের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাছ চলছে। তাভেলা হত্যাকা-ের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক আছে কি না সেটি বলার মতো সময় এখনও হয়নি। এখন বলাও যাবে না। হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার বা আটকের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তিনি। বলেছেন, তদন্তকালে এসব বিষয়ে কিছুই বলা যাবে না। বললে, তদন্ত ব্যাহত হবে। বিষয়টি জটিল। এ ধরনের হত্যা মামলার তদন্ত করতে ৭ দিন থেকে ৭ বছরও লাগতে পারে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই বিদেশী হত্যা সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোটের এক সাবেক মন্ত্রী জড়িত থাকতে পারেন। সার্বিক দিক পর্যালোচনা ও তদন্তে তেমন বিষয়ই চলে আসছে। কয়েকটি ধাপে হত্যাকা-টি সংঘটিত হয়। প্রথম ধাপে রয়েছে ষড়যন্ত্রকারীরা। যারা বিদেশে বসে বিদেশী হত্যার ষড়যন্ত্র করে থাকতে পারে। তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়ে দেশে অবস্থিত এবং দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন এমন এক মন্ত্রীর ওপর। দলের নির্দেশটি তিনি তার সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা হাবিব উন নবী সোহেল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। এজন্য আর্থিক সহযোগিতাও আসে বিদেশ থেকে। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠে নামে শূটাররা। শূটারদের ঘিরে কয়েকটি চক্র কাজ করে। একটি চক্র বিদেশীদের ওপর নজর রাখে। আরেকটি চক্র হত্যার পর শূটারদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। যাকে ব্যাকআপ পার্টি বলা হয়। ব্যাকআপ পার্টির কাজ হত্যাকারীরা জনরোষের কবলে পড়লে তাদের রক্ষা করা। আরেকটি চক্র সড়ক বাতি নিয়ন্ত্রণ করে।

সেখানে দায়িত্বরত ৪০ বছর বয়স্ক এক নিরাপত্তা কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে বলেন, ওই এলাকার সড়ক বাতিগুলো মূল রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক তারের খুঁটির নিচে থাকা একটি বক্স থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। বাক্সের ভেতরে একটি মেইন সুইচ থাকে। সেটি অন করলেই সড়ক বাতি জ্বলে। সেই বক্সে কোন তালা নেই। যে কেউ ইচ্ছে করলেই সেই বক্স খুলে সড়ক বাতি বন্ধ ও চালু করতে পারে। সুইচ অফ অন করার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তরফ থেকে একজনকে দায়িত্ব দেয়া আছে।

নিরাপত্তাকর্মী আরও জানান, ওই ব্যক্তি সকালে সাইকেলযোগে এসে সুইচ বন্ধ করেন। আর সন্ধ্যার আগে যথারীতি তিনি সাইকেলে চেপে এসে সুইচ অন করে চলে যান। এরপর সুইচ কেউ বন্ধ করল কিনা সেটি দেখভালের জন্য মূলত কেউ থাকে না। তাভেলা হত্যার পর রাস্তার বাতি নিয়ে তাৎক্ষণিক হৈচৈ শুরু হলে সিটি কর্পোরেশনের লোকজন বাতি জ্বালিয়ে দেন।

সিজার হত্যাকা-ের জায়গাটিতে মাঝারি সাইজের তিনটি ঝোপড়া মেহগনি গাছ আছে। সেখানে একটি মাত্র সড়ক বাতি। তা জ্বালানোর পরেও সেখানে তেমন আলো হয় না। ঝাপসা অন্ধকার থাকে। সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে উজ্জ্বল আলোর ছয়টি সার্চ লাইট লাগানো হয়েছে। সার্চ লাইটের সঙ্গে চারটি শক্তিশালী সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া আশপাশের ভবন ও দেয়ালগুলোতেও প্রচুর সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, তাভেলা ষড়যন্ত্রের শিকার মাত্র। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের হতে পারে। বিদেশী হত্যার পর দায় স্বীকার করে বিবৃতিদাতারাও বিএনপি-জামায়াত ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। বিদেশী হত্যার বিষয়ে তথ্য পেতে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল ও তার কয়েক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। একটি মোটরসাইকেলে হত্যা মিশনে অংশ নেয়া তিন জন শনাক্ত হয়েছে। তাদের বিষয়ে বিমানবন্দর ও সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে ছবিসহ বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই রাজধানীর বাড্ডা এলাকার তামজিদ আহম্মদ ওরফে রুবেল, রাসেল ও জুয়েল নামে তিন যুবদলের তিন নেতাকর্মী ও শূটারকে আটকের কথা জানা গেলেও তদন্ত সংস্থার তরফ থেকে এ বিষয়ে তেমন কিছুই জানানো হয়নি।