২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রাম বন্দরে ফের তীব্র কন্টেনার জট ॥ সামাল দিতে নানা উদ্যোগ

  • দুর্ভোগে আমদানি ও রফতানিকারকরা

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও কন্টেনার জট সৃষ্টি হয়েছে। গত কোরবানির ঈদে ছুটির বন্ধের কারণে ডেলিভারি স্লো হওয়ায় যে জট সৃষ্টি হয় এর রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও তীব্র জট সৃষ্টি হয়েছে দেশের বৃহত্তম এ বন্দরে। যদিও এ বন্দরে কন্টেনার ধারণক্ষমতা ৩৬ হাজার টিইইউএস বলা হয়ে থাকে প্রকৃতপক্ষে ঐ পরিমাণ কন্টেনার সুষ্ঠুভাবে রাখা অসম্ভব প্রায়। এ অবস্থায় প্রায় ৩২ হাজার টিইইউএস কন্টেনারে জট লেগেছে। ফলে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে আমদানি ও রফতানিকারকদের। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, জট কমাতে তারা বিভিন্নমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চেষ্টা চলছে যাতে দ্রুত কন্টেনার জটের অবসান ঘটানো যায়। বর্তমানে এ বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড ও জেটিতে ৩২ হাজার ৩২৫ টিইইউএস কন্টেনার রয়েছে। এর মধ্যে খালি কন্টেনারের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন এবং পরিকল্পনা) মোঃ জাফর আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত কোরবানির ঈদের আগে কন্টেনার ডেলিভারি স্লো হয়ে যায়। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক দুই থেকে আড়াই হাজার কন্টেনার ডেলিভারি হয়ে থাকলেও কোরবানির ঈদে ছুটির সময়ে তা কয়েকশ’তে নেমে আসে। এর ফলে কন্টেনার জট যে বৃদ্ধি পায় তার পরিপূর্ণ অবসান ঘটেনি। এ অবস্থায় আমদানি পণ্যবোঝাই কন্টেনারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ জট আরও বেড়ে গেছে। বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষ দৈনিক গড়ে ছয় হাজারেরও বেশি কন্টেনার হ্যান্ডলিং করছে। এর মধ্যে আমদানির কন্টেনার পরিমাণের সংখ্যা ৩ সহস্র্রাধিক।

এদিকে, বন্দরের এনসিটির দুটি বার্থে কন্টেনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এতে সফলতা আসছে। বন্দর কর্তৃপক্ষীয় সূত্র জানায়, ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজারেরও বেশি কন্টেনার হ্যান্ডলিং করছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী তিন হাজারের বেশি আমদানি কন্টেনার নামানো হচ্ছে। অপরদিকে সমসংখ্যক কন্টেনার রফতানির জন্য জাহাজে ওঠানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দেশের সমুদ্র বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। খোলা পণ্যের চেয়ে কন্টেনার বোঝাই পণ্যই বেশি আমদানি হয়ে আসছে। এফসিএল ও এলসিএল কন্টেনারের মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের পণ্য আমদানি হয়ে আসছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরে যে প্রায় ৫ হাজার খালি কন্টেনার রয়েছে এগুলোও সংরক্ষণ করতে গিয়ে পণ্যবোঝাই কন্টেনার রাখার ক্ষেত্রে জট সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, এই জট একদিনে সমাধান সম্ভব নয়। আমদানিকারকরা যত দ্রুত তাদের পণ্য খালাস করে নেবে ততই জট কমবে। অপরদিকে, আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে জটও বৃদ্ধি পাবে। বন্দরে কন্টেনার হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা নেই। কন্টেনারের সংখ্যা বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি আমদানি ও রফতানির উপর নির্ভরশীল। এদিকে, শিপিং লাইন সূত্রসমূহ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরভিত্তিক জাহাজে আগমনও ইতোপূর্বেকার তুলনায় বাড়ছে। নতুন করে এনসিটি চালু হওয়ায় পূর্বের তুলনায় কন্টেনার জট বাড়ার সম্ভাবনা কম। এ বন্দরে ৩৬ হাজার টিইইউএস কন্টেনারের জট লাগার রেকর্ডও রয়েছে। সে তুলনায় বর্তমানে তা ৩২ হাজার ৩২৫ টিইইউএস কন্টেনার রয়েছে। যা ধারণ ক্ষমতাকে ছুঁই ছুঁই করছে।