২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফি দিয়েও চুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না বহু শিক্ষার্থী

হাসান নাসির, চট্টগ্রাম অফিস ॥ নির্ধারিত ফি দিয়ে আবেদন করেও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে না হাজার হাজার শিক্ষার্থী। চুয়েট কর্তৃপক্ষ ভর্তি পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচনা করে যে তালিকা প্রস্তুত করেছে তাতে বাদ পড়েছে বেশিরভাগ আবেদনকারী। এতে করে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বিষয়টিকে তারা গুরুতর অনৈতিকতা হিসেবে দেখছেন।

চুয়েটে ২০১৫-১৬ সেশনে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তির জন্য বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর যোগ্যতা চাওয়া হয় মাধ্যমিক পর্যায়ে জিপিএ-৪। এ নিয়ে তেমন প্রশ্ন নেই। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে চাওয়া যোগ্যতার ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষার অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণ নিয়ে। কেননা, এতে করে ছিটকে পড়েছে আবেদনকারীদের বড় অংশ। ফলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের হতাশার পাশাপাশি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেক অভিভাবক।

চুয়েটে স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও ইংরেজী বিভাগের প্রত্যেকটিতে কমপক্ষে ‘বি গ্রেড’ অর্থাৎ গ্রেড পয়েন্ট ৩ চাওয়া হয়। এর মধ্যে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও ইংরেজীতে মোট গ্রেড পয়েন্ট ১৭ পেতে হবে বলে উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে। মাধ্যমিকে জিপিএ ৩ পেয়েও আবেদনের যোগ্যতা থাকায় বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। সে হিসেবে এই খাতে চুয়েটের আয়ও হয়েছে প্রচুর।

চুয়েট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, আবেদনকারীদের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়েছে ৬ হাজার ২৫ জন। মূলত গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও ইংরেজীÑ এই ৪ বিষয়ে মোট গ্রেড পয়েন্ট ২০ পাওয়া শিক্ষার্থীদেরই ভর্তি পরীক্ষার জন্য ডাকা হচ্ছে। অথচ চাওয়া হয়েছিল ওই চার বিষয়ে মোট ১৭ পয়েন্ট। তাদের কথাÑ কেবল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য বিবেচিতদের কাছ থেকেই প্রবেশপত্র প্রদানের সময় ফি আদায় করা যেত।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অনেকেই পত্রিকা অফিসে ফোন করে তাদের ক্ষোভের কথা ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, যদি মাত্র ৬ হাজার ২৫ জনকেই ভর্তি পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে তাহলে এভাবে গণহারে আবেদন করার সুযোগ দিয়ে এত আবেদনপত্র গ্রহণ করা হলো কেন?

চুয়েটের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিগত প্রায় ৬ বছর ধরেই এ নিয়মে ভর্তির আবেদন আহ্বান করে আসছি। তিনি জানান, গ্রেড পয়েন্টের ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়। আবেদনপত্র অনেক পড়লেও এ্যাকমোডেশনের বেশি আমরা ভর্তি পরীক্ষায় বসাতে পারি না। ফলে ভাল ফলাফলধারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে উপরের পর্যায়ে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে ফি আদায় নৈতিক হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে অবগত রয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, কিছু সমস্যা দেখা দেয়ায় ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাহার করে পুনরায় আবেদনপত্রগুলো ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত আগামী ৩১ অক্টোবরেই স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই তারিখ পরিবর্তন হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।