২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লন্ডনে গিয়ে খালেদা তারেকের সাক্ষাত পাচ্ছেন না নেতারা

  • নেতাকর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ বিএনপির পরবর্তী জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে দলের বেশ কয়েকজন নেতা লন্ডনে গিয়ে চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাক্ষাত পাচ্ছেন না। তবে তারা লন্ডনে ২ শীর্ষ নেতার ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেখানে সময় নষ্ট না করে দেশে ফিরে দলের জন্য কাজ করতে বলা হয়। এদিকে কী কারণে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাক্ষাত দেয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানামুখী গুঞ্জন চলছে।

সূত্র জানায়, ১৫ সেপ্টেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া লন্ডনে যাওয়ার পর থেকেই একে একে বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা লন্ডন যান তার সঙ্গে দেখা করতে। খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গেও দেখা করতে পারবেন- এ আশা নিয়েই তারা সেখানে যান। কিন্তু সাক্ষাতের সুযোগ না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে একে একে দেশে ফিরে আসছেন। তবে যে নেতাদের প্রয়োজন মনে করছেন তাদের ডেকে নিয়ে কথা বলছেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান।

উল্লেখ্য, ১৫ সেপ্টেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে লন্ডন যান তার দুই উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আবদুল আওয়াল মিন্টু। এ সময় মিন্টুর ছেলে তাবিথ আওয়ালও সঙ্গে যান। দলের প্রয়োজনেই তাদের সঙ্গে নিয়ে যান খালেদা জিয়া। তারা তারেক রহমানের বাসায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন। আবদুল আওয়াল মিন্টু গত সপ্তাহে দেশে ফিরলেও তাবিথ আওয়াল এখনও রয়ে গেছেন।

সূত্রমতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে লন্ডনে গিয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বেশ কয়েক দিন লন্ডনে অবস্থান করে অনেক চেষ্টার পরও খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। দলের যুগ্মমহাসচিব ও বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকনও বেশ কয়েক দিন লন্ডনে অবস্থান করে অনেক চেষ্টার পরও খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তাকে দেশে গিয়ে কাজ করতে এবং সেখানেই চেয়ারপার্সনের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও লন্ডনে গিয়ে অনেক চেষ্টা করে দুই শীর্ষ নেতারা সাক্ষাত পাননি।

জানা যায়, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম লন্ডন গেছেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে। কিন্তু তাকেও লন্ডনে সময় নষ্ট না করে দেশে ফিরে কাজ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা লন্ডনে গিয়ে তাদের শীর্ষ নেতার সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারেননি বলে জানা গেছে।

লন্ডনে ছেলের বাসভবনে ওঠার পর থেকেই খালেদা জিয়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভালভাবেই সময় কাটাচ্ছেন বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে। সেখানে তার চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয় দেখাশোনা করছেন ছেলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডাঃ জোবাইদা রহমান। তার একচোখে অপারেশন সম্পন্ন হলেও আরেক চোখের অপারেশন বাকি রয়েছে। সেটিও করাতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। চোখের পর তার পায়ের চিকিৎসা করানোর কথাও শোনা যাচ্ছে। মায়ের চিকিৎসা ও সাংগঠনিকসহ যাবতীয় কাজে তারেক রহমানকে সহযোগিতা করছেন তার লন্ডনপ্রবাসী উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, ব্যারিস্টার আবু সায়েম, ব্যারিস্টার সালাম, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ।

চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হলে ২ নবেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দেশে ফিরতে পারেন বলে জানা গেছে। এ জন্য এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের টিকিটও বুকিং দেয়া হয়েছে। দেশে ফেরার আগে যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজনে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে খালেদা জিয়ার। এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন তারেক রহমান। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানেরও সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এদিকে খালেদা জিয়া দেশে ফেরার অপেক্ষায় বিএনপির অনেক দাফতরিক কাজ আটকে রয়েছে বলে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি নিজে এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের বাইরে অবস্থান করায় দলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

নির্বাচিত সংবাদ