২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দারিদ্র্যে হার কমলেও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা একই

  • মতবিনিময় সভায় তথ্য

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দারিদ্র্যের হার কমলেও গত ছয় বছর ধরে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা একই রকম। সরকারী হিসেবে দেশে এখনও ৩ কোটি ৮৫ লাখ মানুষ দরিদ্র। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ অতি দরিদ্র, যা মোট জনসংখ্যার ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এই বিশাল জনগোষ্ঠী এখনও দুই বেলা প্রয়োজনীয় খাবার পায় না। এমন প্রেক্ষাপটে আজ (মঙ্গলবার) সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বর্তমান বিধানসহ গৃহীত হলে যথাযথ ভূমিকা পালন করবে কি না তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন খাদ্য অধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, বিশ্ব নেতারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) গ্রহণের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর সব মানুষের খাদ্য অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। অর্থাৎ রাষ্ট্র হিসেবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে মোকাবেলার দায়বদ্ধতা সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিকভাবেই বাংলাদেশের রয়েছে। সে প্রেক্ষিতে সব মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ‘খাদ্য অধিকার আইন’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা জরুরী।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা : খাদ্য অধিকার প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তারা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এমএম আকাশ বলেন, অভিগম্যতা, প্রাপ্যতা, যথাযথ ব্যবহার এবং স্থায়িত্ব- খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই চারটি বিষয় বিবেচ্য। তবে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে খাদ্যের পর্যাপ্ততা ও ব্যবহারের ওপরে। আর্থিক সচ্ছলতা বিবেচনায় এতে গরিবদের স্বার্থ সুরক্ষার সুযোগ কম। তাদের জন্য খাদ্যে অভিগম্যতা ও খাদ্যের ক্ষেত্রে স্থায়িত্বশীলতা বেশি প্রয়োজন। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বাজার ব্যবস্থার মধ্যে থেকেও সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দরিদ্র মানুষের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভারত ইতিমধ্যে একটি আইন করেছে। বাংলাদেশেও এমন একটি আইন করা যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, বাংলাদেশে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কিছু দিকনির্দেশনা থাকলেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে বাৎসরিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (এডিপি)। আয় দারিদ্র্যের মানদ-ে এমডিজির বেশকিছু অর্জন আমাদের রয়েছে। তবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুতের ব্যবহার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্যানিটেশন নিশ্চিতের মতো বহুমাত্রিক মানদ-ে পরিমাপ করলে আমাদের দারিদ্র্যের হার আরও বাড়বে। কেবল পশ্চিমাদের হাততালি পেয়ে সন্তুষ্ট হলে চলবে না। খাদ্য অধিকারের ক্ষেত্রে অতি দরিদ্রদের দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। বর্ধিত জনসংখ্যা, কৃষিজমির পরিমাণ ও উৎপাদনশীলতা, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের বিষয়গুলোর ওপরও নজর দিতে হবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পুষ্টি ইস্যুটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টির ক্ষেত্রে জেন্ডার বৈষম্য এখনও অনেক প্রকট। দরিদ্র মানুষের খাদ্যে অভিগম্যতা, মজুদদারি, খাদ্য অপচয়ের ক্ষেত্রে আমাদের সচেতনতা ও নজরদারি জরুরী। ইউএনডিপির জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করে তা কার্যকর করার পর্যায়ে আমরা যথেষ্ট প্রস্তুত কি-না তাও বিবেচনা করা জরুরী। খাদ্য অধিকার একটি বহুমাত্রিক বিষয়। আমরা যে অর্থে খাদ্য গ্রহণের মাপকাঠিতে দারিদ্র্যকে বিশ্লেষণ করে থাকি তাতে সমস্যা রয়েছে। সব অধিকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব এককভাবে রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়। এক্ষেত্রে সামাজিক-সাংস্কৃতিক শক্তির ব্যবহারের দিকটির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জিআইজেডের উপদেষ্টা সুজিত চৌধুরী, খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সম্পাদক সৈয়দ মহসীন আলী, ড. নিলুফার বানু, রঞ্জন কর্মকার, মাকসুদুর রহমান প্রমুখ।