২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার পাকির পক্ষে পাকি

ফিরোজ মান্না/বিভাষ বাড়ৈ ॥ এবার পাকির পক্ষে পাকি। যুদ্ধাপরাধী সাকাকে শেষ রক্ষার চেষ্টায় পাঁচ পাকি। তারা আদালতে সাফাই সাক্ষীর আবদার করেছে। পাঁচ পাকির আবদারের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। সাকার পক্ষে সাফাই সাক্ষীর আবেদনই প্রমাণ করে সাকা ছাক্কা পাকি। ’৭১-এর নরঘাতক সাকাকে বাঁচাতে কত চেষ্টাই চলছে দেশে-বিদেশে। চলছে নানা ষড়যন্ত্র। দেশকে অস্থির করার মতো নানা ঘটনাও ঘটানোও হচ্ছে। মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধীর পক্ষে এখন প্রকাশ্যেই নেমেছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তি। যেমনটা হয়েছিল কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে। একই কায়দায় বিদেশে নিয়োগ করা হয়েছে লবিস্ট। আইএস নামের ভয়ঙ্কর জঙ্গীর ধুয়া তোলা হচ্ছে। জারি করা হচ্ছে রেড এ্যালাট। এসব নিয়ে সোমবার সারাদিন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষের মানুষের মধ্যে ভীষণ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের শুনানিতে পাঁচ পাকিস্তানীসহ আটজনের সাফাই সাক্ষ্য নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রীমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সাকা চৌধুরীর আইনজীবী মোঃ হুজ্জাতুল ইসলাম খান এই আবেদন জমা দেন। সাফাই সাক্ষীরা হলো পাকিস্তানী রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ মিয়া সুমরো, ইসহাক খান খাকওয়ানি, সমাজকর্মী আমবর হারুন সায়গল, স্থপতি মুনিব আরজামান্দ খান, ভিকারুননিসা নূনের নাতি রিয়াজ আহমেদ নূন। বাকি তিন হলো যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কূটনীতিক ওসমান সিদ্দিক, বাংলাদেশের সুপ্রীমকোর্টের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন এবং জিনাত আরা বেগম। পাকিদের অবস্থান যে যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ওসমান সিদ্দিক, বিচারপতি শামীম ও জিনাত আরা বেগম তো এই দেশের মানুষ তাদের অবস্থান নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, সাকার পক্ষে এদের সাফাই সাক্ষী না নিয়ে বরং তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। একজন প্রমাণিত যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছে। তাকে বাঁচানোর অপচেষ্টার জন্য তাদের বিচার হওয়া উচিত। মহান মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া সাকার পক্ষে যাওয়া মানেই তারাও দেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন।

সোমবার দিনভর সাকার সাফাই সাক্ষীর আবেদন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সোচ্চার। জসিম উদ্দিন নামের একজন লিখেছেন, পাকিস্তান থেকে জল্লাদ এনে সাকার ফাঁসি কার্যকর করা হোক, সাফাই সাক্ষীর কোন দরকার নেই। আব্দুল হক লিখেছেন, এটা ট্রায়াল কোর্ট না যে সাফাই সাক্ষী দেয়া যাবে। এটা এ্যাপেক্স কোর্ট। সাকা তামাসা শুরু করেছে। মীর মোঃ মোজ্জাম্মেল হোসেন লিখেছেন, একদিন সকালে সকলে চিৎকার করে বলবে ‘গুড মর্নিং বাংলাদেশ’। সজল লিখেছেন, সাফাই সাক্ষীর আবেদন করে লাভ নেইÑ ফাঁসির জন্য তৈরি হও সাকা ভাই। ভাইয়ের জন্য ভাইদের শেষ চেষ্টা সফল হবে না। তানভীর নামের একজন লিখেছেন, পাকি যারা আসবে তাদেরও বিচার করা হোক। এম হোসেন লিখেছেন, লাভ নেই সালাউদ্দিন আর মাত্র কয়টা দিন। শরীফ নামের একজন লিখেছেন, সাকার সাক্ষী তো পাকিরাই দেবে। যার পক্ষে পাকিরা সাক্ষী দিতে চায় তাকে ঝুলানোর জন্য আর সময়ক্ষেপণ করার দরকার আছে কি? বিপ্লব নামের একজন লিখেছেন, পাকিদের সাহস দেখে অবাক হই যে, ’৭১ সালে এই দেশটাকে ধ্বংস করেছে। এ দেশের নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে- এখন আবার আসছে তাদের দোসরকে রক্ষা করতে। পাকিদের সাফাই সাক্ষী গ্রহণ করা মানেই সাকা পুরো পাকিস্তানী। এমন হাজারও মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে উঠে এসেছে।

সাকার মতো একজন ভয়ঙ্কর যুদ্ধাপরাধীর জন্য দেশে-বিদেশে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে তার অনেক প্রমাণ পশ্চিমা দুনিয়া থেকেই আসছে। পশ্চিমারা কুখ্যাত সাকা বাঁচার চেষ্টায় অস্থির হয়ে পড়েছে। কিন্তু কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী য়ে ’৭১ সালে রাউজানে কুন্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের মালিক নূতন চদ্র সিংহকে হত্যা, সুলতানপুর ও ঊনসত্তরপাড়ায় হিন্দু বসতিতে গণহত্যা এবং হাটহাজারীর এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ছেলেকে অপহরণ করে খুন করেছে তাকে তারা জানে। এমন প্রশ্নও উঠে এসেছে।

মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের বীর বাঙালী দেশ স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধ করছে পাকিদের বিরুদ্ধে সেই সময় বাঙালীদের হত্যার জন্য পরিকল্পনা সহযোগিতা এবং লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও দেশান্তরে বাধ্য করার মতো ঘটনা ঘটায় এই সাকা। সাকার হাতে মতিলাল চৌধুরী, অরুণ চৌধুরী, যোগেশ চন্দ্র দে ও পরিতোষ দাস, পাচক সুনীল হত্যা করা হয়।