১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পরিসংখ্যান শক্ত ভিতে দাঁড়িয়েছে, আইনেই ক্ষমতা পেয়েছে ব্যুরো

  • তথ্যের মান, সত্যতা বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন নেই

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ দশ বছর আগেও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মানেই জন্ম দিত এক ধরনের সন্দেহ। অর্থাৎ এই তথ্যের মান, বিশ্বাসযোগ্যতা, সত্যতা ও নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত। এমনকি সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী-আমলারাও নানা ধরনের কটূক্তি করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না। কিন্তু এখন সেসব অতীত। বর্তমানে পাল্টে গেছে চিত্রপট। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। যে কোন নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণে সঠিক পরিসংখ্যানের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষিতে শক্তিশালী করা হয়েছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস)। তথ্যের আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেছে নিরলস মানুষের তথ্যের ক্ষুধা মেটাচ্ছে সংস্থাটি। সেই সঙ্গে জরিপের ক্ষেত্রেও এসেছে বৈচিত্র্য।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস ২০১৫। উন্নত পরিসংখ্যান, উন্নত জীবন এ সেøাগানকে সামনে রেখে বিশ্বের ১৩০টি দেশের মতো বাংলাদেশের দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতি এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে যৌথভাবে আয়োজিত কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সকালে র‌্যালি, পরিসংখ্যান সংক্রান্ত প্রকাশনা প্রদর্শনী, বিকেলে জাতীয় সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এ বিষয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের তথ্যের মান অনেক উন্নত হয়েছে। কিন্তু তার পরও আরও মান ভাল করতে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। দেশী-বিদেশী পরামর্শকদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে তথ্যের মান বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে। তাছাড়া কোন জরিপের আগে গবেষকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে প্রশ্নপত্র চূড়ান্ত করা হয়। তাছাড়া তথ্য সংগ্রহে এখন প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। তার পরও কোন কোন ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকতে পারে। সেসব ত্রুটি দূর করতে সরেজমিন পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং শক্তভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠার ৩৯ বছর পর গুণগত মান ও তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে দেশের পরিসংখ্যান বিষয়ক একমাত্র বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) বিভিন্নভাবে ক্ষমতায়িত করেছে সরকার। সেই সঙ্গে এটিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে পূর্বের দুর্নাম ঘুচিয়ে নতুন সাজে সাজাতে সহায়তা দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিশ্বব্যাংক।

সরকারের একমাত্র জাতীয় পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) শক্তিশালী করতে প্রথমবারের মতো পরিসংখ্যান আইন করা হয়েছে। এ ছাড়া তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ পুনর্প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিশ্বব্যাংকের সহায়তা তৈরি হরা হয়েছে ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব স্ট্যাটেস্টিক্স (এনএসডিএস)। এটি বাস্তবায়নের কাজও ইতোমধ্যেই অনেক দূর হয়েছে। পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা গেলে ২০২১ সালের মধ্যে পরিসংখ্যান ব্যুরোকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এমন পরিসংখ্যান তৈরি করা হবে, যার ওপর ভিত্তি করে দেশের সামগ্রিক নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা যাবে নিখুঁতভাবেই।

এ বিষয়ে পরিসংখ্যান ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক বাইতুল আমীন ভূঁইয়া বলেন, পরিসংখ্যান ভাল হলে সঠিক পরিকল্পনা করা যায়, আর সঠিক পরিকল্পনা হলে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর সক্ষমতা বেড়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব এখন প্রতিবছর দেয়া হয়, সেটি তিন মাস অন্তর দেয়ার জন্য বর্তমানে কাজ চলছে। তবে কবে নাগাদ ঘোষণা দেয়া হবে সেটি এখনও বলা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি যাতে দ্রুত দেয়া যায়।

সূত্র জানায়, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ইতিবাচক মনোভাবের ফলে পেশাগত দক্ষতা, নিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে নীতিনির্ধারক, গবেষক, মিডিয়া এবং জনগণকে অবহিত রাখছে বিবিএস। পরিসংখ্যানের মান উন্নয়নে বর্তমানে সরকারী সদিচ্ছার প্রতিফল ঘটছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর সকল জেলায় অফিস হয়েছে। এখন উপজেলা পর্যায়ে ক্যাডার পোস্ট সৃষ্টি করা হচ্ছে। পরিসংখ্যানের মান উন্নয়নে সকল পর্যায়ে স্থায়ী কমিটি করা হয়েছে। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘ মেয়াদী রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে জাতীয় পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। যা ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে।

তাছাড়া ইতোমধ্যেই পাস হওয়া পরিসংখ্যান আইনের ফলে হয়ে কোন ব্যক্তি, সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে তথ্য আদায়ের ক্ষমতা পেয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে এ ক্ষমতা অর্জন করে সংস্থাটি। তবে প্রাপ্ত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে বিবিএসের ওপর। তাই আইনটির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আইনে ব্যক্তি, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের তথ্য প্রদানের দায়বদ্ধতা ইত্যাদি অংশে বলা হয়েছে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ব্যুরোর চাহিদা অনুযায়ী যে কোন ব্যক্তি, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ এদের নিকট সংরক্ষিত তথ্য ইত্যাদি ব্যুরোকে দিতে বাধ্য থাকবে। ব্যুরোর কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপ-ধারা (এক) এর অধীন প্রাপ্ত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করবে। তবে শর্ত থাকে যে সংগৃহীত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের সম্মতিসাপেক্ষে প্রকাশ করা যাবে।

অন্যদিকে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো গঠনের পর ১৯৭৫ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরোকে প্রশাসনিক সহায়তা ও পরিসংখ্যান কার্যক্রমকে দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় তৈরি করা হয় পরিসংখ্যান বিভাগ।